সিলেটে চেয়ারম্যানের আনারস বাগানকে ঘিরে দর্শনার্থীদের ভিড়

সিলেটে চেয়ারম্যানের আনারস বাগানকে ঘিরে দর্শনার্থীদের ভিড়
ছবিঃ সংগৃহীত

এস এ শফি, সিলেট।। ১৪ জুন।।সিলেটের ঢাকাদক্ষিণ দত্তরাইলের আবদুল মতিন চান মিয়া চেয়ারম্যানের আনারস বাগানে এখন প্রতিদিন হাজারো দর্শক ভিড় করছেন। আনারস বাগানটি ইতিমধ্যে সিলেটের অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত লাভ করেছে। শহরের কোলাহল থেকে মুক্ত হয়ে একটু প্রশান্তির জন্য শহরের কাছেই একটি সুন্দর জায়গা যেন পুরো সিলেট জুড়ে নতুন আকর্ষনের সৃষ্টি করেছে। আনারস বাগানে সারাদিনই লেগে থাকে পর্যটকদের ভিড়। তবে দুপুর গড়িয়ে বিকেল হলে ঢল নামে পর্যটকদের। গাড়ি ও মোটর সাইকেল নিয়ে হাজারো দর্শণার্থী আসেন বাগানে। 
জানা যায়, সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম আব্দুল মতিন চান মিয়ার ৮ পুত্র ৭টি টিলায় প্রায় ৭০ কেদার ভূমিতে হানিকুইন আনারস চাষের উদ্যোগ নেন ২০১৮ সালে। আর বাগান তৈরী হয় ২০১৯ সালে। শ্রীমঙ্গল থেকে হানিকুইন আনারসের চারা সংগ্রহ করে এই টিলাগুলোতে রোপণ করা হয়। আনারসের জন্য বাগান তৈরি করতে তাদের ব্যয় হয় ২৫ লক্ষ টাকা। বর্তমানে টিলাগুলোতে প্রায় ২ লক্ষ আনারসের গাছ করেছেন। আকার ভেদে আনারসের হালি ২শ’ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। ইতিমধ্যে আনারস সংগ্রহ ও বিক্রি শেষ হয়ে গেছে। তাই বাগান কতৃপক্ষ বাগানের ভিতরে দর্শনাথীদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। 
মে-জুন মাস মূলত এসব আনারসের মৌসুম। তবে কিছু কিছু জুলাই পর্যন্ত পাওয়া যায় বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। 
গত শনিবার আনারসের বাগানে গিয়ে দেখা যায়, বাগানের আনারস বিক্রি শেষ হয়ে গেলেও পুরো বাগান এলাকাজুড়ে দর্শনার্থীদের ভিড়। অনেকে আবার বাগানের ভিতরে প্রবেশ করতে না পেরে বাগানের সামনে দাঁিড়য়ে ছবি তুলছেন। বাগানের প্রবেশ মুখে স্থাপিত দোকানে দর্শনার্থীদের জন্য আনারসের জুস এবং কেটে খাওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। দর্শনার্থীরা বাগানের আনারস দেখা থেকে বঞ্চিত হলেও আনারসের স্বাদ নিতে পারছেন। 
দর্শনার্থী প্রবাসী সাহেল আহমদ বলেন, বেশ কিছু দিন থেকে ফেইসবুকে আনারস বাগান নিয়ে পোস্ট দেখতে পেয়ে এখানে ঘুরতে এসেছি সবাইকে নিয়ে। এখানে এসে ভালো লেগেছে। চারপাশের পরিবেশ আর আনারসের ঘ্রাণ আমাদের সবাইকে যেন মুগ্ধ করে তোলেছে।
চান্দ মিয়া আনারস বাগানের স্বত্বাধিকারী আমেরিকা প্রবাসী রুহুল আবেদ জানান, ২ হাজার শতক জায়গায় দুই লক্ষ আনারস চারা রোপণ করেছেন তারা। ফলন ও ভালো হয়েছে এবং ভালো দামে বিক্রিও হয়েছে। আনারস চাষ করতে যা খরচ হয়েছে-তার দ্বিগুণ লাভ করতে পারবেন বলে জানান তিনি। আনারস বাগানের আয়ের ৭০ ভাগ টাকা চান মিয়া এডুকেশন ট্রাস্টে দান করা হবে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, তাদের দেখে বাড়ির আশেপাশের অনেকেই বাণিজ্যিকভাবে আনারসের চাষাবাদ শুরু করবেন বলে জানিয়েছেন। এতে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার পাশাপাশি বেকারত্ব সমস্যাও দূর হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
গোলাপগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান বলেন, গোলাপগঞ্জ উপজেলায় কয়েকটি স্থানে তাদের উদ্যোগে আনারসের চাষ শুরু হয়েছে। আনারস একটি অর্থকরী ও পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ ফল। সবাই যদি আনারস চাষে এগিয়ে আসেন তাহলে গোলাপগঞ্জ উপজেলা আনারস নগরীতে পরিণত হবে। এছাড়া মানুষের পুষ্টি চাহিদা পূরণ সহ বিনোদনেরও ব্যবস্থা হবে। এ ব্যাপারে কৃষি বিভাগ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে বলে জানান তিনি।