সিলেটে সাক্ষীতে আটকে আছে ব্লগার অনন্ত হত্যা মামলা

সিলেটে সাক্ষীতে আটকে আছে ব্লগার অনন্ত হত্যা মামলা
ছবি: সংগৃহীত

সিলেট অফিস :সিলেটে ব্লগার অনন্ত বিজয় দাশ হত্যা মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সিআইডির আইটি স্পেশালিস্ট না আসায় ফের সাক্ষ্য গ্রহণ পিছিয়েছে। এ নিয়ে সাক্ষী না আসায় পাঁচবার দেশে বিদেশে আলোচিত এ হত্যা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ পেছালো। আলোচিত এই হত্যা মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ আটজন বাকি রয়েছেন।
মোট ২৯ জন সাক্ষীর মধ্যে ২১ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। বাকি আটজনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে মামলার বিচারকাজ শেষের দিকে চলে যাবে। মামলা পরিচালনায় থাকা হামলায় নিহত অনন্ত বিজয় দাশের ভগ্নিপতি অ্যাডভোকেট সমর বিজয় সী শেখর জানান, সাক্ষ্যগ্রহণে বাকি থাকা আটজনই ‘গুরুত্বপূর্ণ’ সাক্ষী।
সোমবার সাক্ষ্যগ্রহণের ধার্য তারিখে তাদের কেউই সাক্ষ্য দিতে না আসায় সাক্ষ্য গ্রহণ পিছিয়েছে। এই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের পরবর্তী তারিখ আগামী ২১ নভেম্বর ধার্য করেছেন সিলেটের সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনালের বিচারক।
এনিয়ে পাঁচবার সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ পেছালো বলে জানান তিনি। সমর বিজয় সী শেখর জানান, গত ১২ অক্টোবর এই মামলার ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকসহ লাশ মর্গে পাঠানো সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরিকারী পুলিশ সদস্য সাক্ষ্য দিয়েছেন। ২০১৫ সালের ১২ মে সিলেট নগরের সুবিদবাজারে নূরানী আবাসিক এলাকার নিজ বাসার সামনে খুন হন বিজ্ঞানমনস্ক লেখক অনন্ত বিজয় দাশ। বিজ্ঞান নিয়ে লেখালেখির পাশাপাশি তিনি ‘যুক্তি’ নামে বিজ্ঞানবিষয়ক একটি পত্রিকা সম্পাদনা করতেন।
এছাড়া বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। হত্যাকান্ডের পর অনন্তের বড় ভাই রত্নেশ্বর দাশ বাদী হয়ে সিলেট এয়ারপোর্ট থানায় অজ্ঞাত চারজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। এতে বিজ্ঞান বিষয়ে লেখালেখির কারণে অনন্তকে ‘উগ্র ধর্মান্ধ গোষ্ঠী’ পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।
মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী সূত্রে জানা গেছে, মামলাটি পুলিশ থেকে অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) স্থানান্তরিত হয়। সিআইডির পরিদর্শক আরমান আলী তদন্ত করে ২০১৭ সালের ৯ মে সম্পূরক অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেন।
এতে সন্দেহভাজন আটক ১০ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করে ৬ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। সম্পূরক চার্জশিটে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হচ্ছেন, সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার আবুল হোসেন (২৫), খালপাড় তালবাড়ির ফয়সাল আহমদ (২৭), সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের বিরেন্দ্রনগরের (বাগলী) মামুনুর রশীদ (২৫), কানাইঘাটের পূর্ব ফালজুর গ্রামের মান্নান ইয়াইয়া ওরফে মান্নান রাহী ওরফে এ বি মান্নান ইয়াইয়া ওরফে ইবনে মঈন (২৪), কানাইঘাটের ফালজুর গ্রামের আবুল খায়ের রশীদ আহমদ (২৫) এবং সিলেট নগরের রিকাবীবাজার এলাকার সাফিউর রহমান ফারাবী ওরফে ফারাবী সাফিউর রহমান (৩০)।
আসামিদের মধ্যে ফারাবী বিজ্ঞান লেখক ও বøগার অভিজিৎ রায় হত্যা মামলার রায়ে দÐপ্রাপ্ত আসামি। অভিযুক্ত আসামিদের মধ্যে মান্নান রাহী আদালতে অনন্ত হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। তবে ২০১৭ সালের ২ নভেম্বর মান্নান হঠাৎ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এছাড়া আবুল হোসেন, ফয়সাল আহমদ ও মামুনুর রশীদ নামের তিন আসামি পলাতক রয়েছেন।