লক্ষ্মীপুরের কমলনগর অফিস থেকে টাকা উধাও,চার কর্মচারীসহ থানায় হাজির পিআইও

লক্ষ্মীপুরের কমলনগর অফিস থেকে টাকা উধাও,চার কর্মচারীসহ থানায় হাজির পিআইও
ছবি: সংগৃহীত
এস এম আওলাদ হোসেন, সিনিয়র রিপোর্টার।। লক্ষ্মীপুরে কমলনগর উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রিয়াদ হোসেন (পিআইও) এর নিজ কার্যালয়ের অফিস কক্ষের আলমারীতে কালেকশনের কয়েক লাখ উধাও হয়। তবে টাকার পরিমান কত,সেটা এখনো নিশ্চিত নয় বলে জানিয়েছেন পুলিশ। সোমবার রাত ৯টার দিকে পিআইও রিয়াদ হোসেন,তার অফিসের কর্মচারী মেহেদী হাসান ও আবদুল বাকেরসহ চারজনকে নিয়ে কমলনগর থানায় হাজির হন।
এ সময় তিনি জানান, তার অফিসের আলমারীতে রক্ষিত কালেকশনের কয়েক লাখ টাকা ছিল। তবে টাকার পরিমান কত সেটা সঠিকভাবে বলতে পারেননি তিনি। এক বার বলেন ৭ লাখ, আবার বলেন ১০লাখ টাকা। সবাইকে মুখোমুখি ও পৃথক পৃথক ভাবে থানার ওসি মোসলেহ উদ্দিন রাত দেড়টা পর্যন্ত ৫জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। জিজ্ঞাসাবাদে তারা ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দেয়। তাদের দেয়া তথ্য মিলানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে থানার ওসি মোসহেল উদ্দিন। তিনি জানান, পিআইওর দাবী, উধাও হওয়া কয়েক লাখ টাকা বিভিন্ন লাইন্স ও কালেকশনের বলে জানিয়েছেন তিনি। এখনো প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. রিয়াদ হোসেন কোন অভিযোগ দেন নি। অভিযোগ দিলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
রিয়াদ হোসেন রামগতি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও)। অতিরিক্ত দায়িত্বে রয়েছেন কমলনগর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হিসেবে। আবদুল বাকের ছিলেন অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর।
এ দিকে অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন প্রকল্পের জুন ক্লোজিং এর প্রকল্প সভাপতি ও স্থানীয় চেয়ারম্যান এবং ইউপি সদস্যেদের কাছ থেকে পাসেন্টের টাকা আদায় করা হচ্ছে। এক সময়ে এ পাসেন্টের টাকা আদায় করতো পিআইওর রিয়াদ হোসেনের আস্থাভাজন অফিস সহকারী আবদুল বাকেরকে দিয়ে। পরে বাকেরের সাথে পিআইওর মনোমালিন্য হয়। এরপর বাকেরকে বাধ দিয়ে মেহেদী হাসানকে দিয়ে এইসব টাকা আদায় করতেন পিআইও। মূলত এর জের ধরে এ টাকা উধাও হয়। সত্যিকার অর্থে টাকার পরিমান আরো বেশি হবে বলে গুঞ্জন রয়েছে ।
এ ছাড়া নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ৫জন ঠিকাদার অভিযোগ করে বলেন,পিআইও’র কার্যালয়ে নগদ টাকা থাকার কথা নয়। তিনি ঠিকাদারদের টাকা চেকের মাধ্যমে দেবেন। টেন্ডারের পে-অর্ডারও চেকের মাধ্যমে। তাহলে তার কার্যালয়ে লাখ লাখ টাকা কোথায় থেকে আসল। আর টাকাগুলোও কিসের। যার জন্য এখনো তিনি পরিস্কারভাবে কোনো অভিযোগ করতে পারছেন না। উল্টো ৪ জন কর্মচারীকে থানায় নিয়ে হেনস্তা করা হচ্ছে।
পিআইও রিয়াদ হোসেন প্রত্যেকটি কাজেই ঘুষ নেয়। ঘুষ ছাড়া তিনি কোন ফাইল বা বিলের চেকে সই করেন না। গত কয়েক আগে কয়েকটি কাজের বিলের চেকে সই করার জন্য তাদের কাছ থেকে তিনি ৫০ হাজার থেকে ৫ লাখ টাকা করে ঘুষ নিয়েছেন। তার মূলত কর্মস্থল রামগতি উপজেলা। সে কমলনগর উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বে রয়েছেন। দুই উপজেলার ঠিকাদার,স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা সবাই তার কাছে জিম্মি। সে টাকা ছাড়া কিছুই বুজেনা।
অফিস সহকারী আবদুল বাকেরের স্ত্রী শারমিন আক্তার সাংবাদিকদের জানান, সোমবার বিকেলে পিআইও রিয়াদ হোসেন নিজেই তাদের বাসায় গিয়ে টাকা খোঁজার নামে তল্লাশি চালায়। এসময় পিআইও বাসার আসবাবপত্র ও ভাঙচুর করা হয়। এসব বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানান তিনি।
এ দিকে বিষয়টি জানতে পিআইও রিয়াদ হোসেনকে মঙ্গলবার সকালে সরকারী ও তার ব্যাক্তিগত মোবাইল ফোনে ১০ বার ফোন দেয়া হয়। কিন্তু ফোন বাজলেও তিনি রিসিভ করেননি।
কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ কামরুজ্জামান এ প্রতিবেদককে জানান, পিআইওর অফিসের আলমারী থেকে টাকা উধাও এর বিষয়টি শুনেছেন। চারজনকে থানা ডাকা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। বিষয়টি কি? সেটা জানার চেষ্টা করছি। আসলে কিসের টাকা বা কত টাকা সেটাও জানিনা।