সিলেটের ১ম মডেল মসজিদ ও একজন মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী 

সিলেটের ১ম মডেল মসজিদ ও একজন মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী 
ছবিঃ সংগৃহীত

শফিক আহমদ শফি।। সিলেট, ১২ জুন শনিবার।। 
১০জুন বৃহস্পতিবার সারাদেশের ৫০টি মডেল মসজিদ এর সাথে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কণফারেন্সের মাধ্যমে দক্ষিণ সুরমায় সিলেটের ১ম মডেল মসজিদের উদ্বোধন করেন। এ মহতি অনুষ্ঠানে সিলেটের ডিসি এম কাজী এমদাদুল ইসলাম,দক্ষিণ সুরমার ইউএনও আব্দুল হক,জেলা, মহানগর, উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ এবং প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা উপস্হিত ছিলেন।

অনুপস্হিত ছিলেন মডেল মসজিদের স্বপ্নদ্রষ্টা, এ আসনের সাবেক সাংসদ মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী। যার সমগ্র  আগ্রহ ও উচ্ছাস ছিল মসজিদকে ঘিরে। যার চেষ্টা ও সাধনায়  গত ২০১৮ সালের ৫ এপ্রিল সারা দেশের ১০টি মডেল মসজিদ এর সাথে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভিত্তিপ্রস্হর স্হাপন করেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সময়ের ব্যবধানে মসজিদসহ সবই হলো কিন্তু সামাদ চৌধুরী দেখে যেতে পারলেন না।মসজিদ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে  জেলা মহানগর কিংবা উপজেলা আওয়ামী লীগের কোন নেতা মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কে স্মরণ না করলেও স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী কয়েক বার তাকে স্মরণ করে আমাদেরকে কৃতজ্ঞতা পাশে আবদ্ব করে রাখলেন।তার জন্য দোয়া চাইলেন।

 যা নির্বাচনি এলাকার বাসিন্দা হিসেবে গর্ব করার মতো বিষয়। কিন্তু দূঃখের বিষয় কালকের এ অনু্ষ্টানে দলীয়  পদবীধারী অনেক নেতা যারা সব সময় মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর ডানে বামে থাকতেন, সুযোগ সুবিধা নিতেন, তারা একটিবার তার কথা উচ্চারণ করেননি। ফলে এ নিয়ে সুধীমহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।হতাশ হয়েছেন সাধারন নেতাকর্মী। দক্ষিণ সুরমা উপজেলার হাতে খড়ি তৎকালীন সাংসদ শফি চৌধুরীর মাধ্যমে , তিনি বীজ বপন করেছিলেন বলেই আজ ফুলে ফলে সুসজ্জিত পুরো উপজেলা। আর  মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর মাধ্যমে পেয়েছে পূর্নতা। উপজেলা স্বাস্হ্য কমপ্লেক্স, উপজেলা মডেল মসজিদসহ নানাবিধ উন্নয়ন কর্মকান্ড সম্পন্ন করে পুরো উপজেলাবাসীর মনে ঠাই নিয়ে ছিলেন সামাদ চৌধুরী। কিন্তু বিধির বিধান সময়ের আগেই তিনি আমাদের ছেড়ে পরপারে পাড়ি দিয়েছেন। যা আমাদের সকলকেই মেনে নিতে হবে। তাই বলে তার কর্মের কথা তো অস্বীকার করা যাবেনা। যার যেটা প্রাপ্য তাকে সেটা দিতে হবে, নতুবা সমাজে গুনী মানুষের আবির্ভাব হবেনা। সকল ক্ষেত্রে কর্মের স্বীকৃতি হবে। মরনশীল জীব হিসেবে আমাদেরকে সর্বাবস্থায় মহতপ্রান মানুষদের মনে রাখতে হবে। উদ্বোধনের পর থেকে  দক্ষিণ সুরমা উপজেলা মডেল মসজিদ দেখতে প্রতিদিন শতশত মানুষ সেখানে ভীড় করছেন আর স্মরণ করছেন  তৎকালীন এমপি সামাদ চৌধুরীর নাম। যা যুগ যুগ ধরে হয়তো স্মরণে থাকবে। সুবিধাভোগিরা স্মরণ না করলে কোন কমতি হবেনা। আগামী প্রজন্মের কাছে  তিনি প্রেরনা হয়ে থাকবেন। পরিশেষে কর্মগুনে প্রশংসার দাবীদার সাবেক সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর রুহের মাগফেরাত কামনা করছি। লেখক, গণমাধ্যম কর্মী ও রোটারিয়ান।