শুক্রাবাদে ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা বিউটিশিয়ানকে ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেফতার ২

শুক্রাবাদে ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা বিউটিশিয়ানকে ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেফতার ২
ছবি: সংগৃহীত

ডেস্ক রিপোর্ট।। রাজধানীর শেরে নগর থানায় শুক্রাবাদ এলাকায় অনলাইনে ফেসিয়াল সেবা নেওয়ার কথা বলে বিউটিশিয়ান কে বাসায় ডেকে ধর্ষণের ঘটনায় দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। 

গতকাল বুধবার ১২ অক্টোবর রাতে তাদেরকে রাজধানীর ধানমন্ডিসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার  করা হয়। 

বৃহস্পতিবার ১৩ অক্টোবর বিকেলে রাজধানী শ্যামলীতে তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার এইচএম আজিমুল হক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, মো.রিয়াদ (২৪) ও ইয়াছিন হোসেন ওরফে সিয়াম (২৩)।

ডিসি আজিমুল বলেন, ধর্ষণের শিকার বিউটিশিয়ান নারী হাজারীবাগ এলাকায় বসবাস করেন। সেখান  তিনি একটি অনলাইন পেজের মাধ্যমে বিভিন্ন জায়গায় নারীদের বাসায় গিয়ে ফেসিয়ালসহ বিউটি পার্লারের সেবা দিতেন।

অনলাইন পেজের সেই নাম্বারের সূত্র ধরে গত ১১ অক্টোবর মেয়ে কন্ঠের মাধ্যমে সেই পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা নারীকে ফোন দেয়া হয়। এসময় জানানো হয় শুক্রাবাদ এলাকায় ফেসিয়াল সেবা দিতে হবে। পরবর্তীতে সেই তথ্যের ভিত্তিতে সাভার থেকে সে বিউটিশিয়ান নারী শুক্রাবাদ এর উদ্দেশ্যে রওনা হন।  রাস্তায় আসতে আসতে এ সময় একটি ছেলে কন্ঠে (রিয়াদ) তার অবস্থান সম্পর্কে ফোনে বারবার জানতে চাচ্ছিল। পরবর্তীতে সন্ধ্যার পর সেই নারীকে রিয়াদ শুক্রাবাদ থেকে শুক্রাবাদের ভাড়া বাসায় নিয়ে যায়। এ সময় খালি বাসায় রিয়াদ তার বন্ধু সিয়াম ও তার আরেক বন্ধু জিতু মিলে সেই পাঁচ মাসের অন্তঃসত্তা নারীকে ধর্ষণ করে। ধর্ষণ করার পর সেই নারীকে রাস্তায় একটি সিএনজিতে তুলে দেয় তারা। 

গ্রেফতারকৃতরা  ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে উল্লেখ করে ডিসি তেজগাঁও বলেন, ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত তিনজনই একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী। তারা বখে যাওয়া। নিজেদের ফ্যান্টাসির কারণেই এ ধরনের ধর্ষণের ঘটনা ঘটিয়েছে। গ্রেপ্তার রিয়াদ ও সিয়াম সরাসরি ধর্ষণের সাথে জড়িত বলে পুলিশের কাছে শিকার করেছে। এ ধর্ষণের সাথে তাদের আরেক বন্ধু জিতু সরাসরি জড়িত।

এ সময় আজিমুল হক বলেন, ভুক্তভোগী আইনানুপ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রথমে ধানমন্ডি থানায় যায় কিন্তু ঘটনাস্থল ধানমন্ডি থানা না হওয়ায় পরবর্তীতে শেরেবাংলা নগর থানা এসে অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগের ভিত্তিতে শেরেবাংলা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। সেই মামলার তদন্ত করতে গিয়ে ধর্ষণের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং আরেকজন পলাতক রয়েছে। 

অনলাইন ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে অনেক ক্ষেত্রেই নানা ধরনের অভিযোগ পাওয়া যায়। এ ধরনের ঘটনা অনেকটাই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে ফেলে উল্লেখ করে বিভাগের পুলিশ কমিশনার বলেন, বাসা বাড়িতে যে কোন সার্ভিস দেওয়ার ক্ষেত্রে গ্রাহক এবং সেবাদানকারী ব্যক্তিদের আরও সতর্ক হতে হবে।

এদিকে গ্রেফতারকৃত সিয়াম এবং রিয়াদ জানায়, তারা এ ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত নয় তাদেরকে ফাঁসানো হয়েছে।