সীমান্তের চোরাই পথে আসছে মিয়ারমার ও থাইল্যান্ডের গবাদিপশু 

সীমান্তের চোরাই পথে আসছে মিয়ারমার ও থাইল্যান্ডের গবাদিপশু 
ছবি: সংগৃহীত

শাহজাহান চৌধুরী শাহীন, স্টাফ রিপোর্টার, কক্সবাজার, ১৯ জুন।।দুয়ারে কড়া নাড়ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। এই ঈদের প্রধান আনুষ্ঠানিকতা হলো পশু কোরবানি। দেশে মূলত কোরবানি করা হয় গরু, ছাগল, ভেড়া ও উট। এবারের ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই বলে দাবি প্রাণিসম্পদ বিভাগের। তারপরও বৈধ-অবৈধ দুভাবেই সীমান্ত পথে মিয়ানমার, থাইল্যান্ড ও ভারত থেকে গরু আসছে। যদিও অন্যান্য বছরের তুলনায় গরু আসার সংখ্যা এবার কম। গত বছর ঈদের আগ মুহূর্তে সীমান্ত পথে মিয়ানমারের  গরু আসার কারণে বাজারে বিরূপ প্রভাব ফেলেছিল, এ জন্য পুরোপুরি শঙ্কামুক্ত হতে পারছেন না খামারিরা।

জানা গেছে, মিয়ানমার থেকে রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে বাংলাদেশে আসা ৯টি চোরাই গরু জব্দ করেছে নাইক্ষ্যংছড়ি ১১ বিজিবি। শনিবার ১৮ জুন ভোরে এসব গরু জব্দ করা হয়।
বিজিবি জানান,গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ১১ বিজিবির একটি টিম কক্সবাজারের রামু গর্জনিয়া পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ সদস্যদের নিয়ে রামুর গর্জনিয়া ইউনিয়নের মরিচ্যা চর এলাকার গহীন বন বাঘ ঘোনা পাহাড়ে যৌথ অভিযান চালায়। সীমান্ত পেরিয়ে পাচারের সময়
শনিবার ভোররাত ৪ টার দিকে ৯ টি গরু জব্দ করা হয়।
স্থানীয়রা জানায়, বিজিবির অভিযান টের পেয়ে আরো ৫১ টি গরু গহীন অরন্যে নিয়ে যায়। এগুলো যেকোন সময় পাচার হতে পারে।
নাইক্ষ্যংছড়ি ১১ বিজিবির জোন কমান্ডার ও অধিনায়ক লে. কর্ণেল মো. নাহিদ হোসাইন জানান, সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি অস্ত্র, ইয়াবা,সন্ত্রাস বিরোধী কার্যক্রম ও চোরাই পথে আনা গরু সহ সবধরনের পণ্য আটকে সীমান্তে বিজিবি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। 
একই ভাবে আলীকদম উপজেলার কুরুকপাতা ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ি মিরিন চর পয়েন্টে চোরাচালানিদের কবল থেকে ৫৭ টি গরু আটক করেছে ৫৭ বিজিবি। আটক গরুগুলোর মূল্য প্রায় ২২ লাখ ৯৫ হাজার টাকা হবে বলে ধারণা করা হয়েছে। বুধবার ভোরে এসব গরু আটক করা হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ত্রি-দেশিয় একটি চক্র সীমান্তে চোরাচালান কর্মকান্ড চালিয়ে আসছে। সম্প্রতি কোরবানীর মৌসুমকে সামনে রেখে গরু বাজারজাতে বাংলাদেশকে টার্গেট করে চক্রটি। 

এ ধারাবাহিকতায় ভৌগোলিকভাবে অনুকূল হওয়ায় থাইল্যান্ড থেকে অবৈধভাবে গরু মিয়ানমার হয়ে আলীকদম-নাইক্ষ্যংছড়ি ও রামু উপজেলার পাহাড়ি সীমান্ত পথ অতিক্রম করে বাংলাদেশে আনছে।এর আগে বিজিবি সদস্যরা ৪০টি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেহরুবা ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশ দল ২৫ টি বিদেশি গরু আটক করে সেগুলো নিলামে বিক্রি করে দেন।
বিজিবি কর্মকর্তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ চোরাই পথে থাইল্যান্ড ও মিয়ানমার হতে গরু পাচার করছেন কিছু অসাধু ব্যবসায়ী। গরুগুলো এদেশের নয়, তাই সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে গরুগুলো আটক করা হচ্ছে। কোন অবস্থায় অবৈধ চোরাই পথে আসা গরু পাচারের সুযোগ দেওয়া হবে না। 
এদিকে, কক্সবাজারের রামু ঈদগড় এলাকার সংবাদ কর্মী জাফর আলম জুয়েল জানান, শনিবার রাতে বিপুল সংখ্যক থাইল্যান্ড ও মিয়ানমারের গরু পাচারের জন্য সীমান্তে মজুদ করেছে চোরাচাহনী চক্র। এসব অবৈধ গরু ঈদগড় বৈদ্য পাড়া হয়ে ব্যাংডেফা ও ঈদগাঁও-ঈদগড় সড়ক পথে যেকোম সময় পাচার হতে পারে।
তিনি আরও জানান, মিয়ানমার ও থাইল্যান্ড থেকে অবৈধ পথে আসা গরুর চালান এরআগে রাঙ্গা ঝিরি ও আলিক্ষ্যংয়ের পাশ্ববর্তী এলাকায় মজুদ করে তা সুবিধাভোগী লোকজন সম্প্রতি পাচার করে দিয়েছে। প্রতিদিনই চোরাই পথে আসা গরু পাচার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সবাইকে সজাগ দৃষ্টি রাখার আহবান জানান তিনি। 
মিয়ানমার সীমান্ত পথ পাড়ি দিয়ে গত কয়েক মাস ধরে ব্রাহামা প্রজাতির গরু আলীকদম, নাইক্ষ্যংছড়ি, রামু ও উখিয়া উপজেলার সীমান্ত হয়ে বাংলাদেশে ঢুকছে। এতে জড়িয়ে পড়েছে এলাকার অনেক রতি-মহারতি। এমনকি কয়েকজন জনপ্রতিনিধিও। 
পাহাড়ি সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে বিদেশি গরু আসা অব্যাহত থাকলে কোরবানির ঈদে দেশীয় খামারিরা লোকসানের কবলে পড়বেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।