শোষণ মুক্তির লড়াইয়ের একজন ফজলুর রহমান মোল্লা বাবু ভাই

শোষণ মুক্তির লড়াইয়ের একজন ফজলুর রহমান মোল্লা বাবু ভাই

মোঃ নজরুল ইসলাম || মানব সমাজে ধর্মের আবির্ভাবেরও  প্রায় দশ হাজার বছর আগে জীববিজ্ঞানের ভাষায় নশ^র পৃথিবীতে প্রত্যেক প্রাণীকেই তার মৃত্যুর স্বাদ গ্রহন করতে হবে। অর্থাৎ জীব মাত্রই মরণশীল এটাই স্বাভাবিক। প্রকৃতির অপরুপ লিলাবৈচিত্র্যে ভরা মায়ার ভূবনে মানুষের আসা যাওয়ার লীলায় রয়েছে আনন্দ ও বেদনা। কিছু মানুষের মৃত্যু শোক নিমিষেই প্রকৃতির সাথে মিশে যায়। কিছু  মানুষের মৃত্যু অপরকে ভাবায়। পরিবার ও সমাজে তার প্রয়োজন ও আবেদন তাকে বার বার স্মরণ করিয় দেয়।
এমনই একজন প্রখ্যাত সমাজ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মানুষ প্রয়াত ফলজুর রহমান মোল্লা বাবু ভাই।

তাকে নিয়ে দুটি কথা বলা ও লিখার বাসনা বহুদিনের। অনেক দিন ধরেই কেন যেন বাবু ভাই এর ছবি আমার চোখে ভাসছে। তার সাথে আমার ঐ রকম মাখামাখি ঘনিষ্টতা ছিলো না। তারপরও কেন যেন আমি তার কাছে দায়বদ্ধ। তিনি আমার সরাসরি শিক্ষক না হলেও তার কাছে আমি সমাজ রাজনীতি অর্থনীতি ও ইতিহাস বিষয়ে সহজ ভাষায় বিশ্লেষণী ধারনা পেয়েছি। ২০০৫-১২ সাল পর্যন্ত আমি মানিকগঞ্জ দেবেন্দ্র কলেজে অর্থণীতি বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ছাত্র থাকার সময় এবং বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন জেলা সংসদের সভাপতি থাকার কারনে আমার রাজনৈতিক আকাঙ্কা ছিলো বেশ গভির ও মজবুত। তাই মানিকগঞ্জ সরকারি দেবেন্দ্র কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ও বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের সমন্বয়ক আব্দুল্লা আল মোহন স্যার এর মাধ্যমে তার সাথে পুণ; পরিচয় হয় এবং আমি নিয়মিত রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পাঠের জন্য তার সাথে যোগাযোগ রাখতাম এবং আমরা মানিকগঞ্জ সরকারি দেবেন্দ্র কলেজ মাঠে একদল সাহিত্য পিপাসু তরুন সপ্তাহে সোমবার বিশ^ সাহিত্য কেন্দ্রের আসরে বসতাম ও প্রাণবন্ত বিষয়ভিত্তিক আলোচনা করতাম। 
বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের আসরে বেশ আড্ডা জমতো এবং যুক্তি দিয়ে যুক্তি খন্ডন করতাম। এই আড্ডার শিরোমণিদের মধ্যে আরো ছিলেন বিশিষ্ট শিশু সংগঠক ও সমাজ চিন্তক ইকবাল হোসেন কচি ভাই, প্রকৃতি প্রেমী কবি শাহাদত হোসেন সাইজি,তৈয়বুল আজাহার উজ্জ্বল ভাই( বর্তমানে আইন মন্ত্রানালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা), আল্লামা অনিশ আজাহার ও মোহসিন ভাই(বর্তমানে গার্মেন্টস মালিক)।এছারওে তরুন শিক্ষার্থীদের মধ্যে সাইফুল আলম বক্স দিপু,কানিজ ফাতেমা মনি,আল জাহিদ,এহসান ইসলাম। রুমিআক্তার,মো.সানোয়ারহোসেন,কামরুলহাসান,সুব্রতসরকার,মো,হাসানমিয়া,মোখলেসুররহমান। আল- আমিন ও মো.নুরুল ইসলামসহ আমি তাদের মধ্যে নগন্য একজন সদস্য ছিলাম। বর্তমানে প্রত্যেকেই তারা কর্মজীবনে স্ব স্ব অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত। আমি লেখাপড়া শেষ করে রুটি রুজির সংগ্রামে নিয়োজিত হওয়ায় বাবু ভাইসহ তাদের সাথে যোগাযোগ থাকলেও আর আগের মতো সময় নিয়ে আড্ডা দেয়া হয়নি।

