সিলেটে হিজড়াদের বেপরোয়া চাঁদাবাজি অতিষ্ঠ ব্যবসায়ীরা

সিলেটে হিজড়াদের বেপরোয়া চাঁদাবাজি অতিষ্ঠ ব্যবসায়ীরা
ছবি- প্রতীকী

সিলেট অফিস।। ২২ জুন, মংগলবার।। সিলেটে হিজড়াদের বেপরোয়া চাঁদাবাজি যেন দিন দিন বেড়েই চলেছে। দেখা দিয়েছে তাদের বহুরূপী আচরণ। তাদের সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজির কাছে মানুষ জিম্মি হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন সিলেট নগরীর বিভিন্ন এলাকায় হিজাড়া চাঁদা আদায় করে থাকে। তাদের কথা মতো টাকা না দিলে যাচ্ছে তা ব্যবহার করে থাকে। আইনশৃঙ্খলাবাহিনর সামনেও এসব ঘটনা প্রায় ঘটে থাকলেও না দেখার ভান করে তারা সরে যান। আর মান-সম্মানের ভয়ে হিজড়াদের এমন চাঁদাবাজি সহ্য করে নিচ্ছেন ব্যবসায়ীর। ২২জুন মঙ্গলবার দুপুরে সিলেট নগরীর আম্বরখানাস্থ ডিঙ্গি রেষ্টুরেন্টে একদল হিজাড়া যায়। সেখানে তারা মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে। কিন্তু রেষ্টুরেন্ট কর্তপক্ষ তাদেরকে ২০০টাকা দিতে চাইলে তারা নেয় না। এক পর্যায়ে চিৎকার চিল্লাচিল্লি শুরু করলে আরও ১শ টাকা মিলিয়ে ৩০০টাকা দিয়ে তাদেরকে বিদায় করা হয়। ডিঙ্গি রেষ্টুরেন্টের পরিচালক ফজলুর রহমান জসিম বলেন, সপ্তাহে দু’একদিন পরপর হিজরাদের দল এসে প্রত্যেক দোকান ও রেষ্টুরেন্ট থেকে টাকা তুলে নেয়। রেষ্টুরেন্টে এসে দাবি করে বসে ১ হাজার টাকা। তাদের চাওয়া মতো টাকা না দিলে রেষ্টুরেন্টের ভিতরে চিল্লাচিল্লি শুরু করে। কোনো সময় আবার অশ্রাব্য গালাগালসহ দুর্ব্যবহার এমন কি উলঙ্গ হয়ে পড়ে।ফলে রেষ্টুরেন্টে থাকা কাস্টমারদের সমস্যায় পড়েতে হয়। এদের জন্য আমরা ব্যবসায়ীরা অতিষ্ঠ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আম্বরখানার আরেক ব্যবসায়ী জানান, আগে তারা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে টাকা চাইলে আমরা যা দিতাম তাই নিয়ে যেত। কিন্তু বেশ কিছুদিন ধরে অল্প টাকা দিলে তারা ব্যবসায়ী গায়ে হাত দিয়ে লাঞ্ছিত করে। এতে আমরা ভয়ে তাদের টাকা দিতে বাধ্য হই। জানা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের শেষ দিকে আম্বরখানায় পণ্যবাহী একটি পিকআপ আটকে মোটা অংকের চাঁদা দাবি করে একদল হিজড়া। এসময় পিকআপের চালক ও হেল্পার চাঁদা দিতে অসম্মতি জানালে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে হিজড়ারা এবং অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করতে থাকে। চালক ও হেল্পার এসবের প্রতিবাদ করলে হেল্পারের কান কামড়ে দেয় এক হিজড়া। তখন মানুষজন এগিয়ে এসে হিজড়ার কবল থেকে হেল্পারকে উদ্ধার করেন। পরে হেল্পারকে মারতে না পেরে ওই হিজড়া সম্পূর্ণ উলঙ্গ হয়ে যায়। জানতে চাইলে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) বি এম আশরাফ উল্যাহ তাহের বলেন, এ বিষয়ে অবগত নন। তিনি ব্যবসায়ী ও পাবলিকদের উদ্দেশ্য বলেন, এই ধরণের ঘটনা ঘটে থাকলেও ৯৯৯ অথবা স্থানীয় থানায় কল দিয়ে জানানোর জন্য।