শাহিনা হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে মানববন্ধন

শাহিনা হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে মানববন্ধন
ছবি: সংগৃহীত

শাহিনা হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে সিলেটে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (২৭ জুন) দুপুর ১১টায়  সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
সিলেট জেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের আহবায়ক মনোজ কপালি মিন্টুর সভাাপতিত্বে ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড নেতা সুজন মিয়া পরিচালনায় মানববন্ধেনে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের মহানগরের সভাপতি সাইফুল ইসলাম, গিয়াস উদ্দিন বতুল্লা, আরব আলী, নিহত শাহিনা বেগমের মা মোছাঃ পরতিঙ্গা বেগম, নিহত শাহিনার ভাইসহ এলাকাবাসী।
মানববন্ধনে নিহত শাহিনার মা মোছাঃ পরতিঙ্গা বেগম আটককৃত ঘাতক স্বামী আব্দুল আহাদের ফাঁসির দাবি জানান এবং অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতার করে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
উল্লেখ্য, সিলেট শহরতলীর এয়ারপোর্ট থানাধীন কোনাটিলা গ্রামে গৃহবধূ সাহিনা বেগম (২১) কে হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহতের মাতা মোছাঃ পরতিঙ্গা বেগম বাদী হয়ে এসএমপির এয়ারপোর্ট থানায় এ মামলা দায়ের করেন। যার নং- ১৩/১৫৭ (তারিখ : ০৭/০৬/২০২২ইং)। ঘটনার প্রেক্ষিতে মামলার প্রধান আসামী গৃহবধুর স্বামী আব্দুল আহাদকে গ্রেপ্তার করে গত ৮জুন তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আব্দুল আহাদ কোনাটিলা গ্রামের আজিদ আলীর পুত্র।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় বছর খানেক আগে আসামী আব্দুল আহাদের সাথে ইসলামী শরীয়াহ মোতাবেক বিয়ে হয় নিহত সাহিনা বেগমের। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকলোভী স্বামী ও তার পরিবার বিভিন্নভাবে যৌতুক দাবি করে আসছিল। সাহিনা বেগম যৌতুক দিতে অপরাগতা জানালে স্বামী ও তার পরিবারের লোকজন বিভিন্ন সময় শারিরীক ও মানসিক নির্যাতন করতে থাকে। গত ২২ এপ্রিল পাষান্ড স্বামী আব্দুল আহাদের বাড়ি থেকে সাহিনা বেগমকে তার নিজ বাড়িতে নিয়ে যান মা পরতিঙ্গা বেগম। পরে সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে যৌতুকের দাবিতে আর নির্যাতন করবেনা মর্মে অঙ্গিকার করলে সালিশ ব্যক্তিদের পরামর্শে সাহিনাকে স্বামীর বাড়িতে নিয়ে যান আব্দুল আহাদ। কয়েকদিন পর আবারও নির্যাতন করতে থাকে আব্দুল আহাদ ও তার বাড়ির লোকজন।
সর্বশেষ গত ৭ জুন রাত সাড়ে ১২টার দিকে মামলার ৩নং আসামীর জামাতা উসমান মিয়া ফোন দিয়ে জানান, সাহিনা বেগম আত্মহত্যা করেছে। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক আত্মীয় স্বজনদের নিয়ে মেয়ের শ্বশুর বাড়ির যান পরতিঙ্গা বেগম। গিয়ে গ্রেপ্তারকৃত আব্দুল আহাদের শয়ন কক্ষে লাশ দেখতে পান। নিহত সাহিনার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফুলা জখম দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ এসে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরী করে লাশ উদ্ধার করে সিলেট এম.এ.জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়না তদন্তের জন্য প্রেরণ করে।