সাঘাটা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কোভিড-১৯ টিকা দিচ্ছে স্বেচ্ছাসেবীরা ॥ সচেতন মহলে প্রশ্ন ?

সাঘাটা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কোভিড-১৯ টিকা দিচ্ছে স্বেচ্ছাসেবীরা ॥ সচেতন মহলে প্রশ্ন ?

আবু তাহের, গাইবান্ধা।। সাঘাটা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কোভিড-১৯ প্রতিরোধে ভ্যাকসিন গত ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২১ থেকে শুরু করা হয়েছে। প্রতিরোধক ভ্যাকসিন শরীরে পুশ করতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কোভিড-১৯ টিকাদান সহায়িকায় টিকাদানকারি সিনিয়র স্টাফ নার্স, স্টাফ নার্স, মিডওয়াইফ, পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা (এফডাব্লিউভি) উপ-সহকারি কম্যুনিটি মেডিকেল অফিসার এবং সরকার কর্তৃক মনোনিত অন্যান্য দক্ষ টিকাদানকারি। সহায়িকার সেই নির্দেশ উপেক্ষা করে সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার সাঘাটা হাসপাতালের গেভি ভেক্সিনেটর (স্বেচ্ছাসেবী) মাধ্যমে ভ্যাকসিন নিতে আসা মানুষের শরীরে ধারাবাহিকভাবে টিকা প্রদান করছে ! ভেক্সিনেটর স্বেচ্ছাসেবীদের মাধ্যমে টিকা বা ভ্যাকসিন প্রদান করায় সচেতন মহলসহ অনেকেই প্রশ্ন তুলেছে।


১৪ ফেব্রুয়ারী-২০২১ ইং তারিখে সাঘাটা প্রেসক্লাবের কয়েকজন সাংবাদিকসহ সরেজমিনে সাঘাটা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ইপিআই টেকনিশিয়ানের রুমের সামনে গিয়ে দেখা যায়, ভ্যাকসিন নিতে আসা ব্যক্তিরা টিকা গ্রহণ করছেন। আর তাদের শরীরে টিকা প্রদান করছে গেভি ভেক্সিনেটর বা স্বেচ্ছাসেবীরা। পরে তাদের থেকে নাম জানতে চাইলে জানা যায় তারা আব্দুর রউফ, টিটু মন্ডল, শিউলি আক্তার ও রুহুল আমিন। 

স্বেচ্ছাসেবিদের সাথে কথা বললে তারা জানান, কোভিড-১৯ টিকা দানের শুরুর দিন থেকেই তারা টিকা প্রদান করে আসছে। এ যাবত প্রায় ৬শত নারী পুরুষকে তারা টিকাদান সেবা দিয়েছে। কোভিড টিকাদানের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সর্তকতা অবলম্বনে আপনারা প্রশিক্ষন দিয়েছেন কি জানতে চাইলে তারা বলেন একদিন প্রশিক্ষন দিয়েছি। 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কোভিড ১৯ টিকাদান সহায়িকায় পাতা নং ১৪-১৫এর ৩.৫ অনুচ্ছেদে টিকাদান টিম সর্ম্পকে বলা হয়েছে করোনা টিকা প্রদানের জন্য প্রতিটি টিকাদান টিম ৬ সদস্য বিশিষ্ট্য হবে। প্রতিটি টিকাদান টিমে ২জন দক্ষ টিকাদানকারি টিকা প্রদান করবেন এবং ৪ জন স্বেচ্ছাসেবী টিকাদানে সহায়তা প্রদান করবেন। সাধারন টিকাদানকারি টিম গড়ে ১০০-১৫০ জন টিকা দিতে পারবেন। উদিষ্ট জনগোষ্ঠির সংখ্যার উপর ভিত্তি করে প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত টিকাদানকারি বা টিকাদান টিমের ব্যবস্থা করতে হবে এবং মাইক্রোপ্লানে তা উল্লেখ করতে হবে।

