লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে চুরি ঠেকাতে রাত জেগে গ্রামবাসীর পাহারা

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে চুরি ঠেকাতে রাত জেগে গ্রামবাসীর পাহারা
ছবিঃ সংগৃহীত
এস এম আওলাদ হোসেন, সিনিয়র রিপোর্টার।।চুরি ঠেকাতে গ্রামবাসী রাত জেগে পাহারা দেওয়া শুরু করেছেন। গত বুধবার (৬ অক্টোবর) রাত থেকে গ্রামপুলিশ ও এলাকার যুবকরা ভাগ হয়ে পাহারা কার্যক্রম শুরু করেছেন। গত বেশ কিছুদিন ধরে মানুষের বাড়িতে চুরি হওয়াকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছিলো গ্রামবাসীর মাঝে। এর পরেই প্যানেল চেয়ারম্যান ও ইউপি  সদস্যদের উদ্যোগে উক্ত কার্যক্রম চালু করে। চুরি হওয়ার ঘটনায় হয়রানির ভয়ে কয়েকটি পরিবার মামলা করছেনা থানায়। অভিযোগ দেওয়ার পরও কোনো চোর আটক কিংবা মালামাল উদ্ধার হয়নি বলে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার জানিয়েছেন। ঘটনাটি লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলা কেরোয়া ইউপিতে।
ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার জানান, কেরোয়া ইউপিতে চুরি ঠেকাতে ইউপি প্যানেল চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য ও যুবকদের সমন্বয়ে আলোচনা করে পাহারার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সেই আলোকে ইউপির নয় ওয়ার্ডে ভাগ করে প্রতি ওয়ার্ডে তিনজন সমন্বয়ক নিয়োগ করেন। এই সমন্বয়কারীরা নিজ ওয়ার্ডের পাহাড়াদের সঙ্গে পরামর্শ করে ওয়ার্ড থেকে সমন্বয় করবেন এবং তারা রাত জেগে পাহারা দেবেন বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গ্রুপভিত্তিক পাহারাদারের সঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে দেওয়া একজন গ্রাম পুলিশের সদস্য থাকবেন। এর বাইরে বিষয়টি তদারকি করবেন বিট পুলিশিংয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা এসআই জাহাঙ্গির। প্রতিদিন রাত ১০টার পর থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত ইউপি পাহারা দেবেন গ্রামপুলিশ ও দায়িত্বপ্রাপ্ত যুবকরা।
এ বিষয়ে কেরোয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারন সম্পাদক কাজি সামশুল ইসলাম জানান,  ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়, ইউনিয়ন ভূমি অফিস, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র, সরকারি ব্যাংক ও বেসরকারি কয়েকটি ব্যাংকের এজেন্ট, কয়েকটি উচ্চ বিদ্যালয়, লামছরি ফাজিল মাদরাসা, সপ্রাবি, কয়েকটি স-মিলসহ ছোট-বড় ২ শতাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। সম্প্রতি বাজার ও ইউনিয়নে চুরি বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তার জন্য নিজেরাই পাহারার উদ্যোগ নেন। সেই আলোকে ব্যবসায়ী ও সচেতন যুবকদের সহযোগিতায় ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ১জন পাহারাদার স্থায়ীভাবে দেওয়া হয়েছে।
এবিষয়ে যোগাযোগ করলে রায়পুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুল জলিল ফোন রিসিভ করেননি। ওসি (তদন্ত) কার্তিক চন্দ্র বিশ্বাসও কোন বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
উল্লেখ্য-সম্প্রতি কেরোয়া ইউনিয়ন পাহারাদার থাকা সত্ত্বেও ৬নং ওয়ার্ডের আব্দুল করিম তপদার বাড়ির সাইমুন কম্পিউটার মালিক সোহেল রানার বসত ঘরে চুরি হয় । এসময় চোরের দল নগদ প্রায় ৫ লাখ টাকাসহ স্বর্ণালংকার  নিয়ে যায় । এর আগে একই বাসায় থেকে কয়েক বছর আগে একটি বাইক চুরি হয়। কেরোয়া ইউপির তপাদার বাজারের পরে স্কুল শিক্ষক মোবারক হোসাইন রোমানের বসতঘর ঢুকে ৩ ভরি স্বর্নের চেইন, ১টি কানের দুল, নগদ ১৫ হাজার টাকা ও মোবাইল নিয়ে যায়। মঙ্গলবার রাতে পৌরসভার দক্ষিন কেরোয়া সামছুল হক পণ্ডিত বাড়ির নুরুল আমিনের ঘর ও আলমের ঘরে চুরির চেষ্টা চালানো হয়। ঘটনাগুলো থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে। কয়েকদিন আগেও শহরের একটি স্বর্ণের দোকানেও চুরি হয়েছে।