সেন্টমার্টিন দ্বীপে অপরিকল্পিত ভবন কখনো গ্রহণযোগ্য নয়- পর্যটন সচিব

সেন্টমার্টিন দ্বীপে অপরিকল্পিত ভবন কখনো গ্রহণযোগ্য নয়- পর্যটন সচিব
ছবি: সংগৃহীত

শাহজাহান চৌধুরী শাহীন, স্টাফ রিপোর্টার, কক্সবাজার, ১ অক্টোবর।। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনা অমান্য করে প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনে নতুন করে একের পর অবৈধ ভবনের নির্মাণকাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। আগেরগুলো সংস্কারের পাশাপাশি দ্বীপে নতুন করে আরও ৩০টির বেশি কটেজ ও আবাসিক হোটেল নির্মাণ করা হচ্ছে। 

এবিষয়ে পরিবেশ অধিদফতর ও প্রশাসন এতে কোনও হস্তক্ষেপ করছে না। 
তবে সেন্টমার্টিন দ্বীপে অপরিকল্পিত ভবন কখনো গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোকাম্মেল হোসেন। 
শুক্রবার রাতে কক্সবাজার সৈকতের লাবণী পয়েন্টে পর্যটন মেলার প্যানেল ডিসকাশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।
জানা গেছে, সম্প্রতি কয়েকটি গবেষণায় সেন্টমার্টিনে সমুদ্রের পানিতে ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়ার ভয়াবহ উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এতে জীববৈচিত্র্যের ভয়াবহ চিত্রের বিষয়টিও উঠে এসেছে। সেন্টমার্টিনের স্থাপনা উচ্ছেদে হাইকোর্টের নির্দেশনার পরও একের পর নির্মাণ হচ্ছে নতুন স্থাপনা। পর্যটন মৌসুমকে সামনে রেখে এসব হোটেল-কটেজের অনুমতির জন্য দৌড়ঝাঁপও শুরু হয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে কয়েক বছরের মধ্যে সেন্টমার্টিনের জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দ্বীপের জেটিঘাট থেকে দেড় কিলোমিটার পশ্চিমে কোনাপাড়া সাগরের পাড়ে ‘আটলান্টিক’ নামক আবাসিক হোটেলের পাশে নতুন করে তিন তলা ভবনের কাজ চলছে। যদিও এর আগে নির্মিত হোটেলের দুই পাশে আরও দুটি তিনতলা অবৈধ হোটেল ভবন আছে। এ ছাড়া পশ্চিম কোনাপাড়ায় ‘লাবিবা বিলাস’সহ, দক্ষিণপাড়া, পূর্বপাড়া, গলাচিপা এলাকায় বেশকিছু কটেজ ও আবাসিক হোটেলের সংস্কার কাজ চলছে। আরও ৫-১০টি ছোট-বড় স্থাপনার নির্মাণ কাজ চলছে। এরই মধ্যে দ্বীপে এক বর্গকিলোমিটার এলাকায় গড়ে উঠেছে ৮৪ টি হোটেল-মোটেল ও ৫০টি রেস্টুরেন্ট।
সেন্টমার্টিনের আটলান্টিক হোটেলের ব্যবস্থাপক মো. আমজাদ হোসেন দাবি করেন, ‘আমরা নতুন করে কোনও ভবনের নির্মাণকাজ করছি না। আগে যেটুকু করেছি সে অবস্থায় পড়ে আছে এখনও। তবে এটা সত্য যে দ্বীপে অনেক জায়গায় নতুন করে ছোটবড় স্থাপনা নির্মাণ কাজ হচ্ছে। লোকজন শুধুই আমাদের দুর্নাম ছড়ায়।’
এদিকে, গত জানুয়ারি মাসে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনকে বাঁচাতে একটি বৈঠকে দ্বীপের পরিবেশ, প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষা ও ইকোট্যুরিজম উন্নয়নে কর্মপরিকল্পনাসহ ১৩টি সুপারিশ বাস্তবায়নে কঠোরভাবে নির্দেশ দেয়া হয়। এসব সুপারিশ বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসক, পরিবেশ অধিদফতরসহ দ্বীপের অধীনস্থ সব সংস্থাকে নির্দেশ পালনকালে প্রতি মাসে কাজের অগ্রগতি প্রতিবেদন দেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়।
পরিবেশবাদী ও দ্বীপের বাসিন্দারা বলছেন, ওই নির্দেশের পর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে প্রবাল দ্বীপে জেলা প্রশাসক, পরিবেশ অধিদফতর, স্থানীয় প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কয়েক মাস তৎপরতা দেখা যায়। সে সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে কয়েক দফা উচ্ছেদ অভিযানও চালানো হয়। কয়েক মাস পর ওই তৎপরতা বন্ধ হয়ে যায়। ফলে দ্বীপে নতুন করে স্থাপনা নির্মাণ অব্যাহত আছে। মূলত দ্বীপের উন্নয়নের নামে যেসব ইট, বালু ও রডসহ বিভিন্ন মালামাল আনা হয়, যেসব দিয়ে এখানে স্থাপনার কাজ চলছে। 
অভিযোগ আছে, এই কর্মকাণ্ডে স্থানীয় কিছু জনপ্রতিনিধিও জড়িত রয়েছেন। এভাবে চলতে থাকলে দ্বীপটি একসময় সমুদ্রে তলিয়ে যেতে পারে। বিলীন হতে পারে দেশের মানচিত্র থেকে।
এবিষয়ে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোকাম্মেল হোসেন বলেছেন,
সেন্টমার্টিনে অপরিকল্পিত ভবন কখনো গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন । 
সচিব বলেন, সেন্টমার্টিনে যে হারে অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণ হচ্ছে তা পর্যটনের সঙ্গে যায় না। এ স্থাপনাগুলোর চাপ সেন্টমার্টিন সহ্য করতে পারছে না। এগুলো বন্ধ করার জন্য কাজ চলছে। সবকিছু বিবেচনায় রেখে আপাতত টেকনাফ ঘাট থেকে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া জাহাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। কখন নাগাদ টেকনাফ ঘাট থেকে জাহাজ ছাড়বে তা জানানো হবে।
মোকাম্মেল হোসেন আরও বলন, পর্যটন নগরী কক্সবাজারকে নান্দনিকভাবে সাজাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিকল্পনা রয়েছে। আবার কারো ক্ষতি করে তিনি উন্নয়ন করবেন না। তিনি বঙ্গবন্ধুর কন্যা। নিশ্চিত থাকতে পারেন তিনি কারো ক্ষতি করে উন্নয়ন করবেন না। সবকিছু ইতিবাচক হলে তিনি উন্নয়নের সিদ্ধান্ত নেবেন।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর শুক্রবার রাতে কক্সবাজার সৈকতের লাবণী পয়েন্টে পর্যটন মেলার প্যানেল ডিসকাশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ সব কথা বলেন তিনি।