স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে সচল মানুষ

স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে সচল মানুষ
ছবি: সংগৃহীত

সিলেট অফিস।। 17 জুলাই, শনিবার।। করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির ফলে সারাদেশে কয়েক দফা লকডাউনের পর গত ১ জুলাই থেকে ৭ জুলাই পর্যন্ত প্রথমে কঠোর লকডাউন ঘোষণা করা হয়। পরে এর মেয়াদ আরও ৭ দিন বাড়িয়ে ১৪ জুলাই মধ্যরাত পর্যন্ত করা হয়। তবে পবিত্র ঈদ উল আযহা উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১৫জুলাই) থেকে লকডাউন শিথিল করা হয়েছে। 

এমন খবরে বুধবার মধ্যরাত থেকে সিলেটেসহ সারাদেশে সড়কে বাড়তে থাকে যানবাহনের চাপ। এদিকে সিলেটে প্রতিদিন বাড়ছে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা। বৃহস্পতিবার শিথিলের প্রথম দিনে সিলেটে দেখা যায় দীর্ঘ যানজট ও মানুষের উপচেপড়া ভিড়। ফলে বাড়ছে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা। বিষয়টির সাথে একইভাকে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরাও। 
তাদের মতে, স্বাস্থ্যবিধি না মেনে গা ভাসিয়ে দিলে এই খুশির ঈদই কাল হতে পারে। তাই পশুর হাট ও মার্কেটসহ জনসমাগম এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। 
তারা বলছেন, পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের করোনা সংক্রমণের ভয়াবহতার জন্য ধর্মীয় ও রাজনৈতিক সমাবেশকে দায়ী করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। আমাদের দেশেও সংক্রমণ আর মৃত্যু বেড়েই চলছে।
লকডাউন শিথিলের এ সময় সবাইকে ঘরে থাকার পরামর্শ দিয়ে ওসমানী হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. হিমাংশু লাল রায় বলেন, এই সময়ে অতি জরুরি না হলে ঘর থেকে না বের হওয়াই ভালো। কেননা করোনা খুবই মারাত্মক একটা ভাইরাস। বিশ্বের কোনো দেশে এখন পর্যন্ত এ রোগের কর্যকর কোনো চিকিৎসা আবিষ্কার হয়নি। টিকা দেওয়ার পরও আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়। তাই যতটা সম্ভব বাজার ও জনসমাগম এড়িয়ে চলতে হবে। অহেতুক বাইরে গেলে নিজে ও পরিবারের সদস্যদের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
লকডাউনের এই সময় স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতের পাশাপাশি সবাইকে টিকা গ্রহণের আহŸান জানিয়ে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এম এ আজিজ জানান, করোনা থেকে মুক্তির এই দুই রক্ষাকবচ ছাড়া এই মুহূর্তে আর বিকল্প নেই। তিনি বলেন, করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুহার উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। সন্তোষজনক করোনা নিয়ন্ত্রণ হয়নি। এর মধ্যে পবিত্র ঈদুল আজহা চলে আসছে। ঈদের সঙ্গে মানুষের ধর্মীয় অনুভূতি জড়িত। তাছাড়া বিভিন্ন খামারি ও ব্যবসায়ীদের বড় অর্থনৈতিক প্রবাহ জড়িত। এমনও অনেকেই আছেন, যারা সারা বছর বিনিয়োগ করে পশু পলন করেন এই ঈদে বিক্রি করার জন্য। তাই সব বিষয় চিন্তা করে সরকার লকডাউন শিথিল করেছে। 
এদিকে, সিলেট অঞ্চলে কুরবানীর পশুর হাট বসছে প্রায় ৫৮ টি। শনিবার থেকে নির্ধারিত স্থানগুলোতে বসছে কোরবানি পশুর অস্থায়ী হাট। তবে বিভিন্ন স্থায়ী হাটসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কোরবানি পশুর বেচাকেনা জমে উঠেছে। এসব হাটে শারীরিক দূরত্ব বা স্বাস্থ্যবিধি মানার ব্যাপারে তেমন আগ্রহ দেখা যায়নি। সবাইকে জনসমাগ এড়াতে কোরবানি পশুর হাটে না গিয়ে অনলাইনে গরু কেনার পরামর্শ দিয়েছে অনেকেই।

প্রসঙ্গত,পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন, জনসাধারণের যাতায়াত, ঈদ-পূর্ববর্তী ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা, দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থা এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে ২৩ জুলাই সকাল ৬টা পর্যন্ত আরোপিত সব বিধিনিষেধ শিথিল করা হয়। 
তবে এ সময়ে জনসাধারণকে সতর্কাবস্থায় থাকা এবং মাস্ক ব্যবহারসহ স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে অনুসরণ কারার নির্দেশ দেওয়া হয়। ঈদের পর ২৩টি শর্ত সংযুক্ত করে ২৩ জুলাই সকাল ৬টা থেকে ৫ আগস্ট দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত ফের কঠোর লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে।