সুনামগঞ্জবাসীর পাশে জবিস্থ সাভার ছাত্র কল্যাণের শিক্ষার্থীরা

সুনামগঞ্জবাসীর পাশে জবিস্থ সাভার ছাত্র কল্যাণের শিক্ষার্থীরা
ছবি: সংগৃহীত
তানভীর আহমেদ, জবি প্রতিনিধি।। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সাভার ছাত্র কল্যাণ পরিষদের শিক্ষার্থীরা সুনামগঞ্জের বানবাসী এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে আক্রান্ত গণমানুষের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করে।
গত ২৯ শে জুন থেকে ১ জুলাই পর্যন্ত ৩ দিন ব্যাপি চলা ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সফেরগাও, বালিকান্দি ,বনগাও, চিনাউরা, বঙ্গারচর গ্রাম ও দোয়ারাবাজার উপজেলার চকবাজার, এরুয়াখাই গ্রামে ত্রাণ সামগ্রী এবং উপহার বিতরণ করা হয়।
দেশের জাতীয় দুর্যোগে প্রেক্ষাপটে সাভার ছাত্রকল্যাণ পরিষদের কার্যক্রম থাকে চোখে পড়ার মতো। এরই ধারাবাহিকতায় এবছর সিলেট অঞ্চলে বন্যায় ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় সেখানে সাহায্যের জন্য ছুটে যায় সাভার ছাত্রকল্যাণ পরিষদের সদস্যরা। সাভার ছাত্রকল্যাণ পরিষদের সভাপতি লিংকন ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক এ এম তৌহিদুল আকাশ  সহ ১০ জনের একটি দল ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে সুনামগঞ্জ আসে। এ দলকে সার্বিক সহযোগিতা করেন সুনামগঞ্জের সন্তান ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি, ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী কামরুল হুসাইন। 
উক্ত কার্যক্রমের প্রথম দুই দিন সাভার ছাত্রকল্যাণ পরিষদের নিজস্ব সংগ্রহীত তহবিল থেকে ২৬০ টি পরিবারকে ত্রাণ বিতরণ করা হয়। তৃতীয় দিনে সাভার উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আতিকুর রহমান আতিক এর সৌজন্যে আরও ২৪০ টি পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করা হয়। 
এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি কামরুল হুসাইন বলেন, "সুনামগঞ্জের বানভাসী মানুষের আর্তনাদে সহমর্মিতা প্রকাশ করে উপহার নিয়ে পাশে দাঁড়ানোর জন্য জবিস্থ সাভার ছাত্রকল্যাণের প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা"। "আশা করি তারা ভবিষ্যতেও সুনামগঞ্জবাসীর সংকট সংশয়ে পাশে থাকবে।"
সাভার ছাত্রকল্যাণ পরিষদের সভাপতি লিংকন ইসলাম বলেন," বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে আমরা যেকোন দূর্যোগে দেশের মানুষের পাশে এগিয়ে আসি। এবছর বন্যায় সুনামগঞ্জ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়। তাদের কষ্ট সামান্য লাঘবের জন্য আমরা সুনামগঞ্জবাসীর জন্য কিছু উপহার নিয়ে আসি। ইঞ্জিন চালিত নৌকায় ঘুরে ঘুরে আমরা সেসকল উপহার গ্রামবাসীদের হাতে তুলে দেয়।"
সাভার ছাত্রকল্যাণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এ এম তৌহিদুল আকাশ বলেন, "বন্যা সহ অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগে আমরা সব সময় এগিয়ে আসি। সুনামগঞ্জে এসে তাদের কষ্ট চোখে না দেখলে অনুভব করা যায় না। আমরা আবারও ত্রাণ নিয়ে সুনামগঞ্জে আসতে চাই।"
উল্লেখ্য, টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে হঠাৎ করে পুরো সুনামগঞ্জ সহ আশপাশের জেলা পানিতে নিমজ্জিত হয়ে যায়। প্রায় এক সপ্তাহ সারা দেশের সাথে সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার পর তা স্বাভাবিক হয়। তবে এখনও অনেক গ্রাম পানির নিচে রয়েছে।