লক্ষ্মীপুরে সাংবাদিক নজরুল ইসলাম জয়, অসহায় সুবিধা বঞ্চিতদের কাছে মানবিক মানুষ

লক্ষ্মীপুরে সাংবাদিক নজরুল ইসলাম জয়, অসহায় সুবিধা বঞ্চিতদের কাছে মানবিক মানুষ
ছবিঃ সংগৃহীত
এস এম আওলাদ হোসেন, সিনিয়র রিপোর্টার।।করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে দেশব্যাপী চলছে দফায় দফায় লকডাউন। আক্রান্ত হয়ে প্রতিনিয়তই মরছে মানুষ, চলমান লকডাউনে কর্মহীন হয়ে পড়েছে অধিকাংশ মানুষ। অর্ধহারে-অনাহারে মানবেতর জীবন যাপন করছেন অনেক দুস্থ পরিবার। সংকটাপন্ন পরিস্থিতিতে অসহায়দের প্রতি মানবতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন লক্ষ্মীপুরের একজন মানবিক সাংবাদিক নজরুল ইসলাম জয়। ব্যক্তিগত অর্থায়নে গত কয়েক মাস ধরে নিরবে কর্মহীন অসহায়দের খাবার সামগ্রীসহ করোনা প্রতিরোধক মূলক বিভিন্ন সামগ্রী বিতরণ করে আসছেন। এসব উপহার সমাগ্রী হাতে পেয়ে খুশি সুবিধা বঞ্চিতরা। বঞ্চিত অসহায়দের জয়' এক মানবিক মানুষ।
সর্বশেষ গত (১০জুলাই থেকে ১২ জুলাই) তিন দিনব্যাপী জেলা শহরের উত্তর তেমুহনী প্রেসক্লাবের সামনে ও ঝুমুর এলাকায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে শতাধিক দিনমজুর রিকসা ও ভ্যান চালক মানুষের মাঝে বর্ষার রেইনকোট, হ্যান্ড স্যানিটাইজার এবং মাক্স বিতরণ করেন তিনি। এসময় উপস্থিতি ছিলেন, লক্ষ্মীপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ হোসাইন আহমদ হেলাল, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ কাউছার প্রমুখ। 

সাংবাদিক নজরুল ইসলাম জয় লক্ষ্মীপুরের জনপ্রিয় অনলাইন নিউজপোর্টাল ‘শীর্ষ সংবাদ’র সম্পাদক। লক্ষ্মীপুর জেলা রিপোটার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক।এছাড়াও তিনি লক্ষ্মীপুর প্রেস ক্লাবের সাবেক কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য।
জানা যায়, করোনা ভাইরাস রোধে দফায় দফায় লকডাউন দেয়ায় কর্মহীন মানুষগুলো ঘরবন্ধী হয়ে পড়ে। অসহায় মানুষদের সরকারের পক্ষ থেকে ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হয়। এসব ক্ষেত্রে অনেক অসহায়ই বঞ্চিত হয়ে পড়ে। সে সব সুবিধা বঞ্চিত দুস্থদের খুঁজে খুঁজে গত কয়েক মাস ধরে ব্যক্তিগত উদ্যোগে নগদ অর্থসহ বিভিন্ন সহায়তা প্রদান করে আসছেন সাংবাদিক জয়। 
এর মধ্যে ঈদ উপলক্ষে ঘরবন্দি সুবিধা বঞ্চিত ৫০০ শতাধিক অসহায় পরিবারকে নগদ টাকা, নতুন শাড়ী, লুঙ্গি, পরিবারের ছেলে-মেয়ে ও শিশুদের জন্য নতুন জামা-কাপড় দেওয়া হয়। একইসাথে এসব পরিবারকে বস্তাবর্তি খাদ্যসামগ্রী বাড়ি বাড়ি গিয়ে পৌছে দেন তিনি। খাদ্যসামগ্রীর প্রতিটি বস্তায় চাল ৫ কেজি, চিনি ১ কেজি, নুডলস বড় ১ প্যাকেট, পোলাও চাল ১ কেজি, পাউডার দুধ আধা কেজি, বনফুল সেমাই ৫ প্যাকেট, বাদাম ও কিসমিস দেওয়া হয়। এছাড়াও লকডাউনে কর্মহীন হয়ে পড়া ৫০টি পরিবারকে আরো ৫০ প্যাকেট খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেন তিনি। এদিকে ২০ জন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী কোরআনে হাফেজ ও তাদের পরিচালনাকারী ৫ জন খাদেমকে (সেলাই করা পায়জামা-পাঞ্জাবি) নতুন পোশাক পৌঁছে দেন তিনি। 
অপরদিকে করোনা পরিস্থিতিতে চলাচলে নিষেধাজ্ঞাসহ সকল প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় পত্রিকা বেচা বিক্রিও বন্ধ হয়ে পড়ে। এতে কর্ম হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছিলো পত্রিকা হকার সম্প্রদায়। তাদেরকেও বিভিন্ন পরিমানে নগদ অর্থ সহায়তা দেন মানবিক সাংবাদিক নজরুল ইসলাম জয়। 
জানতে চাইলে সাংবাদিক নজরুল ইসলাম জয় বলেন, করোনা ও লকডাউনে ভয়ে দরিদ্র মানুষগুলো কাজে নামছে না। কাজে না নামলে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে। পেট তো আর লকডাউন বুঝে না। তাই তাদের জন্য আমার ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে ক্ষুদ্র প্রয়াস। অতিপ্রয়োজনীয় নগণ্য  এ উপহার হাতে পেয়ে তাদের প্রত্যেকের মুখে হাসি ফুটে উঠেছে। সরকারের পাশাপাশি সামর্থবানরা এগিয়ে এসে মানবতার পরিচয় দেয়া আহ্বান জানান তিনি।