শিক্ষার্থী থেকে উদ্যােক্তা- আশিকার স্বপ্ন ও সফলতার গল্প

শিক্ষার্থী থেকে উদ্যােক্তা- আশিকার স্বপ্ন ও সফলতার গল্প
ছবি: সংগৃহীত

মো. মাজহারুল ইসলাম মলি।।গলাচিপা,পটুয়াখালী।।একটা সময় মানুষ চাকরির পেছনে ছুটতেন। তবে দিন দিন মানুষের মধ্যে উদ্যোক্তা হওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। এমনই একজন আশিকা জাহান। চাকরি নয়, ভিন্ন কিছু বা বিশেষ কিছু করতে হবে। এমন চিন্তা থেকেই পড়াশোনার পাশাপাশি উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখা শুরু তার। তৈরি করেছেন Asika's Twist নামে নিজস্ব ব্রান্ড। পেতে চান সফল উদ্যোক্তা এ্যাওয়ার্ড। 

স্বপ্নের শুরুটা ২৩ জুন ২০২১ সাল, সুযোগ পেলেই ইন্টারনেট ইউটিউব, ফেসবুক ঘাঁটাঘাঁটি করতেন। করোনা পরিস্থিতিতে বাসায় বসে অনলাইনে অনেক মানুষ কে কাজ করতে দেখতেন। এভাবেই ইচ্ছে থেকে ভাগ্নীকে জন্মদিনে উপহার দেয়ার জন্য নিজ হাতে তৈরি করলেন কাপড়ের তৈরি হেয়ার ব্যান্ড। ভাগ্নীও বেশ পছন্দ করলেন।  নিজ হাতে তৈরি প্রথম হেয়ার ব্যান্ডের কথা কাছের বান্ধবীকে বলতেই তার কাছে প্রশংসা কুড়লেন অনেক। সেই অনুপ্রেরণা ও নিজের অদম্য ইচ্ছে থেকেই কাজ করা শুরু। সেলাই মেশিন চালানোর প্রশিক্ষণ থাকায় মেশিন রিলেটেড কাজ খুঁজতেন তিনি। তাই  হাত খরচের টাকা জমিয়ে ১০০০ টাকা পুঁজি নিয়ে কাপড় কিনে বাসায় থাকা মেশিনের সাহায্যে কাপড়ের হেয়ার ব্যান্ড তৈরি শুরু করলেন। 


প্রথমদিনে পেজে পোস্ট করার ১০ থেকে ১৫ মিনিটেই পেয়ে গেলেন ৮টি রঙের হেয়ার ব্যান্ডের ৩৬০ টাকার অর্ডার। শুরুর দিকে ১৫০০ টাকা সেলের মধ্যে দিয়ে সামনে এগিয়ে চলা শুরু তার। হেয়ার ব্যান্ডে ভালো সারা পেয়ে এক প্রকার ঝুঁকি নিয়ে লাভের টাকা দিয়ে প্রডাক্ট এর আইটেম বাড়িয়েছেন তিনি। এখন শুধু হেয়ার ব্যান্ড ও কাস্টমাইজড আইটেমই নয়, যুক্ত হয়েছে মেটালের তৈরি নানা ধরনের গহনা। পণ্য বিক্রির জন্য রয়েছে  Asika's Twist নামে ফেইসবুকে নিজস্ব পেইজ। যুক্ত হচ্ছে নতুন কাস্টমার দিনে দিনে এ তালিকা বেশ লম্বা হচ্ছে। প্রতি মাসে ৩৫ থেকে ৪০ জন কাস্টমার কে পণ্য ডেলিভারি করেন আশিকা। এর থেকে মাসে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা সেল হয় বলে জানান তিনি। 

আশিকা জাহান পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা উপজেলায় ২০০১ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈতৃক ঠিকানা গলাচিপা ইউনিয়নের কালিকাপুর খলিফা বাড়ি। পিতার নাম মো. জয়নাল খলিফা এবং মাতা হোসনেয়ারা বেগম। এক ভাই ও দুই বোনের মধ্যে সবার ছোট আশিকা। ছোট বেলা থেকে  স্বপ্ন দেখতেন নিজে কিছু করার। ২০১৭ সালে গলাচিপা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে মানবিক শাখায় এসএসসি ও ২০১৯ সালে গলাচিপা সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। বর্তমানে তিনি ডিগ্রি পাস (বিএ) দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। পড়াশোনার পাশাপাশি যুক্ত রয়েছেন সাংস্কৃতিক সংগঠনে। মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের অধিনে কিশোর কিশোরী ক্লাবের একজন আবৃত্তি শিক্ষক তিনি।

