সাঘাটার আতিকা সুলতানা হত্যায় সহোদর ভাই ও মাকে আসামী করে মামলা! মা জেলহাজতে ভাই পলাতক।

সাঘাটার আতিকা সুলতানা হত্যায় সহোদর ভাই ও মাকে আসামী করে মামলা! মা জেলহাজতে ভাই পলাতক।
ছবিঃ সংগৃহীত

আবু তাহের, গাইবান্ধা।। ২৭ ফেব্রুয়ারি।। গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার ভরতখালি ইউনিয়নের দক্ষিন উল্লা গ্রামে প্রেম ঘটিত জেরে আতিকা সুলতানার নৃশংস খুন ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন মহলে  নানান গুঞ্জন চললেও অবশেষে নিজ সন্তান তানজিল ও স্ত্রী হামিদাকে আসামী করে সাঘাটা থানায় মামলা করলো সুলতানার পিতা আমিনুল।  যার মামলানং-১৩ তারিখ ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১।

নিহতের পিতা আমিনুল। 

সাঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ বেলাল হোসেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকাবাসীর রোষানল থেকে  সুলতানার মা হামিদাকে রেহাই করতে জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে থানায় নিয়ে আসলেও মামলা রুজুর পর তাকে হত্যাঘটনায় সহযোগীতার অপরাধে আটক দেখিয়ে গাইবান্ধা আদালতে পাঠিয়ে দেন।একইসাথে আতিকা সুলতানার মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করে।

হত্যাঘটনার পর থেকেই আসামী তানজিল পলাতক রয়েছে বলে থানাসূত্রে জানা গেছে। 

মামলার বিবরণে জানা যায়,আতিকা সুলতানার পিতা আমিনুল ইসলাম ফুলছড়ি জামে মসজিদের ইমাম।তার মেয়ে উদয়ন মহিলা ডিগ্রি কলেজে একাদ্বশ শ্রেণীতে পড়ালেখা করতো।

অনুমান ২/৩বছর পূর্বে থেকে একই গ্রামের (চরপাড়া) উজ্জলের পুত্র রাসেলের সাথে প্রেম ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে উঠে।

বিষয়টি জানাজানি হলে পারিবারিক ভাবে বিবাহের প্রস্তাব নিয়ে ঘটনার দিন বেলা আড়াই ঘটিকায় উজ্জল ও তাহার বিয়াই আবুল আমার বাড়িতে আসে।

কিছু আলোচনার পর আবার এশার নামাজের পর বৈঠকের সিদ্ধান্ত হলে আমি এশার নামাজ পড়ার জন্য ফুলছড়ি মসজিদে যাই। 

আমার অবর্তমানে মেয়ের প্রেম ভালোবাসার বিষয়টি  আমারপুত্র ও স্ত্রী মেনে না নেয়ায় তাদের মাঝে কথা কাটাকাটি শুরু হয়।

একপর্যায়ে আতিকা সুলতানা তার বড় ভাই তানজিলের গালে থাপ্পড় মারে।

 এতে তার পুত্র তানজিল উত্তেজিত হয়ে পাশে রুমে থাকা গরু জবাই করা ধারালো বড় ছোরা নিয়ে এসে আতিকা সুলতানার মুখে-গালে ও  গলার নিচে শ্বাসনালীসহ আশেপাশের বিভিন্ন স্থানে একাধিক  কোপ মারিয়া কাটা রক্তাক্ত জখম করে খুন করে।

তার চিৎকারে আশেপাশের লোকজন আসতে থাকলে তানজিল পালিয়ে যায়।
এসময়  লোকজন আতিকাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পেয়ে তার মাকে আটকে রাখে।

এসব ঘটনা ইউপি সদস্য আঃ জলিলের ফোনে জানতে পেরে বাড়িতে এসে তার মেয়ের মৃতদেহ দেখতে পাই।

মামলার তদন্ত অফিসার  সাব ইন্সপেক্টর নয়ন কুমারের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আতিকা সুলতানার ভালোবাসার ঘটনাটি তানজিল  ও তার মা মেনে নিতে পারেনি। এ নিয়ে তাদের মাঝে  বাকবিতণ্ডা হয়,একপর্যায়ে খুনের ঘটনা ঘটে।

তিনি আরোও জানান, হত্যা ঘটনার সাথে জড়িত মামলার ২নং আসামী হামিদাকে  জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনা হলেও পরে তাকে আটক দেখিয়ে  কোর্টে পাঠানো হয়েছে। 

মামলার বিবরণ, বিভিন্নমহলের বক্তব্য  ও পরিবারের লোকজনের ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের কাছে দেয়া ভিডিও সাক্ষাৎকার এবং হত্যাকান্ড ঘটনা নিয়ে এখনোও সাধারনের মাঝে শত প্রশ্ন রয়েই গেছে। তাদের দাবী আমরা আতিকা সুলতানা হত্যার বিচার চাই। কিন্তু গর্ভধারিণী মা কিভাবে তার সন্তানকে হত্যাঘটনায় জড়িত থাকে।আসামী হয়। আমরা এই হত্যা ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত চাই।