সিলেটে ঢিলেঢালাভাবে চলছে ‘কঠোর লকডাউন’ ২০২ মামলায় ২ লক্ষ ২০ হাজার টাকা অর্থদন্ড

সিলেটে ঢিলেঢালাভাবে চলছে ‘কঠোর লকডাউন’ ২০২ মামলায় ২ লক্ষ ২০ হাজার টাকা অর্থদন্ড
ছবি: সংগৃহীত

সিলেট প্রতিনিধি।। 07 জুলাই, বুধবার।। কঠোর লকডাউনে সিলেটে ৬ষ্ঠ দিনে দেখা যাচ্ছে ঢিলেঢালাভাব। লকডাউনে বাস্তবায়নে মাঠে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী থাকলেও সড়কে বেড়েছে যানবাহনের চাপ। শুরুর দিকে মানুষের মাঝে বিধি নিষেধ অমান্য করলে শাস্তির ভয় থাকলেও এখন যেন তা কেটে গেছে।
মঙ্গলবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঠে তৎপর থাকলেও অন্যান্য দিনের তুলনায় মানুষের আনাগোনা বেড়েছে। হাট-বাজার থেকে রাস্তাঘাটে বেড়েছ মানুষের জটলা। এমনকি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সামনে দিয়েও মানুষ নানা ছুতায় দিব্যি ঘুরে বেড়িয়েছেন।
তাছাড়া ঢাকা-সিলেট মহাসড়কেও দেখা যায় আগের দিনের তুলনায় গাড়ি চলাচল বেড়েছে। লোকজনও বাহিরে বের হচ্ছেন। হাট-বাজারেও লেগে আছে মানুষের জটলা। বিশেষ করে নগরের কাজির মাছের আড়ত চরমভাবে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত ছিল। এ কয়দিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোরতা নিয়ে মানুষের মধ্যে ভয় কাজ করলেও এদিন তা দেখা যায়নি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, এদিন রাস্তার পাশের রেস্তোরাঁ, দোকানপাট বেশিরভাগ খেলা ছিল। সার্টার অর্ধেক খোলা রেখে ব্যবসা চালু রেখেছিলেন দোকানিরা। সেসব দোকানে লোকজনকে ভিড় করতে দেখা গেছে।
নগরের বিভিন্ন পয়েন্ট ও রাস্তাঘাটে মানুষের আনাগোনা আগের চেয়ে বেড়েছে। ফলে ‘লকডাউনের’ কঠোরতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।
এদিন সকাল থেকে অন্যান্য দিনের মতো নগরে সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশ ও আনসার সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে। সেসঙ্গে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত নগর চষে বেড়াতে দেখা গেছে।

দেশে করোনা সংক্রমণ রোধে সরকার ঘোষিত সর্বাত্মক লকডাউনের পঞ্চম দিনেও কঠোর অবস্থানে ছিল প্রশাসন। লকডাউন বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি র‌্যাব, পুলিশ, সেনাবাহিনী ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীও ছিল তৎপর।

নগর ও উপজেলা পর্যায়ে টহলের পাশাপাশি মানুষকে সচেতন করতে জেলা প্রশাসনের সহযোগী হিসেবেও কাজ করে।
এদিকে জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, যথাযথভাবে লকডাউন পালন ও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ নিশ্চিত করতে সোমবার (০৫ জুলাই) সারাদিন ব্যাপী সিলেট মহানগর ও সকল উপজেলায় ৩৫ জন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট একযোগে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছেন। এসময় সরকারের বিধিনিষেধ অমান্য করে রাস্তায় বের হওয়া বা ব্যবসা পরিচালনা করার দায়ে ২০২টি মামলা করা হয় এবং ২ লক্ষ ২০ হাজার ৯০০টাকা অর্থদন্ড প্রদান করা হয়।
কোর্ট পরিচালনা কাজে আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও সার্বিক সহায়তায় পুলিশ, র‌্যাব-৯, সেনাবাহিনী, আনসার ও বিজিবির টিম কাজ করে।
এদিকে কঠোর লকডাউনের ৫ম দিনে বিধিনিষেধ অমান্য করে বিনা কারণে বের হওয়ায় ১২০টি যানবাহনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে সিলেট মহানগর পুলিশ। এসময় ১৬৩টি যানবাহন আটক করা হয়।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ জানায়- করোনাভাইরাসের ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণ রোধে সরকার ঘোষিত লকডাউনের কঠোর বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে এসএমপির ক্রাইম ও ট্রাফিক ডিভিশনের সাথে ডিবি পুলিশ, পুলিশ লাইন্স অফিসার ও ফোর্স যৌথভাবে মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে ৩২টি চেকপোস্ট ও সকল থানা, ফাঁড়ি, তদন্ত কেন্দ্র এলাকায় ৫২টি মোবাইল টিম নিরলসভাবে কাজ করছে।
এরই ধারাবাহিকতায় লকডাউনের ৫ম দিনে লকডাউন বিধিনিষেধ অমান্য করায় সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অভিযানে ৫৫টি সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ৪৮টি মোটরসাইকেল, ১১টি প্রাইভেট কার ও ০৬টি অন্যান্য যানবাহনে মোট ১২০টি মামলা এবং ৫৯টি সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ৬৯টি মোটরসাইকেল, ০৪টি প্রাইভেট কার ও ৩১টি অন্যান্য যানবাহনসহ মোট ১৬৩টি যানবাহন আটক করা হয়।
এছাড়াও পুলিশি ডিউটির পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও বিজিবির যৌথ অভিযানে ০৫টি ভ্রাম্যমাণ আদালত কর্তৃক লকডাউন বিধিনিষেধ ভঙ্গ করায় নগরীর বিভিন্ন স্থানে সর্বমোট ৬২ হাজার ২০০ টাকা অর্থদÐ জরিমানা আদায় করা হয়।