সাঘাটায় স্বামীর নির্যাতনে নির্যাতিত মুক্তার মামলায় ৫ আসামি জেল হাজতে

সাঘাটায় স্বামীর নির্যাতনে নির্যাতিত মুক্তার মামলায় ৫ আসামি জেল হাজতে
ছবি: সংগৃহীত

আবু তাহের, স্টাফ রিপোর্টার।। সাঘাটায় স্বামী শাশুড়ী ও ননদের নির্যাতনে জনৈক মুক্তা বেগম নামের গৃহবধূ  মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে ।

এ ঘটনায় সাঘাটা থানায় মামলা হলেও আত্মগোপনে থাকায় পুলিশ পাষণ্ড স্বামী বাবুকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

তবে এ মামলার ৫ আসামি জামিনের জন্য গাইবান্ধা বিজ্ঞ আদালতে আবেদন করলে গত (৮ মে, রবিবার)  আদালত তাদের আবেদন না মুঞ্জর করে জেল হাজতে প্রেরন  করার নির্দেশ দেন।

জানা যায়, সাঘাটা উপজেলার দলদলিয়া গ্রামের মৃত মন্তাজ আলীর পুত্র বাবু মিয়ার সাথে একই উপজেলার বুরুঙ্গি গ্রামের মৃত নওয়াব আলীর একমাত্র মেয়ে মুক্তা বেগম এর গত পাঁচ বছর পূর্বে ইসলামি শরীয়ত মোতাবেক বিবাহ রেজিষ্ট্রেশন হয়।  মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে তাদের বিবাহের রাত্রিতে তিন ভরি ওজনের স্বর্নালংকার ও ঘরের যাবতীয় আসবাপত্র  উপঢৌকন হিসেবে আমার জামাই বাবু মিয়ার বাড়ীতে পাঠিয়ে দেই।

 বিবাহের পর কিছুদিন আমার মেয়ে মুক্তা সুখে শান্তিতে ঘর সংসার  করতে থাকে। একপর্যায়ে আমার মেয়ের গর্ভে একটি পুত্র সন্তান জন্মগ্রহণ করে। আনুষ্ঠানিক ভাবে তার নাম রাখা হয় মোক্তাকিন( ১)। কিন্তু গত ৬ মাস পূবে হইতে মুক্তার স্বামী বাবু মিয়া তার বড় ভাই জহির উদ্দিন, বোন রিক্তা বেগম মা জরিনা বেওয়াসহ  বেগম, ফেন্সি'র কুপরামর্শে ও সহায়তায় বাবু মিয়া আমার কন্যার নিকট হইতে পাঁচ লক্ষ টাকা যৌতুক দাবি করে।

 আমার মেয়ে মুক্তা বেগম উক্ত টাকা  দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তার স্বামী বাবু মিয়াসহ তার পরিবারের সকলে আমার মেয়ের উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করে। এমন অবস্থা চলাকালে ঘটনার দিন ২২ জানুয়ারি ২০২২ ইং রাত্রে আমার মেয়েকে শয়ন ঘরের মধ্যে লোহার রড দিয়ে শরীরের বিভিন্ন  স্থানে এলোপাথারী মারপিট করিয়া ছেলা ফোলা জখম করে। 
আমার মেয়ে মুক্তা অজ্ঞান হইয়া পড়িলে বাবু মিয়া ঘটনার বেগতিক দেখে মোছাঃ বেগম ফেন্সি আমার মেয়ের পরনের শাড়ী কাপড় দিয়ে ঘরের ধরনার সাথে ফাঁসে ঝুলিয়ে হত্যার চেষ্টাকালে ঘটনাস্থলে শোরগোল শুনিয়া ও আমার কন্যা গোংরানোর শব্দ শুনিয়া প্রতিবেশী লোকজন ঘটনারস্থলে উপস্থিত হইয়া ঘটনা দেখে আমার মেয়েকে অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করে। পরে ২৯ জানুয়ারী ২০২২ ইং তারিখে আমি বিশ্বস্থ সুত্রে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আমার মেয়ের এমন দূঃখ জনক  ঘটনার কথা আমাকে অবগত করিলে আমি  ঢাকা থেকে দ্রুত  নিজ বাড়িতে আসি। 
আসার পর আমি আমার নিকটতম আত্নীয় স্বজন ও প্রতিবেশী লোকজন কে সাথে নিয়ে আমার মেয়ের শ্বশুর বাড়িতে যাই। সেখানে গিয়ে দেখি আমার মেয়ে মুক্তা বেগম অসুস্থ।  তার চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিতে ধরলে  বিভিন্ন প্রকার ভীতি ও বাধানিষেধ করে। পরবর্তীতে আমি আমার মেয়ের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কা জনক দেখে ১০ নং বোনার পাড়া ইউপি সাবেক মেম্বার  পপলুসহ আরো অনেক গন্যমান্য ব্যক্তিকে সাথে নিয়ে মেয়ের বাড়ীতে যাই।ঐদিন যাওয়ার পর সকলের সহযোগিতায় আমার মেয়েকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে তাৎক্ষণিক ভাবে গাইবান্ধা আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করি।
 কর্তব্যরত চিকিৎসক মুক্তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কা জনক দেখিয়ে তাৎক্ষণিক ভাবে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করে।
বর্তমানে আমার মেয়ে মুক্তার শরীরে  বিভিন্ন স্থানে ঘা হয়ে পচেঁ যাচ্ছে। এলাকাবাসীর ধারণা মুক্তার উপর বিভিন্ন নির্যাতের এক পর্যায়ে বেহুশ হয়ে পড়লে তাকে চেতন করার জন্য ইনজেকশনের সিরিজ দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করায় এমন পচন সৃষ্টি হয়েছে।

 বর্তমানে মুক্তা মৃত্যুর সহিত পাঞ্জা লড়ছে। এব্যাপারে মুক্তা বেগম এর মা  নাজমিন বেওয়া বাদি হয়ে সাঘাটা থানায় একটি এজাহার  দায়ের করেন। ঘটনা তদন্ত সাপেক্ষে সাঘাটা থানা অফিসার ইনচার্জ মতিউর রহমান ১১(ক)/৩০, ২০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন  দমন আইন সংশোধন ২০০৩; হত্যার উদ্দেশ্যে যৌতুকের জন্য মারপিট ও সহায়তার অপরাধ আইনে মামলা রুজু করেন। মামলা রুজুর ১৪দিন অতিবাহিত হলেও পুলিশ  আসামি স্বামী বাবুকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

 পরে  এ মামলার  ৫ আসামি গত ৮ মে রবিবার জামিনের জন্য গাইবান্ধা  বিজ্ঞ আদালতে আবেদন করলে আদালত তাদের আবেদন না মুঞ্জর করে জেল হাজতে প্রেরন করার নির্দেশ দেন।