সিলেটের দর্জিপাড়ায় শেষ মুহুর্তের ব্যস্ততা বাড়ছে

সিলেটের দর্জিপাড়ায় শেষ মুহুর্তের ব্যস্ততা বাড়ছে
ছবি: সংগৃহীত

সিলেট অফিস।। ০৮ মে, শনিবার।। ঈদকে সামনে রেখে সিলেটের দর্জিপাড়ায় ব্যস্ততা বেড়েই চলেছে। সময় যত ঘনিয়ে আসছে ক্রেতা সাধারণ তাদের পছন্দমতো জামা তৈরির জন্য ততই ব্যস্ত হয়ে উঠছেন। সিলেট নগরীর বিভিন্ন মার্কেট থেকে শুরু করে মফস্বল এলাকার দর্জিরাও তাই শেষ মুর্হুতের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্ডারের পোশাক সরবরাহ করতে হিমশিম খাচ্ছেন দর্জিরা। দর্জি দোকানগুলোয় এখন রাতদিন সুঁই-সুতার কাজ কাজ চলছে। গেল সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহে দিগুণ চাপ পড়েছে কাজে। তাই নতুন করে আর অর্ডার নিচ্ছেন না নামিদামি দর্জি দোকানিরা।
সিলেটের ‘দর্জিপাড়া’ হিসেবে খ্যাত কুদরত উল্লাহ মার্কেট, পঞ্চখানা, ইদ্রিছ মার্কেট, সমবায় ভবন, কাজি ম্যানশন, মধুবন মার্কেট, শুকরিয়া মার্কেট, সিলেট প্লাজা মার্কেটের বিভিন্ন দর্জি দোকানে সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, কারিগরদের এখন দম ফেলার সময় নেই। এই ব্যস্ততা চলবে চাঁদরাত পর্যন্ত।
দর্জিরা জানান, ঈদের জন্য রমজানের শুরু থেকেই অর্ডার আসতে থাকে। ১৫ রমজানের পর অনেক দোকানেই নতুন করে অর্ডার রাখা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বর্তমানে পুরোনো অর্ডারের কাজ শেষ করার চেষ্টা করছেন দর্জিরা। বিশেষ করে নারীদের পোশাক তৈরির দোকানগুলোতে বাড়তি ব্যস্ততা রয়েছে।
সিলেট সিটি সেন্টারে পোশাক বানাতে আসা তরুণী সামিয়া সুলতানা বলেন, ঈদের সময় সবাই চায় নিজের নতুন পোশাক দিয়ে অন্যকে চমকে দিতে। রেডিমেড পোশাকের দোকানে একই নকশার অনেক পোশাক বানানো হয়ে থাকে। বেশিরভাগ সময়ই দেখা যায়, সেখান থেকে কেনা পোশাকের নিজস্বতা থাকে না। এজন্য প্রতিবারই ঈদে নিজের পছন্দমতো কাপড় কিনে দর্জির কাছে বানাতে দেই। এবারও ব্যতিক্রম হয়নি।
আল মারজান দর্জি দোকানের মাস্টার জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ঈদ সামনে রেখে দিনরাত কাজ চলছে। দম ফেলার সময় নেই। চার-পাঁচ ঘণ্টা ঘুমিয়ে বাদ বাকি সময় চলছে কাজ। এবার ঈদ উপলক্ষে লং কামিজ, জিপসি, আনার কলি, বাইশ কলি ডিজাইন নামে জামা বানানোর চাহিদা বেশি।
সেলাইয়ের ধরন ও নকশার ভিন্নতার জন্য দর্জিবাড়িতে একেক পোশাকের মজুরিও হয়ে থাকে ভিন্ন। লং কামিজ বানাতে খরচ পড়ছে ৩৫০ থেকে ৮০০ টাকা, সালোয়ারসহ ডাবল কামিজ ৭০০ থেকে ১৫০০ টাকা, আনারকলি ৯০০ থেকে ১৭০০, ফ্রক কাটের সালোয়ার-কামিজে খরচ ৮০০ থেকে ১৪০০ টাকা, সুতি কাপড়ের সালোয়ার-কামিজের খরচ ৪০০ থেকে ৯০০ এবং বøাউজ ডিজাইনভেদে ২০০ থেকে ৬০০ টাকা।
দর্জিরা জানান, ছেলেদের পাঞ্জাবি বানাতে খরচ পড়ছে ৪০০ থেকে ১০০০ টাকা। পায়জামার জন্য দিতে হচ্ছে ২০০ থেকে ৫০০, শার্টে ৩০০ থেকে ৮০০, প্যান্ট সাড়ে ৩০০ থেকে ৭০০ টাকা।
শুক্রবার রাতে খোঁজখবর নিতে গেলে নগরীর বেশ কয়েকজন দর্জি জানালেন, পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে ২০ রমজানের পর থেকে। তারা কিছুটা কাজ পেতে শুরু করেছেন। খুব ভালো অবস্থা না হলেও মেশিন নিয়ে এখন আর কেবল বসে থাকতে হচ্ছেনা তাদের। কিছুটা হলেও কাজ পাচ্ছেন এবং আয়-রোজগারও কিছুটা হচ্ছে।