সিলেটে বেপরোয়া বন দখল,  উদ্ধারে নেই অগ্রগতি

সিলেটে বেপরোয়া বন দখল,  উদ্ধারে নেই অগ্রগতি
ছবি: সংগৃহীত

সিলেট।। ২১ মার্চ, রবিবার।। দিন যত যাচ্ছে ক্রমাগত কমছে বনভূমি। বড় বড় স্থাপনা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান কিংবা দখল করে বনের জায়গা লিজ দিয়ে কামানো হচ্ছে কোটি কোটি টাকা। সিলেট বিভাগজুড়েও বনের জায়গা বেপরোয়াভাবে দখল চললেও উদ্ধারে নেই কোনো অগ্রগতি। প্রতিবছর বনভূমির দখল বাড়লেও কেবল দখলদারের তালিকা আর উদ্ধার পরিকল্পনাতেই যাচ্ছে সময়। এমনকি আজ (রোববার) বন দিবসে এসে বিভাগজুড়ে কী পরিমাণ বনভূমি উদ্ধার হয়েছে জানতে চাইলে সিলেটের বন বিভাগ থেকে ফের শোনানো হচ্ছে পরিকল্পনার কথা। তারা বলছেন, প্রায় আড়াই হাজার একর বনভূমি উদ্ধার করে গাছ লাগানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
সিলেট বন বিভাগের একটি সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, সিলেট বিভাগজুড়ে দখলদারদের কবলে থাকা মোট বনভূমির পরিমাণ ছিল ৬৪ হাজার ৮শ ৯৬.৯৪ একর। কিন্তু দীর্ঘ এত বছরে ২০২০ সালের নভেম্বর পর্যন্ত উদ্ধার হয়েছে মাত্র ৮ হাজার ৪শ ২০.৬০ একর। গত নভেম্বর মাসের ১০ তারিখ সারা দেশের ন্যায় সিলেটের বন সংরক্ষক স্বাক্ষরিত বনের দখলদারদের একটি তালিকা প্রস্তুত করে প্রধান বন সংরক্ষক বরাবর প্রেরণ করা হয়।
এ তালিকায় সিলেট বিভাগে বনের জায়গার অবৈধ দখলদার হিসেবে মোট ১০ হাজার ৬শ ৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। আর এসব দখলদারের কবলে আছে বিভাগের চার জেলা মিলে (সংরক্ষিত বনভূমি ও অন্যান্য ভূমি) মোট ৫৬ হাজার ৪শ ৬৯ দশমিক ১৪ একর জায়গা। কিন্তু তালিকা প্রেরণের প্রায় ৪ মাস অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত উদ্ধার করা হয়েছে মাত্র ৫০ একর জায়গা। সে হিসেবে তালিকায় থাকলেও বাস্তবে এসব জায়গা উদ্ধার হবে না কি পরিকল্পনাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে তা নিয়ে রয়েছে সংশয়।
সিলেটের বন বিভাগ থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে সিলেট জেলায় দখলে থাকা সংরক্ষিত বনভূমি ৯ হাজার ৯শ ৬২.০৬ একর। আর অন্যান্য ভূমির পরিমাণ ১৯ হাজার একর। অপরদিকে মৌলভীবাজার জেলায় সংরক্ষিত বনভূমি ৪ হাজার ২শ ২৩.৭৬ একর ও অন্যান্য ভূমির পরিমাণ ৭ হাজার ৪শ ৭৬.২১ একর। আর সুনামগঞ্জ জেলায় সংরক্ষিত বনভূমির পরিমাণ ৪ হাজার ৩শ ৭৯.৪১ একর ও অন্যান্য ভূমির পরিমাণ ১১ হাজার ৩শ ৩১.০৬ একর। তবে দখলে থাকা ভূমির পরিমাণ হবিগঞ্জ জেলায় সবচেয়ে কম। এ জেলায় সংরক্ষিত বনভূমির পরিমাণ ৯৬.৩৩ একর আর অন্যান্য ভূমির পরিমাণ মাত্র ০.৩১ একর।
এদিকে দখলদারের সংখ্যার দিক থেকে সিলেট জেলা রয়েছে এগিয়ে। এ জেলায় মোট দখলদার ৪ হাজার ৮শ ৪ জন। আর সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা হবিগঞ্জ জেলায় দখলদার মাত্র ৬২ জন। অপরদিকে সুনামগঞ্জে ৩ হাজার ২শ ১৩ জন ও মৌলভীবাজার জেলায় ২ হাজার ৫শ ২৭ জন অবৈধ দখলদারের তালিকা করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সিলেটের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম কিম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আজ বন দিবস। দিনটি উপলক্ষে বন বিভাগ থেকে উচিৎ ছিল দখলে থাকা বনভূমির কিছু হলেও উদ্ধার করে গাছ লাগানো। কিন্তু বার বার পরিকল্পনার কথা শোনানো হলেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। সে ক্ষেত্রে বছরের পর বছর এসব বনভূমি দখলে থাকবে, সময়ে সময়ে স্থাপনা তৈরি হবে আর বন কমবে। কিন্তু আমরা চাই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন। আমরা আশা করব বন বিভাগ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে দখলে থাকা বনভূমির অধিকাংশ উদ্ধার করে গাছ লাগাবে।’
তবে দখলে থাকা এসব বনভূমি উদ্ধার একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া বলে জানালেন সিলেটের বন সংরক্ষক এস এম সাজ্জাদ হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমরা উদ্ধার কাজ নিয়মিতই চালাচ্ছি। প্রাথমিক ভাগে গুরুত্ব দিচ্ছি কৃষিকাজের জন্য যেসব জমি দখল করা হয়েছে সেগুলোকে। আর যেসব ভূমিতে স্থাপনা হয়েছে, সেগুলো একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উদ্ধার করা হবে।’
বনের জায়গার দখল দীর্ঘদিনের জানিয়ে বন সংরক্ষক এস এম সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘এসব দখল আজকের না। অনেক পুরোনো। শুরু থেকে অল্প অল্প করে দখল হয়ে এটি এখন বিশাল পরিমাণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে এবার আমরা প্রায় আড়াই হাজার একর জায়গা উদ্ধার করে গাছ লাগানোর একটি পরিকল্পনা নিয়েছি। এভাবে আমরা দখলে থাকা সকল জায়গা উদ্ধার করব। কারণ উদ্ধার করে যদি গাছ লাগাতে না পারি, তাহলে বনের জায়গা ফের দখল হয়ে যেতে পারে। তাই নির্ধারিত পরিমাণ ভূমি উদ্ধার করে যাতে সঙ্গে সঙ্গে গাছ লাগানো যায় সে পরিকল্পনা আমাদের আছে।’