শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত জবি ক্যাম্পাস 

শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত জবি ক্যাম্পাস 
ছবিঃ সংগৃহীত

মাহির আমির মিলন।।জবি প্রতিবেদক।।শিক্ষার্থীদের পদচারণায় আবারো মুখরিত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। দীর্ঘ ১৯ মাস পর ক্যাম্পাসে ফিরতে পেরে আবেগে আপ্লুত শিক্ষার্থীরা। 


৭ই অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) সকাল সাড়ে আটটার দিকে এক এক করে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বাস ভর্তি শিক্ষার্থীদের নিয়ে হাজির বাসগুলো। 

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও দেশের অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মতো গত ১৯ মার্চ থেকে বন্ধ হয়ে যায় মহামারি করোনার প্রাদুর্ভাবে। সেই দীর্ঘ প্রতিক্ষা শেষ করে ৫৬৮ দিন পর সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা দিয়ে ক্যাম্পাস খুলে দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। যদিও গত ৩রা অক্টোবর ক্যান্টিন খুলে দেওয়ার পর থেকে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ক্যাম্পাসে আসতে শুরু করে সহপাঠীদের নিয়ে দলবেঁধে। 

গত আগস্টে সিন্ডিকেট সভার তারিখ অনুযায়ী ৭ অক্টোবরে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে শিক্ষার্থীরা ঢাকায় আসতে শুরু করে। বরাবরের মতো আবাসন সংকটে সমস্যা থাকার জন্য শুরু মেস, বাসা ভাড়া নিয়ে বেশ ব্যাগ পোহাতে হয় শিক্ষার্থীদের। মেয়েদের জন্য ইতিমধ্যে একমাত্র ছাত্রী আবাসন শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের অনলাইনে আবেদন শুরু হয়েছে। পরীক্ষা, বাসা ভাড়া এবং ছাত্রী হল সবকিছু মিলিয়ে শিক্ষার্থীরা ঢাকায় আসেন। 

সকাল সাড়ে ১০ টার পর পরীক্ষা দেওয়ার জন্য সকল শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে আসলে ক্যাম্পাসের প্রতিটি স্থানে শিক্ষার্থীদের আড্ডায় মিলনমেলায় পরিনত হয় জবি ক্যাম্পাস। দুপুর ১২ টায় পরীক্ষা শুরুর আগে জবি প্রশাসন ফুল নিয়ে বরণ করে নেয় শিক্ষার্থীদের। সেই সঙ্গে জবি ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মাস্ক ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করেন শিক্ষার্থীদের মাঝে। 

তাছাড়াও দীর্ঘদিন পর জবি ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের জয়বাংলা স্লোগানে ও শোডাউনে পুরো ক্যাম্পাস ফিরে পায় আগের জলুস। শিক্ষক - শিক্ষার্থীরা বেশ ফুরফুরে মেজাজে দেখা যায় টিএসসি এবং ক্যান্টিনের চায়ের আড্ডায়। 

শিক্ষার্থীরা বলেন, আমরা বদ্ধ ঘরের কোনা থেকে বের হয়ে যেন মুক্ত আজ ক্যাম্পাস আঙ্গিনায়। দীর্ঘদিন পরে আপনজনের মুখ দেখে সত্যি আজ আনন্দিত আমরা সবাই। ক্যান্টিনের ডাল, ভাত আর টিএসসির চায়ের স্বাদে যেন পুরানো তৃপ্তি খোঁজে পেয়ে খুবই ভালো লাগছে আমাদের। 

জবি প্রক্টর মোস্তফা কামাল বলেন, ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের ফিরা আসা দেখে সত্যি আমরা খুব খুশি এবং মনের প্রশান্তি ফিরে পেয়েছি। স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে আমরা খুবই সচেতন রয়েছে এবং করোনা পরিস্থিতি আরও একটু স্বাভাবিক হলে আমরা ক্লাস শুরু করে দিবো শিক্ষার্থীদের নিয়ে।