সিলেটে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা, তিনদিনের ব্যবধানে সংক্রমণের হার দিগুণ

সিলেটে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা, তিনদিনের ব্যবধানে সংক্রমণের হার দিগুণ
ছবিঃ সংগৃহীত

সিলেট অফিস।। ১১ এপ্রিল, রবিবার।। সিলেটে রীতিমত লাফিয়ে বাড়ছে করোনা সংক্রমনের হার।  গত ৭ এপ্রিল নমুনা পরীক্ষায় সিলেটে পজিটিভ শনাক্তের হার ছিলো ১১ শতাংশ। অথচ তিনদিন পর ১০ এপ্রিল সেই হার দাঁড়িয়েছে ২১ শতাংশে।
করোনা শনাক্তের হার বাড়ার কারণে রোগী বাড়ছে সিলেটের একমাত্র করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে। রোগী চাপ সামলাতে এই হাসপাতালের চিকিৎসক-সেবিকাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। অপরদিকে, আইসিইউ শয্যা নিয়ে রীতিমত হাহাকার শুরু হয়েছে। শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালে আইসিইউ আছে ১৬টি। এরমধ্যে দুটি বিকল। বাকী ১৪ টি সবসময়ই রোগীতে পূর্ণ থাকে।
এমন বাস্তবতায় উচ্চহারে সংক্রমণ রোধে ঢেলে সাজানো হচ্ছে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিট।  বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পরিস্থিতি সামাল দিতে আইসিইউ সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজন কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা।
তাদের মতে, স্বাস্থ্যবিধি মানায় সাধারণের অনীহা আর যুক্তরাজ্য ফেরতদের ঢিলেঢালা কোয়ারেন্টিন বাস্তবতায় গত একমাসে আশংকাজনক হারে বেড়েছে সংক্রমণ। সংক্রমণ হারের দিক থেকে দেশের শীর্ষ জেলাগুলোর মধ্যে রয়েছে সিলেট। ফলে প্রবাসীবহুল এই জেলায় বাড়ছে ঝুঁকি।
করোনা ডেডিকেটেড শহীদ শামসুদ্দিন আহমেদ হাসপাতালে ১০০টি বেডের বিপরীতে আইসিইউ সুবিধা রয়েছে ১৬টি।  এছাড়াও খাদিমনগর হাসপাতাল ও দক্ষিণ সুরমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট ৬২ শয্যা কোয়ারেন্টিন সেন্টার হিসেবে প্রস্তুত রয়েছে।
সিলেটের সিভিল সার্জন প্রেমানন্দ মন্ডল বলেন, সিলেটে সংক্রমণের হার উদ্বেগজনক। যে হারে বাড়ছে, তা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে পারলে আইসিইউ সংকট দেখা দিতে পারে। সিলেটে আইসিইউ সুবিধা বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
প্রেমানন্দ বলেন, সংক্রমন বড়ার কারণ হলো স্বাস্থ্য বিধি না মানা,  প্রবাসীদের কোয়ারেন্টিন  না মানা ইত্যাদি।
আসছে লকডাউন পুরোপুরি কার্যকর করতে হলে প্রশাসনের সকল স্তরের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
তবে সংক্রমণের উর্ধ্বগতিতে সংকট নিরসনে ঢেলে সাজানো হচ্ছে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দেড়শো শয্যা বিশিষ্ট করোনা ইউনিট।
গতবছর করোনা সংক্রমন শুরু হলে এই ইউনিট চালু করা হয়েছিলো। তবে সংক্রমণ কমে যাওয়ার পর এই ইউনিটের কার্যক্রম স্থবির হয়ে আসে। এবার সংক্রমণ বাড়ায় আবার তা নতুনভাবে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তবে কেবল করোনা ইউনিট নয়, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউ সুবিধা বাড়ানো প্রয়োজন বলেও মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উপ পরিচালক ডা. হিমাংশু লাল রায় বলেন, গত বছর থেকে সিওমেকে ২৬ ও ২৭ নং ওয়ার্ডে করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।।
এবার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়াতে এবার করোনা ইউনিটকে আলাদা করা হচ্ছে। সেখানে পুরো একটি ফ্লোরে করোনা চিকিৎসা দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, বহির্বিভাগের নতুন ভবনে করোনা ইউনিট স্থানান্তরে প্রক্রিয়া চলছে। প্রায় সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন। চলছে অক্সিজেন সাপোর্ট নিশ্চিত করার কাজ।
হিমাংশু বলেন, আগামী ৩-৪ দিনের মধ্যে তা সম্পন্ন হবে। সেখানে দেড়শো শয্যা থাকবে।
সিলেট বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় (রোববার দুপুর পর্যন্ত) ১৪৩ জনের দেহে করোনাভাইরাসের অস্তিত্ব শনাক্ত হয়েছে। এদের নিয়ে সিলেট বিভাগে মোট করোনা প্রমাণিত রোগীর সংখ্যা দাঁড়ালো ১৮ হাজার ৬৭৬ জনে। যাদের মধ্যে সিলেট জেলায় ১১ হাজার ৭৫০ জন, সুনামগঞ্জে ২ হাজার ৬৩১ জন, হবিগঞ্জ জেলায় ২ হাজার ১৪৭ জন ও মৌলভীবাজারে ২ হাজার ১৪৮ জন।  বিভাগে করোনায় মারা গেছেন ৩০১ জন।