সাদুল্লাপুরে আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে আবাদি জমিতে গড়ে তুলছে ইটভাটা 

সাদুল্লাপুরে আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে আবাদি জমিতে গড়ে তুলছে ইটভাটা 
ছবিঃ সংগৃহীত

আবু তাহের।। স্টাফ রিপোর্টার।। ২২ মার্চ, বুধবার।। গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার দামোদরপুর ইউনিয়নের পূর্বদামোদরপুর হিন্দুপাড়া এলাকায় আবাদি জমিতে আইন লঙ্ঘন করে ইটভাটা নির্মাণ করা হচ্ছে। আবাদি জমির উপর এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও জনবসতি এলাকার এক কিলোমিটারের মধ্যে ইটভাটা নির্মাণে আইনত নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা উপেক্ষা করে ওই এলাকায় ‘আরবিসি’ নামে ইটভাটা নির্মাণ কাজ চলছে। এতে পরিবেশের মারাত্মক দূষণ সৃষ্টি এবং জমি ও ফসল বিনষ্টসহ মানুষজন নানান রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কায় এলাকাবাসী উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। ইটভাটার নির্মাণ বন্ধে এলাকাবাসী বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ এমনকি সড়ক অবরোধের মতো আন্দোলন করেও কোনো সুফল পায়নি। 

এলাকাবাসীর অভিযোগে জানা গেছে, সাদুল্লাপুরের কামারপাড়া-কান্তানগর রাস্তার পাশে পূর্বদামোদরপুর হিন্দুপাড়া এলাকায় উর্বর জমির উপর ২০১৯ সালে ইটভাটা নির্মাণ শুরু করেন সুন্দরগঞ্জের ধোপাডাঙ্গার গোলাম মোস্তফা সাদা মিয়া। পরবর্তীতে এলাকাবাসীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে ভাটা নির্মাণ কাজ স্থগিত হয়। পুনরায় কাজ শুরু করলে চলতি বছর আবারও দু দফায় অভিযোগ করা হয়। কিন্তু ভাটা নির্মাণ অব্যাহত থাকলে এলাকাবাসী সড়ক অবরোধ করে নির্মাণ কাজ বন্ধের দাবি জানায়। এর প্রেক্ষিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভাটা নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয়া হলেও তিনদিন পর ফের নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়। এখন ভাটা নির্মাণ কাজ শেষের পথে, যেকোনো দিন ভাটায় ইট পোড়ানো শুরু হবে।এলাকার ক্ষুদ্র কৃষক কবেজউদ্দিন জানান, ইটভাটার আশেপাশে গরিব কৃষকদের আবাদি জমি রয়েছে। এসব উর্বর জমিতে চাষ করে উৎপাদিত ফসলের উপর নির্ভর করে তাদের জীবন চলে। ইটভাটাটি চালু হলে তাদের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হবে। আর এতে তাদেরকে পরিবার-পরিজন নিয়ে অর্ধাহারে অনাহারে দিনাতিপাত করতে হবে। আরেক গরিব কৃষক মো. নূর আলম বলেন, ইটভাটার আশেপাশের জমির মালিকদের জমি বিক্রি করতে বিভিন্নভাবে চাপ দেয়া হচ্ছে। ইটভাটা স্থাপনের বিরোধিতা ও অভিযোগ করায় এলাকার দরিদ্র মানুষদের চাঁদাবাজির মামলায় জড়ানোসহ নানা ধরনের হুমকি দেয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান। 

এলাকাবাসী ও গরিব কৃষকদের স্বাক্ষর সম্বলিত একটি অভিযোগপত্র গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক বরাবরে দাখিল করা হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়, ইটভাটার কারণে এলাকার জমি, ফসল ও গাছপালা নষ্ট হবে। এছাড়াও ইটভাটার মাটি, বালু, কয়লা, ইট পরিবহনের ব্যবহৃত যানবাহন চলাচলের কারণে বায়ু ও শব্দ দূষণে এলাকার সার্বিক পরিবেশ বিষিয়ে উঠবে, মানুষ নানান ব্যাধিতে আক্রান্ত হবে। এতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যহানি ও তাদের যাতায়াতের ক্ষেত্রে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেড়ে যাবে।