মানিকগঞ্জ শহরের আরেকজন সমাজ সেবক, প্রগতিশীল বাম ধারার রাজনৈতিক সংগঠক এবং বহুত সাংগঠনিক পরিচয়ের মধ্যে অন্যতম হলো তেল গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি মানিকগঞ্জ জেলা শাখার সাধারন সম্পাদক কমরেড ইকবাল হোসেন কচি ভাই। তাদের দুজনের মধ্যে ছিলো বেশ ঘনিষ্টতা ও বন্ধুত্ব। আজ বাবু  ভাই গত হয়েছেন তারও অনেক দিন হয়ে গেলো। এখনো আমাদের মাঝে তার প্রিয় বন্ধু ইকবাল হোসেন কচি ভাই আছেন এবং তিনি সাধ্যমতো আমাদের প্রাণের খোড়াক দিয়ে যাচ্ছেন। তাই প্রয়াত ফজলুর রহমান মোল্লা বাবু ভাইকে নিয়ে ইকবাল হোসেন কচি ভাই এর কাছ থেকেই মূল্যবান কথাগুলো জানতে চাই।

গত ২৩ আগষ্ট ২০২১ রাত ৮.০০-১০.০০ ঘটিকা পর্যন্ত মানিকগঞ্জ শহরস্থ পশি^ম দাশরা নিবাসী জনাব ইকবাল হোসেন কচি এর সাক্ষাতকার গ্রহনকালে তিনি বলেন- প্রয়াত ফজলুর রহমান মোল্লা বাবু মানিকগঞ্জ জেলার ঘিওর উপজেলার সদর ইউনিয়নের মাইলাগি গ্রামে ৩ ফেব্রæয়ারী ১৯৪৮ সালে জন্মগ্রহন করেন। প্রয়াত ফজলুর রহমান মোল্লা বাবু ভাই এর পিতা মানিকগঞ্জ মহুকুমার  একজন বিখ্যাত প্রেসকার ছিলেন। তার বাবার  চাকরির সুবাদে তাদের পরিবারসহ সবাইকে দেশের বিভিন্ন স্থানে থাকতে হয়েছে। তারপর পাকিস্তান আমলে তার বাবা ঢাকা ও মানিকগঞ্জ শহরের প্রাণকেন্দ্রে সরকারি দেবেন্দ্র কলেজের পাশেই বিশাল বাড়ী করেন। প্রাথমিক শিক্ষা মানিকগঞ্জ শহর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এবং মাধ্যমিক শিক্ষা মানিকগঞ্জ সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে। তারপর উচ্চ মাধ্যমি শিক্ষা গ্রহন করেন মানিকগঞ্জ সরকারি দেবেন্দ্র বিশ^বিদ্যালয় কলেজে। ছাত্র জীবনে তিনি অত্যন্ত মেধারী ছাত্র ছিলেন। উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করে তিনি প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় থেকে ইতিহাস বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেন। পারিবারিকভাবে তিনি যৌথ পরিবারে বসবাস করতেন। তার সাত ভাই দুই বোনের মধ্যে তিনি তৃতীয়। তিনি ছারাও তার ছোট ভাই এ্যাডভোকেট ও সাংবাদিক মানিকগঞ্জ জেলা আইনজীবি সমিতির বিজ্ঞ সিনিয়র আইনজীবি ও মানিকগঞ্জ প্রেস ক্লাবের দীর্ঘদিনের একাধিকবার সাধারন সম্পাদক ও সভাপতি জনাব নূরতাজ আলম বাহার ভাই ও বেশ সজ্জন ও সদা হাস্যজ্জ্বোল মানুষ। পরিবারের অন্যদের চেয়ে তিনি ছিলেন উদার গণতান্ত্রিক ও মুক্তমনা মানুষ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাস বিষয়ে দেশের সর্বোচ্চ একাডেমিক ডিগ্রী নিয়ে রাজনৈতিক সচেতন ও আদর্শীক জীবন যাপনের কারনে একাধিক কর্মস্থল পরিবর্তন করলেও কোথাও স্থীর থাকতে পারেননি তিনি। শিক্ষা জীবন শেষ করে তিনি প্রথমে ঢাকা মতিঝিল উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন। তারপর তিনি পারিবারিকভাবেই লালবাগের বিখ্যাত ও খুবই ধনাড্য পরিবারে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। শ^শুরালয়ের ধনসম্পদ রক্ষনাবেক্ষনের জন্য তাকে সার্বক্ষনিক থাকার প্রস্তাব করলে তিনি নারাজি দেন।তারপরও স্ত্রীকে একটু বেশি সময় দিতে স্কুলের শিক্ষকতার চাকরি ছেরে দিয়ে লালবাগে একটি ব্যাবসা করতেন। অন্যদিকে তার স্ত্রীর হৃদরোগ জনিত শারিরিক অসুস্থতা ও পারিবারিক টানপোরেনে ও নানাবিধ প্রতিকুলতায় আটসাটভাবে তাদের সংসার হয়ে ওঠেনি। এইভাবে সাংসারিক দুরত্ব থাকলেও পারিবারিক ও সামাজিক অবস্থান পরিবর্তন করে কেউ ২য় বিবাহ করেননি। দাম্পত্য জীবনে তাদের কোন সন্তানাদি হয়নি এবং একধরনের অসুখী হয়েই তিনি লালবাগের ব্যাবসা ত্যাগ করে তারপরও রক্তের মধ্যে যাদের দেশপ্রেম ও  রাজনৈতিক মতাদর্শ প্রবাহমান সেই মানুষগুলো ঘরে থাকতে পারেনা। মানিকগঞ্জ শহরে তার আরো অসংখ্য শুভান্যদায়ী বন্ধুবান্ধব রয়েছে। শহরের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন ফোরামে তিনি আড্ডা দিতেন। বিশেষ করে তার আরেক বন্ধু সাবেক ব্যাংকার ও সিপিবি জেলা সভাপতি কমরেড নুরুল ইসলাম, সিপিবি জেলা কমিটির সাবেক সাধারন সম্পাদক এ্যাডভোকেট দিপক কুমার ঘোষ,অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমেদ নান্নু,ছাত্র ইউনিয়ন জেলা কমিটির সাবেক সভাপতি বিমল রায় বলেন- বাবু ভাই একজন প্রগতিশীল মানুষ ছিলেন। ১৯৯২ সালে দেশে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হলে ভাই এর সাথে আমরা সম্প্রতির মানিকগঞ্জ নামক ব্যানারে সাম্প্রদায়িকতা বিরেধী পোস্টার রিপলেন বিলি করি। জোলা ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক নেতা কমরেড লুৎফর রহমান ইলিচ বলেন- বাবু ভাইয়ের সাথে অনেক আড্ডা দিয়েছি। তিনি অনেক বড় মানের জাতীয় নেতা ছিলেন। ভাসানী ন্যাপের ছাত্র সংগঠন জাতীয় ছাত্র দলের কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারন সম্পাদক ছিলেন। এছারাও বর্তমান সিপিবি জেলা সাধারন সম্পাদক  কমরেড মজিবুর রহমান মাস্টার,সমাজকর্মী তাপস কর্মকার,ডা: ভজন কৃষ্ণ বনিকসহ এই ফোরামের অনেকের সাথেই তিনি বিভিন্ন ধরনের আড্ডা দিতেন।  এছাড়াও মহান ভাষা আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারি অন্যতম জাতীয় সংগঠন তমুদ্দিন মজলিশের সক্রিয় কর্মী হয়েও  তিনি কাজ করেছেন। এই ফোরামে যাদের সাথে আড্ডা দিতেন তাদের মথ্যে অন্যতম হলেন বিদ্যুৎ  বিভাগের সাবেক উচ্চপদস্থ কর্মকাতা ও রাষ্ট্রীয় পদক প্রাপ্ত কৃষক প্রয়াত মো.শরিফ আলী, এম এ মোন্নাফ খান, প্রফেসর মাইনুদ্দিন আহমেদ,প্রয়াত সাংবাদিক মুহাম্মদ আসাদ প্রমুখ।

