সিলেটে প্লাজমার চাহিদা বাড়লেও ডোনার সংকট

সিলেটে প্লাজমার চাহিদা বাড়লেও ডোনার সংকট

সিলেট অফিস।। 12 জুলাই, সোমবার।। ‘মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য, একটু সহানুভূতি কি মানুষ পেতে পারে না ও বন্ধু...’। সিলেটের একটি প্রাইভেট হাসপাতালে এক যুবকের প্লাজমা দানের ছবি যখন চোখের সামনে, ঠিক তখনই কানে ভাসছিল গানে গানে মানবতার কথা বলা ভূপেন হাজারিকার এ কালজয়ী গানটি।
মনে হচ্ছিল মানুষের প্রতি মানুষের হৃদয়টাকে স্ফিত করে মানবিকতাকে জাগিয়ে তুলতেই যেন গানটি গেয়েছিলেন উপমহাদেশের কিংবদন্তী এ গায়ক।
মহামারি করোনাভাইরাসে যখন মানুষ আক্রান্ত হয়ে হাসপতালের বেডে কাতরাচ্ছেন তখন তাদের সুস্থ করে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন চিকিৎসকরা। আর সেই রোগীদের চিকিৎসার জন্য যখন প্রয়োজন হচ্ছে প্লাজমা তখন এগিয়ে আসছে একঝাঁক স্বেচ্ছাসেবী তরুণ। যারা করোভাইরাসে আক্রান্ত রোগী তাদের বাঁচাতে রক্তের প্লাজমা সংগ্রহে অবিরাম কাজ করে যাচ্ছে। তবে এসব কাজ করতে গিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এক জায়গা অন্য জায়গা ছুটে চলে তারা। তবুও এক ব্যাগ প্লাজমা খোঁজতে কত কথাই না শুনতে হয়।
জানা যায়, সিলেটে করোনা আক্রান্ত রোগীদের জন্য প্লাজমা সংগ্রহ করে দিচ্ছে ‘ইমার্জেন্সি প্লাজমা কালেকশন টিম’।গত  বছর থেকে এই পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত ২০০ জনকে প্লাজমা সংগ্রহ করে দিয়েছে সংগঠনটি। তবে স¤প্রতি সিলেটে দিনদিন করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় চাহিদা বাড়ছে রক্তের প্লাজমার। কিন্তু চাহিদা অনুযায়ী প্লাজমা ডোনার পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে অনেক সময় নির্ধারিত সময়ে রোগীদের প্লাজমা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। 
‘ইমার্জেন্সি প্লাজমা কালেকশন টিম’র সহকারী সমন্বয়ক ও সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের সদস্য মো.সফি আহমদ জানান, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে রক্তের প্লাজমা আগের চাইতে বেশি বেড়েছে চাহিদা। প্রতিদিন বিভিন্ন স্থান থেকে আমাদের কাছে কল আসতে থাকে। বিভিন্ন গ্রæপের মাধ্যমে আমাদের কাছে অনেকেই রিকোয়েস্ট করে থাকেন। কিন্তু ডোনার সংকট থাকায় আমরা ম্যানেজ করে দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। 
তিনি বলেন, করোনা থেকে সুস্থ হবার ১৪ দিন পর থেকে ৩/৪ মাস পর্যন্ত কেউ চাইলে দিতে পারেন প্লাজমা। কেউ চাইলে দুর্লভ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে প্লাজমা দানের মতো কাজে সম্পৃক্ত হয়ে জীবন বাঁচাতে পারেন একজন মুমূর্ষু রোগীর। কিন্তু সুস্থ হওয়ার পর অনেকেই ভয়ে প্লাজমা দিতে আগ্রহী হচ্ছেন না। তিনি করোনা আক্রান্ত থেকে সুস্থ হওয়াদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, দয়া করে ভয় না পেয়ে আরেকজন করোনা আক্রান্ত রোগীকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন। 
‘ইমার্জেন্সি প্লাজমা কালেকশন টিম’র প্রধান সমন্বয়ক মোক্তার হোসেন মান্না বলেন, প্রতিদিন ৪/৫ টি প্লাজমার তাগিদ থাকলেও ডোনার সংগ্রহ করতে হিমশিম খাচ্ছে ‘ইমার্জেন্সি প্লাজমা কালেকশন টিমটি। মানবিক কর্মকান্ডের চিন্তাভাবনা নিয়ে ২০জন তরুণ নিয়ে মহামারির এই সময়ে প্লাজমাসহ রক্তদান কার্যক্রম শুরু হয়। সিলেট বিভাগজুড়ে এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তাদের। সকলের সহযোগিতা পেলে করোনা মহামারি শেষ না হওয়া অবধি তাদের কার্যক্রম চলতে থাকবে বলে আশাবাদী মোক্তার হোসেন মান্না।