উদ্যােক্তা হয়ে ওঠার ক্ষেত্রে আশিকা বলেন, মায়ের অবদান-সাপোর্ট  সবচেয়ে বেশি,পাশাপাশি রয়েছে বন্ধু- বান্ধবী , শুভাকাঙ্ক্ষীদের সহযোগিতা। এছাড়া ফেইসবুক ভিত্তিক Galachipa E-commerce & Entrepreneurs (GEE) গ্রুপ তার পণ্যের পরিচিতি বাড়াতে অবদান রেখেছে অনেক। অবসরে নতুন নতুন রান্না করতে পছন্দ তার তাই ইচ্ছে ছিলো রান্না নিয়ে কিছু একটা করার তবে মানুষের মুখের স্বাদ বোঝা কঠিন বলে করা হয়নি। 

ফেইসবুকে আশিকা জাহানের নিজস্ব পেজে পণ্য অর্ডার করতে Asika's Twist লিখে সার্চ করলেই পেয়ে যাবেন । তার তৈরি প্রডাক্ট এর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের  হ্যান্ডমেইড ফ্রেব্রিক হেয়ার ব্যান্ড। হ্যান্ডমেইড মেটাল গহনার মধ্যে রয়েছে লং নেকপিস সেট,চোকার সেট,কানের দুল,হিজাব পিন,ব্রুজ,সিংঙ্গেল টিকলি,পায়েল, ব্রেসলেট, ফিংগার রিং,ডাবল ফিংগার রিং,খোঁপার কাটা, রিং ব্রেসলেট, এবং চাবির রিং সহ নানা ধরনের আইটেম। 


আশিকা টুইস্ট এর পণ্য মানুষ কেন পছন্দ করবে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, Asika's Twist এর প্রতিটা প্রোডাক্ট হাতের তৈরি। চাইলে আপনি মনের মত করে পছন্দের গহনা ডিজাইন করে নিতে পারবেন মানে কাস্টোমাইজড করতে পারবেন যেটা দোকান থেকে কিনলে পারবে না। পেইজে ৩০ টাকা থেকে শুরু করে হাজার টাকার গহনাও পাওয়া যায়। প্রতিটির দাম খুবই রিজেনেবল। এছাড়া বাজারে রেডিমেড পণ্যের থেকে তার কাছে কম দামে ক্রেতা  ভালো মানের ও ডিজাইনের পণ্য পাবে তাই  কিনবে বলে মনে করেন। 

প্রতি মাসে আয় কেমন জানতে চাইলে বলেন, অনলাইনে প্রতিদিন সেল হয় না কখনো কম কখনো বেশি হয়। প্রতি মাসে সমান সেল হয় না। কোন মাসে ২ হাজার কোন মাসে ৫ হাজার আবার কোন মাসে ৭-৮ হাজার। মাসিক নির্দিষ্ট কোন আয় নেই। যত বেশি অনলাইনে সময় ও পরিশ্রম ব্যয় করবে তত বেশি সেল ও আয় হবে।


নিজের ব্যবসা সম্পর্কে বলতে গিয়ে আশিকা জাহান বলেন, হ্যান্ডমেইড মেটেরিয়াল জুয়েলারি আর ফ্রেবরিকের হেয়ার ব্যান্ড নিয়ে আমার কাজ। জুয়েলারি গুলোর মেটেরিয়ালস কিনে তারপর আমি নিজ হাতে ডিজাইন করে তৈরি করি। কাপড়ের তৈরি চুলের ব্যান্ড গুলো আমার বানানো আমার সেলাই মেশিনের সাহায্যে। সবার থেকে আলাদা কিছু করতে চাওয়ার সেই চিন্তা থেকেই এগুলোর উদ্ভব। সব সময় চাই নিজের পরিচয়ে পরিচিতি লাভ করতে।মানুষ আমাকে চিনবে আমার কাজ সম্পর্কে জানবে, নিজের কাজের মাধ্যমে পরিচিতি লাভ করতে চাই।