সিলেট-৩: কৌশলী প্রচারণায় ব্যস্ত প্রার্থীরা

সিলেট-৩: কৌশলী প্রচারণায় ব্যস্ত প্রার্থীরা
ছবি: সংগৃহীত

সিলেট অফিস ।। ২৪ আগস্ট, মংগলবার।। আগামী ৪ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত্য সিলেট-৩ আসনের উপ-নির্বাচনকে ঘিরে কৌশলী প্রচারণায় ব্যবস্থা প্রার্থীরা। আদালতের নির্দেশে স্থগিত হওয়া এই আসনের উপনির্বাচনের তারিখ সোমবার ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।
কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, যেহেতু ভোটের মাত্র দুই দিন আগে এটি বন্ধ করা হয়েছিল, তাই ১ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা থেকে ২ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টার আগ পর্যন্ত একদিন প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে পারবেন।


তবে নির্বাচন কমিশনের এমন নির্দেশনা সত্তে¡ও লকডাউন উঠার পর থেকেই প্রচারণায় নেমে পড়েছেন এই আসনের প্রার্থীরা। প্রধান তিন প্রার্থীই প্রতিদিন প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন। কেউ ভিন্ন কৌশলে আবার কেউ কেউ কোনো রাখঢাক না রেখেই নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
সিলেট-৩ আসনের উপনির্বাচনে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করছেন চার প্রার্থী। আওয়ামী লীগের হাবিবুর রহমান হাবিব, জাতীয় পার্টির আতিকুর রহমান আতিক, স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপির সাবেক সাংসদ শফি আহমদ চৌধুরী এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের জুনায়েদ মুহাম্মদ মিয়া। এই চারের মধ্যে জুনায়েদের কোনো তৎপরতা নেই বললেই চলে। বাকি তিন প্রার্থী এখনো প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন ভোটের মাঠে।
তবে সিলেট-৩ আসনের উপ নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সিলেটের জেলা প্রশাসক এম কাজী এমাদুল ইসলাম জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রার্থীরা ভোটের আগে কেবল একদিনই প্রচারণা চালাতে পারবেন। এরআগে প্রচারণা চালানোর সুযোগ নেই।
গত ২৮ জুলাই এ আসনে উপ নির্বাচন হওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে উচ্চ আদালত ভোটগ্রহণ স্থগিত রাখতে নির্দেশে দেয়। এরপর লকডাউন চলাকালে প্রার্থীরা কিছুদিন প্রচারণা বন্ধ রাখলেও ১১ আগস্ট লকডাউন উঠার পর থেকেই প্রতিদিন নানা কৌশলে প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন প্রার্থীরা।


কখনো কর্মীসভা, কখনো স্থানীয় কারো মৃত্যুতে শোকসভাসহ বিভিন্ন আচার অনুষ্ঠানে গিয়ে প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন প্রার্থীরা। আবার কেউ কেউ নির্বাচনী সভা, জনসংযোগও করছেন।
আওয়ামী লীগের প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব পুরো আগস্ট মাসজুড়ে কৌশলী প্রচারণা চালাচ্ছেন। শোক দিবসের কর্মসূচী নামে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন তিনি। এতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির অনেক নেতাও অংশ নিচ্ছেন।
২২ আগস্টরোববার শোকসভাকে সামনে রেখে হাবিবের পক্ষে প্রচারণা চালাতে দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ এমপি, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম নাদেল, উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন এবং কার্যনির্বাহী সদস্য আজিজুস সামাদ ডন সিলেটে আসেন।
গত রোববার আওয়ামী লীগের এই পাঁচ কেন্দ্রীয় নেতা সিলেট-৩ আসনের নির্বাচনী এলাকা দক্ষিণ সুরমা উপজেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে শোকসভায় এবং ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে শোকসভায় বক্তৃতা করেন। এতে হাবিবের পক্ষে ভোট চান নেতারা।
হাবিব কৌশলী প্রচারণা চালালেও অন্য দুই প্রার্থী আতিকুর রহমান আতিক ও শফি আহমদ চৌধুরী কোনো রাখঢাক না রেখেই নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন।
দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতি করা প্রার্থী শফি আহমদ চৌধুরী দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে একক ভাবেই চালাচ্ছেন প্রচার প্রচারণা। প্রার্থী হওয়ায় দল থেকে তাকে বহিষ্কারও করা হয়। ফলে বহিষ্কৃত নেতার পক্ষে বিএনপির স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে তার সাথে নেই। প্রথমদিকে স্থানীয় কয়েকজন নেতা শফির সাথে প্রচারণায় থাকায় দল থেকে তাদেরকে শোকজ করা হয়। এরপর দলীয় শাস্তির ভয়ে আর কেউ শফির পক্ষে প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন না। তবে স্থানীয় কিছু তরুণ ও যুবক তার নির্বাচনী কাজে অংশগ্রহণ করছেন। তাই নিজের ব্যক্তি ইমেজ ও স্থানীয় মানুষের সহানুভূতিকে কাজে লাগিয়ে তিনি প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
গত সোমবার ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে গণসংযোগ করেন শফি। এতে নিজের মোটরগাড়ি প্রতীকের পক্ষে ভোট চান শফি।
অপরদিকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী আতিকুর রহমান আতিকও প্রতিদিন গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। জাতীয় পার্টির মনোনয়নে প্রার্থী হলেও তার পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো কেন্দ্রীয় নেতা প্রচারণায় অংশ নেননি। তবে স্থানীয় কয়েকজন জাপা নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে তিনি ভালভাবেই প্রচারণা চালাচ্ছেন। নির্বাচনী এলাকায় সভা সমাবেশ করছেন।
প্রসঙ্গত, করোনা আক্রান্ত হয়ে এ বছরের ১১ মার্চ সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর মৃত্যু হয়। এরপর ১৫ মার্চ আসনটি শূন্য ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। তফসিল ঘোষণার পর ৯০ দিন পেছালেও ২৮ জুলাই ভোট গ্রহণের দিন ধার্য করা হয়। তবে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধি বিবেচনায় নিয়ে ২৮ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ ৫ আগস্ট পর্যন্ত স্থগিত করেন হাইকোর্ট। গত ২৬ জুলাই দুপুরে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের একক ভার্চুয়াল বেঞ্চে উপনির্বাচন স্থগিত চেয়ে রিট আবেদনের শুনানিতে এই স্থগিতাদেশ আসে।
নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হাবিবুর রহমান নৌকা প্রতীকে, জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ আতিকুর রহমান লাঙ্গল প্রতীকে, বাংলাদেশ কংগ্রেসের জুনায়েদ মোহাম্মদ মিয়া ডাব প্রতীকে এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য (বহিষ্কৃত) স্বতন্ত্র প্রার্থী শফি আহমেদ চৌধুরী মোটর গাড়ি মার্কা নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করছেন। এ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৫২ হাজার।