সহায়িকায় টিকাদানকারি সিনিয়র স্টাফ নার্স, স্টাফ নার্স, মিডওয়াইফ, পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা(এফডাব্লিউভি) উপ সহকারি কম্যুনিটি মেডিকেল অফিসার এবং সরকার কর্তৃক মনোনিত অন্যান্য দক্ষ টিকাদানকারিদেও কথা উল্লেখ রয়েছে।

স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে আনসার গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মী, অবসরপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য কর্মী ও তদারককারী পুর্বে টিকাদান ক্যাম্পেইনে/ রুটিন টিকাদান কাজের অভিজ্ঞতা সম্পুন্ন স্বেচ্ছাসেবী, এনজিও কর্মী, মাল্টিপারপাস হেলথ ভলানটিয়ার ও সমাজ সেবায় আগ্রহী ব্যক্তিগণ, স্কাউট ও প্রতিষ্ঠান কর্তৃক নির্বাচিত অন্যান্য ব্যক্তিবর্গেও কথা উল্লেখ রয়েছে।

এব্যাপারে ইপিআই টেকনিশিয়ান আসাদুল ইসলামের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারবোনা। আপনারা আমাদের উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা স্যারের সাথে কথা বলেন। তবে তিনি স্বীকার করেন যারা টিকা প্রদান করছেন তারা গেভি প্রকল্পের ইমুনাইজেশন ওর্য়াকার (ভেক্সিনেটর)। তাদেরকে স্যারই টিকাদানের জন্য নিযুক্ত করেছেন। এতে আমার বলার বা করার কিছুই নেই। গেভি প্রকল্পটির ২০১৭ সালে মেয়াদ শেষ হয়েছে হয়েছে বলেও জানা গেছে।

 ্এব্যাপারে সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আরিফুজ্জামানের সাথে ফোনে কথা বললে তিনি বলেন, আমাদের হাসপাতালে জনবল কম তাই ভেক্সিনেটর দিয়ে কোভিড-১৯ টিকা প্রদান করছি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কোভিড-১৯ টিকাদান সহায়িকায়তো স্পষ্ট বলা হয়েছে টিকাদানকারি হতে হবে সিনিয়র স্টাফ নার্স, স্টাফ নার্স, মিডওয়াইফ, পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা (এফডাব্লিউভি) উপ-সহকারি কম্যুনিটি মেডিকেল অফিসার(স্যাকমো) এপ্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন জেলা হাসপাতালের চিত্র ও উপজেলা হাসপাতালের চিত্র ও কাজ এক নয়। ওই সহায়িকা করা হয়েছে জেলা পর্যায়ের হাসপাতালের দিকে লক্ষ্য করে। আর আমার হাসপাতালে স্যাকমো দিয়ে আউটডোর দেখাশুনা করাই। আবার হাসপাতালে নার্সরা কেউ ছুটিতে,কেহ প্রশিক্ষনে, কেউ অসুস্থ আবার যারা আছে তাদের ভর্তি রোগিদের ডিউটি করতে হয়। এছাড়া পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা(এফডাব্লিউভি) গণ টিকা প্রদানে দক্ষ বা পারদর্শি নয় আর স্বাস্থ্য সহকারিরা মাঠে টিকা দেন। তাই ভেক্সিনেটরদের দিয়ে কোভিড-১৯ টিকা প্রদান করার ব্যবস্থা করেছি। ভেক্সিনেটরগণতো স্বেচ্ছাসেবী বললে তিনি বলেন, ভেক্সিনেটর ও স্বেচ্ছাসেবী এক নয়। ভেক্সিনেটররা টিকাদানে পারদর্শী। (অডিও রয়েছে)

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন চিকিৎসা নিতে আসা লোকজন জানায়, আমরা মুখে মাক্স না পড়লে চিকিৎসা দেয়না। অথচ হাসপাতালের বড় স্যার মুখে মাক্স ছাড়াই ঘুরে বেড়াচ্ছে। আবার টিকা দিচ্ছে তার হাতে গ্লোভস নেই।এটা এক জায়গায় দুই নীতি নয়কি। তারা আরো বলেন, স্বেচ্ছাসেবীরা টিকা দেয়ায় কোন সমস্যা দেখা দিলে এ দায় কে নিবে ?