সাদুল্লাপুরে আর কত অসহায় হলে সরকারি ঘর পাবে ওরা!

সাদুল্লাপুরে আর কত অসহায় হলে সরকারি ঘর পাবে ওরা!
ছবিঃ সংগৃহীত

আবু তাহের, স্টাফ রিপোর্টার।। শনিবার, ১৩ মার্চ।।মুজিববর্ষে একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই নির্দেশনায় গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় বাস্তবায়ন হচ্ছে আশ্রয়ণ-২ নামের প্রকল্প।কিন্তু ছিন্নমূল পরিবারে কমেলা বেওয়া ও জাহিদ হাসান জরাজীর্ণ ঘরে বসবাস করলে, এই প্রকল্পের আওতায় তাদের ভাগ্যে জোটেনি সরকারি বরাদ্দের ঘর।

সরেজমিনে সাদুল্লাপুর উপজেলার পৃথক ইউনিয়নে দেখা যায়, কমেলা বেওয়া ও জাহিদ হাসানের জরাজীর্ণ বসবাসের চিত্র। জানা যায়, উপজেলার ভাতগ্রাম ইউনিয়নের দক্ষিণ দুর্গাপুর গ্রামের বাসিন্দা কমেলা বেওয়া (৭০)। দাম্পত্য জীবনে ৪ সন্তানের জননী। এসব সন্তান রেখে ৩০ বছর আগে মারা যায় স্বামী জয়নাল মিয়া। এইসব স্ত্রী-সন্তান রেখে পরপারে গেলেও, রেখে যায়নি কোন সহায় সম্বল। শুধু রয়েছে ২ শতক বসতভিটা। এ ভিটাতে জরাজীর্ণ একটি ঘরে দুর্যোগ আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটে কমেলা বেওয়ার। তবে জীবিকার তাগিদে চাটাইয়ের কাজ করেই কোনমতে সংসার চালাতে হচ্ছে তাকে। ইতোমধ্যে অন্যদের সাহায্যে সহযোগিতায় ৩ মেয়েকে বিয়েও দিয়েছেন। একমাত্র ছেলে ছায়দার আলী একজন মানসিক প্রতিবন্ধী। এ ছেলেটাকে নিয়ে জীবনযুদ্ধ তার।দরিদ্রতার সঙ্গে যুদ্ধ করে খেয়ে না খেয়ে কোনমতে বেঁচে আছেন কমেলা বেওয়া। সারাদিন হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করে রাতে একটু ঠিকমতো ঘুমাতে পারেন না। কারণ, কখন যেন প্রাকৃতিক দুর্যোগ উঠে, এমন আতঙ্কে নির্ঘুমে কেটে যায় সারাটি রাত। অপরদিকে, প্রায় একই দশা জাহিদ হাসান (৪৫)‘র। সাদুল্লাপুর উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়নের দক্ষিণ কাজীবাড়ী সন্তোলা গ্রামের মৃত আজহার আলীর ছেলে জাহি।কয়েক শতক জমি ছিল তার। কিন্তু অসুস্থ মেয়েকে চিকিৎসা করাতে গিয়ে সেই জমিটুকুও বিক্রি করতে হয়েছে। এখন ২ শতক জমিতে ছাপড়া ঘরে বসবাস। নানা অভাব অনটনের সংসার। এমন অভাবের কারণে স্ত্রী বিথী বেগম চলে যায় পিতার বাড়িতে। সেখান থেকে বিথী বেগম এখন অন্যের বধূ হিসেবে ঘর সংসার করছেন।

এমতাবস্থায় ২ শিশু ছেলেকে নিয়ে ছাপড়া ঘরে বসবাস করেছে জাহিদ। বসবাস উপযোগি ঘর তুলে সন্তানদের বড় করবেন, এমন সামর্থও নেই তার। সুবিধা বঞ্চিত কমেলা বেওয়া বলেন, অভাব অনটনের কারণে ঠিকমতো অন্ন-বস্ত্র নেই। এমনকি ঘরের মধ্যে ভালোভাবে ঘুমাব, সেটাও পারি না। কখন জানি উপরে পড়ে ঘরটি। এ ভয়ে ঘুম আসে না চোখে। সরকার যদি একটা ঘর দিতো, তাহলে শেষ বয়সে একটু শান্তিতে ঘুমানো যেতো। অপর সুবিধা বঞ্চিত জাহিদ হাসান জানায়, জীবন-জীবিকার তাগিদে সারাদিন হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করতে হয়। কিন্ত ভাঙা ঘরে ঢুকে বেড়ে যায় দুশ্চিন্তা। কালবৈশাখীর ভয়ে দুটি শিশু ছেলেকে নিয়ে ঘরে বসে রাত কাটাতে হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, অনেকে সরকারি পাকা ঘর পাচ্ছেন। এ ঘর পাবার আশায় উপজেলা প্রশাসনসহ জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোন কাজ হয়নি। সাদুল্লাপুর উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান দিদারুল ইসলাম মাসুদ জানান, সুবিধাভোগি জাহিদ হাসানের বিষয়টি জানা রয়েছে। কমেলা বেওয়ার বিষয়টি জানা নেই। দেখা যাক, তাদের জন্য কিছু ব্যবস্থা করা যায় কিনা।.