স্বাচিপ মহাসচিব পদে আলোচনায় প্রফেসর ডা. আবু জাফর চৌধুরী বীরু

স্বাচিপ মহাসচিব পদে আলোচনায় প্রফেসর ডা. আবু জাফর চৌধুরী বীরু
ছবি: সংগৃহীত

কামরুল হাসান শিশির।। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অবিচল পেশাজীবি চিকিৎসকদের দাবি দাওয়া আদয়ের একমাত্র সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) এর পঞ্চম সম্মেলন আগামী ২৫ নভেম্বর। এই সম্মেলনের মাধ্যমে নির্বাচিত হবে আগামী ৩ বছরের জন্য চিকিৎসক নেতৃত্ব। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে এই সংগঠনের প্রতিনিধি নির্বাচন করবেন।

এবার স্বাচিপ প্রতিনিধি দৌঁড়ে বেশ কয়েকজন চিকিৎসক আলোচনায় আছেন। তারমধ্যে মহাসচিব পদে অধ্যাপক ডা. আবু জাফর চৌধুরী (বীরু) অন্যতম। 

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থপেডিক বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান ও নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের ১নং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ডা. আবু জাফর চৌধুরী (বীরু) স্বাচিপের বর্তমান কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।

এবার স্বাচিপ প্রতিনিধি দৌঁড়ে সভাপতি হিসেবে অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া, অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান, অধ্যাপক ডা. এম এ আজিজ, অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ ও বর্তমান সভাপতি অধ্যাপক ডা. ইকবাল আর্সনালের নাম শোনা যাচ্ছ। মহাসচিব পদে প্রফেসর ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়া, প্রফেসর ডা.বায়জিদ খুরশিদ রিয়াজ, অধ্যাপক ডা. তারেক মেহেদী পারভেজ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা অনুষদের ডিন প্রফেসর ডা. শাকিল আহমেদ ও প্রপেসর ডা. আবু জাফর চৌধুরী বীরুর নাম শোনা যাচ্ছে।

অধ্যাপক ডা. বীরু ইতিমধ্যে তার নেতৃত্বগুন ও দলের আনুগত্যের কারণে বেশ প্রশংসনীয়। তার দ্বারা গত ৫ বছরে সংগঠনের সদস্যদের দাবি আদায় ও সংগঠন বেশ বেগবান ছিল। 

চিকিৎসকদের দাবি প্রফেসর বীরুকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মহাসচিব নির্বাচিত করলে স্বাচিপ বিগত দিনের থেকে ভালো নেতৃত্ব পাবে। তাই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের চিকিৎসকরা বীরুকে সমর্থন দিচ্ছে বলেও জানা যায়। 

১৯৬৯ নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও এলাকায় জন্মগ্রহণ করা প্রফেসর ডা. আবু জাফর চৌধুরী বীরু ছাত্রজীবন থেকেই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে বেশ পরিচিত। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে পড়া অবস্থায় ১৯৮৭ সাল থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে ছাত্রলীগের বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন নেতা। এই সময়ে তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৯৬ সালে চিকিৎসক হিসেবে পেশাগত জীবন শুরুর পর থেকেই স্বাচিপের কর্মী হিসেবে দলের দায়িত্ব নিয়ে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কাজ করার পাশাপাশি রাজপথে বিভিন্ন আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৯৮ সালে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোশিয়েশন এর স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) মনোনীত প্যানেলে কেন্দ্রীয় কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত হন।  এরপর ২০০৩ সালে স্বাচিপের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা ও তার পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন আন্দোলনে আহতদের চিকিৎসা দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অবিচল চিকিৎসকদের মধ্যে বেশ আলোচনায় আসেন এই চিকিৎসক নেতা। 

২০০৯ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টরের দায়িত্ব পালন করেন এই প্রথিতযশা চিকিৎসক।

সূত্র বলছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেশ আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত প্রফেসর ডা. আবু জাফর চৌধুরী বীরুর হাতেই যাচ্ছে মহাসচিবের দায়িত্ব।