দীর্ঘদিন তিনি এভাবেই কাজ করতেন। অন্যদিকে ১৯৯২ সালে কমিউনিস্ট পার্টির বিভক্তি ও ন্যাপের আরেক দফা ভাঙ্গনে তাকে বিস্মিত করলেও  ১৯৯৩ সালে বাংলাদেশের সংবিধান প্রণেতা ও বঙ্গবন্ধু সরকারের সাবেক পররাষ্ট মন্ত্রি ড. কামাল হোসেন এবং ১৯৬৯ সালের গণঅভ’থানের অন্যতম নায়ক সিপিবির সাবেক কেন্দ্রীয় সাধারন সম্পাদক কমরেড সাইফুদ্দিন আহমেদ নান্নু,মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক গেড়িলা কমান্ডার সাবেক ন্যাপ নেতা কমরেড পংকজ ভট্ট্রাচার্য্যদের নেতৃত্বাধীন গণমানুষের মুক্তির নতুন ধারার প্লাটফরম গণফোরাম গঠিত হলে তিনি আবেগে আপ্লুত ও আশাবাদি হন। তারই ধারবাহিকতায় মানিকগঞ্জের একঝাক প্রগতিশীল ত্যাগী রাজনৈতিক মুরুব্বিরাও গণফোরামে যোগদান করেন। তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক বীর মুক্তিযোদ্ধা মফিজুল ইসলাম খান কামাল, সাবেক ন্যাপ নেতা মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক বীরমুক্তিযোদ্ধা কমরেড সৈয়দ আনোয়ার আলী চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা কমরেড ডা: চিত্ত রঞ্জন সাহা, ভাষা সংগ্রামী  ও প্রখ্যাত কৃষক ও ক্ষেতমজুর নেতা আব্দুল খালেক মৃধা,সিপিবি জেলা কমিটির সাবেক সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা কমরেড প্রমথ নাথ সরকার,আওয়ামীলীগ জেলা কমিটির নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা কফিল উদ্দিন আহমদ কফিল মাস্টার ও সাবেক ন্যাপ নেতা জনাব ইকবাল হোসেন কচি। তিনি কচি ভাইয়ের ডাকেই গণফোরামে যোগদান করেন।

