সিলেটে হেফাজতের পিকেটিং-সংঘর্ষ, আটক ৫

সিলেটে হেফাজতের পিকেটিং-সংঘর্ষ, আটক ৫
ছবি: সংগৃহীত

সিলেট প্রতিনিধি।। 28 মার্চ, রবিবার।। সিলেট নগরীর কোর্ট পয়েন্ট এলাকায় পিকেটার-শ্রমিক-ছাত্রলীগের ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রোববার (২৮ মার্চ) বেলা পৌনে ১ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ছাত্রশিবিরের ৫ কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। 
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার ভোর থেকে কোর্টপয়েন্টসহ সকল জায়গায় ঢিলেঢালা পিকেটিং চলছিলো। হেফাজতের নেতাকর্মীরা কোর্ট পয়েন্টে অবস্থান নিলেও নিরুত্তাপ ছিলো কোর্ট পয়েন্ট এলাকা। এমনকি সকাল ১১ টার দিকে তাদের সরিয়েও দিয়েছিলো পুলিশ। কিন্তু বেলা ১২ টার দিকে বেশ কিছু যুবক এসে প্রথমে পিকেটিং শুরু করেন। যার অধিকাংশই ছাত্র শিবিরের কর্মী। হেফাজতের মোড়কে তারা পিকেটিং শুরু করে উত্তাপ ছড়ানোর চেষ্টা করেন। সময়ে সময়ে তাদের সাথে যুক্ত হন হেফাজতের অসংখ্য কর্মী-সমর্থক। এমন অবস্থায় উত্তপ্ত হয়ে উঠে কোর্টপয়েন্টসহ আশপাশের এলাকা। কিন্তু উত্তাপ পেশি সময় ছড়াতে পারেনি পিকেটাররা। আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে হরতাল বিরোধী মিছিল বের করলে পিকেটারদের সাথে সংঘর্ষ তৈরি হয়। এমন সময় ছাত্রলীগের কর্মীরা পিকেটারদের ধাওয়া দিলে পিকেটাররা কালীঘাটের দিকে পালিয়ে যান। পিছু নেন ছাত্রলীগের কর্মীরা। এসময় সময় ইটপাটকেল পড়ে কালীঘাটের একজন শ্রমিকের উপর। তৈরি হয় ত্রিমুখী সংঘর্ষ। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
আটক এবং সংঘর্ষের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) আজবাহার আলী শেখ।
অপরদিকে ধাওয়া পালটা ধাওয়ার পর কোর্ট পয়েন্ট এলাকা থেকে পিকেটার দের সরিয়ে দিয়ে ছাত্রলীগ হরতাল বিরোধী বিক্ষোভ করে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোর্ট পয়েন্টে কোন পিকেটার ছিলেননা বলে দেখা যায়।
এদিকে ভোর থেকে চলছে হেফাজতে ইসলামের ডাকা হরতাল। কিন্তু শুরুতে কোন উত্তাপ ছিলো না।। ঢিলাঢালা ভাবেই চলছিলো হরতাল। রোববার (২৮ মার্চ) ভোর থেকে সিলেটে হরতাল পালন হলেও খুব বেশি একটা পিকেটিং লক্ষ্য করা যায়নি। তবে হরতাল ঢিলেঢালা হলেও নগরীতে গাড়ি চলাচল ছিলো না। সিলেট থেকে ছেড়ে যাচ্ছে না দূরপাল্লার বাস। তবে বেলা বারার সাথে সাথে হেফাজতের সাথে বহিরাগত যুবকদের যুক্ত হতে দেখা যায়। তাদের যুক্ত হবার পর থেকে বাড়তে থাকে পিকেটিং।
অপরদিকে হরতালে নাশকতা প্রতিহত করতে প্রস্তুত রয়েছে প্রশাসন। নগরীর সকল পয়েন্টে প্রশাসনের অতিরিক্ত লোকবলের উপস্থিত দেখা গেছে। আর চৌহাট্টা পয়েন্ট থেকে ইতোমধ্যে হরতালকারীদের সরিয়ে দিয়েছে প্রশাসন।

অপরদিকে হরতালের কারণে যান চলাচল কম থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন কর্মজীবী মানুষ। কর্মক্ষেত্রে পৌঁছাতে তাদের পড়তে হচ্ছে বিড়ম্বনায়। সে ক্ষেত্রে ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালকদের অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে দেখা গেছে।
এদিকে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসনকে নির্দেশনা দিতে নগরীতে দায়িত্বে আছেন সিলেট জেলা প্রশাসনের ৬ জন ম্যাজিস্ট্রেট। একই ভাবে জেলার সকল উপজেলায় যে কোন ধরণের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে নির্দেশনা প্রদান করতে একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে৷