লকডাউনে সিলেটের সবজী বাজারে উত্তাপ

লকডাউনে সিলেটের সবজী বাজারে উত্তাপ
ছবিঃ সংগৃহীত

সিলেট অফিস।। ১৯ এপ্রিল, সোমবার।। চলমান সর্বাত্মক লকডাউনে সিলেটের সবজী বাজারে উত্তাপ বিরাজ করছে। সবজীর অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধিতে সিলেটবাসীর রমজানের আনন্দে কিছুটা হলেও ভাটা ফেলেছে। করোনার আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত দেশের অর্থনীতির প্রভাব সিলেটের মানুষরে মধ্যেও পড়েছে।
অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে বেগুন, শসা, করলা, ঢেড়স, ধুন্দুল, গাজর, পটল, মরিচসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় সকল সবজির দাম। বাজারের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি ও রমজানকে সামনে রেখে বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হওয়ায় সরকারকেই দায়ী করছেন ক্রেতা সাধারণ। এদিকে বিক্রেতাদের দাবি, করোনাভাইরাসের কারণে বাজারে পর্যাপ্ত পণ্যের সরবরাহের অভাব এবং রমজানের কারণে চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়া এমন অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির হয়েছে।
সোমবার সিলেটের বিভিন্ন সবজি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মান ও বাজারভেদে বেগুনের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০-৯০ টাকা। গত সপ্তাহে বেশিরভাগ বাজারে বেগুনের কেজি ৫০ টাকার মধ্যে বিক্রি হয়। অর্থাৎ, সপ্তাহের ব্যবধানে বেগুনের দাম বেড়ে দ্বিগুণ ছাড়িয়ে গেছে। শসা, ঢেঁড়স ও বরবটির কেজিও ৫০-এর উপরে। যা সপ্তাহ-দশ দিন আগেও ছিলো নি¤œ আয়ের মানুষের জন্য সহনীয় পর্যায়ে। শুধু বেগুনই নয়, দাম বাড়ার তালিকায় রয়েছে শসা, পটল, বরবটি, শিম, ঢেঁড়স, টমেটোসহ অন্যান্য সবজিগুলোও। পটলের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৫০ থেকে ৬০ টাকা। গত সপ্তাহে ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া বরবটির দাম বেড়ে ৭০ থেকে ৮০ টাকা হয়েছে। ঢেড়ঁসের কেজিও বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৫০ থেকে ৬০ টাকা। ৪০ টাকা কেজিতে নেমে আসা শিমের কেজি আবার ৬০ টাকায় উঠেছে। ৪০ থেকে ৫০ টাকা পিস বিক্রি হওয়া লাউয়ের দাম বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা। ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া ধুন্দুলের দাম বেড়ে ৬০ থেকে ৮০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।
রমজানে চাহিদা বাড়ায় দাম বেড়েছে পাকা টমেটো ও শসার। গত সপ্তাহে ২০ থেকে ২৫ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া পাকা টমেটোর দাম বেড়ে ৪০ থেকে ৫০ টাকা হয়েছে। ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া শসার দাম বেড়ে ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।
সবজির পাশাপাশি দাম বেড়েছে শাকের। বাজার থেকে এখন শাক এক আটি কিনতে ১৫ টাকা বা তার বেশি গুনতে হচ্ছে। পালং শাকের আঁটি বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ টাকা। একই দামে বিক্রি হচ্ছে লাল শাক, সবুজ শাক, পাট ও কলমি শাক। পুঁই শাকের আঁটি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা।
বিভিন্ন বাজার পরিদর্শনে জানা গেছে, বেগুন প্রতি কেজি ৭০-৮০ টাকা, শসা প্রতি কেজি ৮০ টাকা, করলা প্রতি কেজি ৭০ টাকা, ঢেড়স প্রতি কেজি ৬০-৭০ টাকা, কাঁচা মরিচ প্রতি কেজি ৮০ টাকা, ধুন্দুল প্রতি কেজি ৬০ টাকা, গাজর প্রতি কেজি ৬০ টাকা, পটল প্রতি কেজি ৬০-৬৫ টাকা এবং বরবটি প্রতি কেজি ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাজার করতে আসা ক্রেতারা জানান, ৪ দিনের ব্যবধানে প্রতিটি সবজিতেই কেজি প্রতি ২০-৩০ টাকা বেশি দাম দিতে হচ্ছে। এ সময় ক্রেতারা বাজারে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলকে দোষারোপ করেন। এসময় সরকারকে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে বাজারে পর্যাপ্ত পরিমাণে পণ্য সরবরাহের দাবি জানান তারা।