তারপর তিনি আবার রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে সংগঠনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৯৯৬ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মানিকগঞ্জ জেলাধীন ঘিওর ,দৌলতপুর-১ আসন থেকে গণফোরাম মনোনিত উদীয়মান সূর্য্য প্রতিক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করেন। তার প্রতিদ্বন্দী প্রার্থী ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির সাবেক মহাসচিব ভাষা সংগ্রামী ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন। ধানের শীষ প্রতিক নিয়ে খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন বিজয়ী হন। এছারাও প্রতিদ্ব›দ্বী প্রার্থী ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাবেক সংসদ্য অধ্যক্ষ এ এম সায়েদুর রহমান,বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির কাস্তে প্রতিকে ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমান মিনু দর্জি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ এর মশাল প্রতিকে ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আফজাল হোসেন খান জকি ও  জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকে  ছিলেন কর্ণেল আব্দুল মালেক প্রমুখ।

যৌবন যার যুদ্ধে যাবার,শোষনের শৃঙ্খল ভাঙার নিরন্তর বিপ্লবের সময় তার। ছাত্র ইউনিয়নের নীল পতাকা নিয়ে কমিউনিস্ট পার্টি নিষিদ্ধ থাকায় ন্যাপের পতাকা তলে সামিল হয়ে আমাদের মানিকগঞ্জের তথা দেশের মেহনতি মানুষের জনদরদী নেতা কমরেড ফজলুর রহমান মোল্লা বাবু ভাই আমৃত্যু লড়েছেন সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে,শোষন বঞ্চনার বিরুদ্ধে। আরো কাজ করেছেন গরিব ও মেহনতি মানুষের জীবনের আমুল পরিবর্তন তথা অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে,শোষনহীন নতুন সমাজ বিনির্মানের প্রত্যাশায়।
সারাদিন সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকান্ডে ব্যাস্ত থাকলেও প্রয়াত ফজলুর রহমান মোল্লা বাবু ভাইকে আমি কখনো ধুমপান করতে দেখিনি। আমরা তার সন্তান তুল্য এবং তার জীবনের একেবারে প্রান্তে এসে সান্নিধ্য পেয়েছি। সবসময় সাদা পায়জাম ও পাঞ্জাবি পরতেই বেশি পছন্দ করতেন। তিনি ইসলামী ভাবাদর্শদের আলোকেও সমাজতান্ত্রিক সমাজের বিকাশের চিন্তা করতেন। মার্কসীয় সামজতন্ত্র ও ইসলামী সমাজতন্ত্রের মধ্যে দ্ব›দ্ব থাকলেও  তিনি মৌলিক ঐক্য খুজে বের করতেন। আমাদের দেশীয় সমাজ অর্থনীতির প্রেক্ষিতে তিনি ধর্ম কর্ম সমাজতন্ত্র এই মন্ত্রনাই বেশি আওরাতেন। প্রয়াত ফজলুর রহমান বাবু ভাই একজন নিবেদিত সমাজসেবক দেশপ্রেমিক ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক কর্মী ছিলেন। বর্তমান সমাজের আদর্শীক রাজনৈতিক শুন্যতায় ও জাতির এই ক্রান্তিকালে প্রয়াত ফজলুর রহমান মোল্লা বাবু ভাইদের সমাজে রয়েছে অনেক আবেদন ও প্রয়োজনীয়তা। তাই বাবু ভাইদের দৈহিক মৃত্যু হলেও তাদের স্বপ্নের সামাজতান্ত্রিক ন্যয্যতা সমাজ বিনির্মানের আদর্শের মৃত্যু হয়নি। তাই আসুন বাবু ভাইদের আদর্শের পতাকাতলে সামিল হয়ে শোষনমুক্ত সামাজিক মালিকানার ন্যায়্যতার সমাজ বির্নিমানে দাবির মিছিলে যোগ দেই,কাজ করি ও সাধ্যমতো সহযোগীতিা করি।

[ লেখক: উন্নয়নকর্মী,সাংবাদিক ও গবেষক ]