সিলেটে লাইকি ভিডিও করার কথা বলে তরুণীকে ধর্ষণ

সিলেটে লাইকি ভিডিও করার কথা বলে তরুণীকে ধর্ষণ
ছবি: সংগৃহীত

সিলেট অফিস। ১৫ জুন, মংগলবার।।  সিলেটের জাফলংয়ে গিয়ে লাইকি ভিডিও করার কথা বলে এক তরুণীকে ধর্ষনের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় নির্যাতিতার বাবা রিকশাচালক মামলা দায়ের করলেও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে ধর্ষক ও তার সহযোগী।
আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরাফেরা করছে সিলেট নগরে। উলটো মামলা তুলে নিতে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। এতে নিরাপত্তহীনতায় রয়েছেন নির্যাতিতা তরুণী ও তার বাবা মা।
১৪ জুন সোমবার বেলা আড়াইটায় সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান ধর্ষণের শিকার তরুণীর বাবা। ধর্ষণের শিকার ওই তরুণীর বাড়ি সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায়। তারা বর্তমানে জগন্নাথপুর উপজেলায় মিরপুর বাজার এলাকায় বসবাস করছেন। নির্যাতিতার বাবা পেশায় একজন রিকশাচালক।
সংবাদ সম্মেলনে নির্যাতিতা তরুণীর বাবা বলেন, সম্প্রতি লাইকি অ্যাপসে ভিডিও প্রকাশের মাধ্যমে সিলেটের শাহপরাণ থানার টিলাগড় এলাকার লিজা নামে এক মেয়ের সাথে পরিচয় হয় আমার মেয়ের। তাঁর মাধ্যমে সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার বাণীগাজী গ্রামের আব্দুল লতিফের ছেলে জুবায়ের আহমদের সাথে ফোনে পরিচয় হয়। জুবায়ের বর্তমানে সিলেট নগরের শিবগঞ্জ লামাপাড়া এলাকার মোহিনী ৮৩/এ বাসায় তার বোনের সাথে থাকে। এরপর তারা সবাই ফোনে একে অপরের সাথে যোগাযোগ করতো। জুবায়ের মি. ফান্নী আহমদ নামে লাইকি অ্যাপস ব্যবহার করে বিভিন্ন ভিডিও প্রকাশ করতো।
গত ১৭ মে আমার বাসার মালিকের বাড়ি সিলেটের বিশ্বনাথ বেড়াতে যায়। সেখানে অবস্থান করাকালে ১৯ মে লিজা আমার মেয়েকে বলে লাইকি ভিডিও করতে জাফলং বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে। সেখানে গিয়ে সবাই মিলে ভিডিও করবে বলে জানায়। বিষয়টি আমার মেয়ে আমাকে অবগত করলে আমি লিজার সাথে কথা বলে তাঁকে জাফলং যাওয়ার অনুমতি দেই। এরপর লিজা আমার মেয়েকে বিশ্বনাথ উপজেলার এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে নিয়ে যায়। সেখান থেকে লিজা তাকে সিলেট নগরের শিবগঞ্জ এলাকায় জুবায়েরের বাসায় নিয়ে আসে।
এসময় আমার মেয়ে জানাতে চাইলে লিজা তাকে বলে এখানে একটু সময় বসতে হবে। সে বাসা থেকে কাপড় বদলে আসলে জাফলংয়ের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু হবে। তখন জুবায়ের আমার মেয়ে নাস্তা খেতে দেয়। নাস্তা খাওয়ার পরপরই সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। অসুস্থবস্থায় জুবায়ের আমার মেয়েকে রাতভর ধর্ষণ করে। পরদিন সকালে আমার মেয়েকে বিশ্বনাথ আমার এক আত্মীয়ের বাসাতে দিয়ে যায়। এসময় জুবায়ের এই ঘটনা কাউকে না বলার জন্য হুমকি দিয়ে যায়।
নির্যাতিতা কিশোরীর বাবা আরও বলেন, আমার মেয়েকে বাসায় নিয়ে আসার পর সে আবার অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এ ঘটনায় গত ২৬ মেয়ে সিলেটের শাহপরাণ থানায় একটি মামলা দায়ের করি। মামলা নং ০১ (০১/০৬/২০২১)। মামলা দায়েরন করার এতোদিন পরও পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি। আসামিরা প্রকাশ্যে সিলেট নগরে ঘুরাফেরা করছে। এছাড়া মামলা তুলে নেওয়ার জন্য আমাকে হুমকি দিচ্ছে। আমার মেয়েকে প্রাণে মারা হুমকি দিয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। এতে আমি ও আমার পরিবারের সদস্য চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি। ধর্ষক ও তার সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।