সাভারে গার্মেন্টসকর্মী পলি হত্যার প্রধান পরিকল্পনাকারী রেজাউলসহ গ্রেফতার-০৩

সাভারে গার্মেন্টসকর্মী পলি হত্যার প্রধান পরিকল্পনাকারী রেজাউলসহ গ্রেফতার-০৩
ছবি: সংগৃহীত

ডেস্ক রিপোর্ট।। আশুলিয়া থানাধীন ছিকন্দীয়ায় গার্মেন্টসকর্মী পলি হত্যা মামলার প্রধান পরিকল্পনাকারী রেজাউলসহ ০৩ জন’কে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৪। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকা জেলার আশুলিয়া থানাধীন টংগাবাড়ী, হাকিমপল্টি এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে  পলি হত্যা মামলার প্রধান পরিকল্পনাকারী মোঃ রেজাউল (৪২)’সহ উক্ত হত্যাকান্ডের সহযোগী সামিউল (৩২)’ ও সাইফুল (৪৯)’কে গ্রেফতার করে। 

গ্রেফতারের বিষয়টি  সিপিসি-২,র‍্যাব-৪, নবীনগর, সাভারে এক  প্রেস ব্রিফিং করে লেঃ কমান্ডার মোহাম্মদ  আরিফ হোসেন নিশ্চিত করেন। 

র‌্যাবের এ কর্মকর্তা জানান, গত ২০ অক্টোবর ২০২২ তারিখ ঢাকা জেলার আশুলিয়া ধানাধীন ছিকন্দিয়া এলাকায় বিকাল আনুমানিক ০৪.৩০ টার সময় স্থানীয় লোকজন একটি অর্ধগলিত লাশ দেখতে পায়। এলাকাবাসী প্রাথমিকভাবে উক্ত মৃত দেহটি গার্মেন্টসকর্মী পলির বলে ধারনা করে। তারা পলির আত্মীয় স্বজনদের বিষয়টি জানায়। খবর পেয়ে ভিকটিম পলির ভাই-বোন ঘটনাস্থলে গিয়ে অজ্ঞাতনামা লাশটি পলির বলে সনাক্ত করতে সক্ষম হয়। পরবর্তীতে ভিকটিমের বোন বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামী করে একটি হত্যামামলা দায়ের করে। মামলার সূত্র ধরে আজ ২১ অক্টোবর ২০২২ তারিখ ভোরে র‌্যাব-৪ এর অবভযুক্তদের গ্রেফতার করে। 

লেঃ কমান্ডার মোহাম্মদ  আরিফ হোসেন অরো জানান, গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ ও ঘটনার বিবরণে জানা যায় যে, আসামী মোঃ রেজাউল তার স্ত্রী সন্তানসহ আশুলিয়ার টংগাবাড়ী হাকিমপট্টি এলাকায় বসবাস করে আসছিল। সে পেশায় একজন চায়ের দোকানদার। তার দুই সহযোগী সামিউল ও সাইফুল একই এলাকার পূর্ব পরিচিত এবং তারা তিন জনই পরস্পরের বন্ধু। ঝালকাঠি সদর থানার পাঞ্জিপুথিপাড়া গ্রামের মৃত হাশেম মোল্লার মেয়ে ভিকটিম পলি (৩১) পেশায় একজন গার্মেন্টসকর্মী। আসামী রেজাউল তার স্ত্রীসহ উক্ত বাসায় এবং ভিকটিম আসামি রেজাউলের বাসার পাশের রুমে একা বসবাস করত।

ভিকটিম পলির পলাশ নামক এক যুবকের সাথে পূর্বে বিবাহ হয়েছিল। পলাশ বাকপ্রতিবন্ধী ছিল, হঠাৎ একদিন বাসা থেকে বেরিয়ে যায় এবং আর ফিরে আসে নাই। পলাশ ও ভিকটিমের সংসারে সুমি (১৫) ও সাকিব (৭) নামে দুটি সন্তান রয়েছে। পাশাপাশি বাসায় বসবাসের কারনে আসামী রেজাউল ও ভিকটিম পলির মধ্যে সুম্পর্ক গড়ে উঠে যা পরবর্তীতে প্রেমের সম্পর্কে রুপ নেয়। ভিকটিম প্রায়ই গার্মেন্টস ছুটির পরে আসামী রেজাউলকে ফোন দিত এবং আসামী রেজাউল প্রায় রাতেই ভিকটিমের বাসায় যেত। এভাবে তাদের সম্পর্ক গভীর হতে থাকে। তাদের এহেন অনৈতিক সম্পর্কের কথা আসামীর স্ত্রী জানতে পারে এবং  রেজাউলকে অনেক গালাগাল করে। পরবর্তীতে ভিকটিম সম্পর্কের গোপনীয়তা রক্ষায় উক্ত বাসা ছেড়ে অন্য একটি বাসা ভাড়া নেয়। নতুন বাসায় যাওয়ার পরেও তাদের এরুপ অনৈতিক সম্পর্ক চলতে থাকে। ঘটনার কয়েকদিন পূর্বে ভিকটিম পলি রেজাউলকে তাদের বিয়ের কথা বললে রেজাউল বিভিন্ন তালবাহানা করে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। 

ভিকটিম বিষয়টি মানতে না চাইলে আসামী রেজাউল, তার পাড়াত বন্ধু সাইফুল এবং অটোরিক্সা চালক সামিউলকে নিয়ে আসামী রেজাউলের চায়ের দোকানে বসে ভিকটিমকে হত্যার একটি ঘৃন্য পরিকল্পনা করে। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী আসামী রেজাউল গত ১১ অক্টোবর ২০২২ তারিখ রাত অনুমান ০৯.৩০ ঘটিকার সময় ভিকটিমের গামের্ন্টস ছুটি হওয়ার পর মোবাইল কল দিয়ে ভিকটিমকে আজকেই বিবাহ করবে বলে জানায়। পরবর্তীতে রেজাউল তার সঙ্গীয় সাইফুল ও সামিউলকে নিয়ে অটোরিক্সাযোগে ভিকটিমের গার্মেন্টস এর সামনে হতে ভিকটিমকে কাঠগড়া কাজী অফিসের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে বড়বিচা নামক স্থানে এক নির্জন জঙ্গলের পথে নিয়ে যায়। ছিকন্দিয়ার কাছে সামিউল রিক্সার গতি কমালে আসামী রেজাউল ভিকটিমকে হেঁচকা টান দিয়ে রিক্সা থেকে মাটিতে ফেলে দেয়। তখন সাইফুল ও সামিউল ভিকটিমের হাত-পা চেপে ধরলে রেজাউল সামিউলের মাথায় বাধা থাকা গামছা নিয়ে ভিকটিমের গলা পেচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এরপর মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য সামিউল ছুরি দিয়ে ভিকটিমের গলা কেটে মৃত দেহটি পার্শ্ববর্তী পরিত্যাক্ত কুয়ার ভিতর ফেলে দেয়। পরবর্তীতে আসামীরা সামিউল এর অটোরিক্সা যোগে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে এব স্বাভাবিক জীবন যাপন শুরু করে।

গ্রেফতারকৃত আসামীদের’কে সংশ্লিষ্ট থানায় হন্তান্তর কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।