সৈয়দপুরে অপহরণকারী চক্রের ৩ সদস্য গ্রেফতার

সৈয়দপুরে অপহরণকারী চক্রের ৩ সদস্য গ্রেফতার
ছবি সংগৃহিত

স্টাফ রিপোর্টার। অপহরণ ও জিম্মি করে অর্থ হাতিয়ে নেয়া চিহ্নিত একটি কিশোর গ্যাং তথা ছিনতাই ও চাঁদাবাজ চক্রের ৩ সদস্য গ্রেফতার অপহরণ ও জিম্মি করে অর্থ হাতানো চক্রের ৩ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১৩।

বুধবার (১৭ আগস্ট) বিকাল ৪ টায় নীলফামারীর সৈয়দপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল সংলগ্ন ফায়জানে মদীনা মাদরাসার সামনে থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এসময় অপহরণের শিকার  কিশোর তমাল রায় (১৫) কে উদ্ধার করা হয়। সে সৈয়দপুরের পার্শবর্তী দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার দুবলিয়া গ্রামের অঞ্জন রায়ের ছেলে।

গ্রেফতারকৃতরা হলো শহরের বাস টার্মিনাল নিয়ামতপুর বকসাপাড়ার রবিউল বাস কন্ডাক্টরের ছেলে ফিরোজ (১৯), একই এলাকার জুম্মাপাড়ার ট্রাক হেলপার ওহাদ আলীর ছেলে জীবন (২২) এবং ভিত্তিপাড়ার মৃত মনসুর আলীর ছেলে সোহেল (১৮)।

অপহৃত তমাল বলে, বুধবার সকাল ১০ টায় সৈয়দপুরে এক বন্ধুর সাথে দেখা করার জন্য আসি। বাস টার্মিনাল এলাকায় পৌঁছামাত্র ৫/৭ জন ছেলে এসে আমাকে ঘিরে ধরে এবং বলে তোমার সাথের মেয়েটি কোথায়। মেয়েটিকে হাজির কর নয় তোকে যেতে দিবনা। তাদের এমন কথায় আমি হতভম্ব হয়ে যাই।

তখন তারা জোর করে আমাকে টার্মিনালের পিছন দিকে একটি ইটভাটায় নিয়ে যায় এবং ধারালো অস্ত্র ঠেকিয়ে বাসায় মোবাইল করে ৫০ হাজার টাকা আনতে চাপ দেয়। তাদের কথা না শুনলে বেধড়ক কিলঘুসি মারা শুরু করে। বাধ্য হয়ে আমার বাবাকে মোবাইল করে ওদের কথামত টাকা দিতে বলি। বাবা টাকা নিয়ে আসছে বলে তাদের আশ্বস্ত করে।

ইতোমধ্যে বাবা বিষয়টি আমাদের আত্মীয় সৈয়দপুর শহরের কয়া মিস্ত্রিপাড়ার কার্তিক রায়কে জানালে তিনি জিম্মিকারীদের সাথে আমার মোবাইলে কল দিয়ে জানান টাকা নিয়ে সৈয়দপুরে অবস্থান করছি। সরাসরি দেখা করে টাকা দিবো। কিন্তু অপহরণকারীরা তাতে রাজি না হয়ে বিকাশ বা নগদের মাধ্যমে টাকা দিতে চাপ দেয়।

কার্তিক রায় বলেন, তারা শেষে সাক্ষাতে টাকা নিতে চায় এবং একবার টার্মিনাল আবার ওয়াপদা মোড়, ফের তাজির হোটেলের কাছে যেতে বলে আমাকে হয়রানী করছিল। এমন পরিস্থিতিতে আমি বিষয়টি প্রথমে থানায় জানাই। কিন্তু তারা গুরুত্ব না দেয়ায় পরে নীলফামারী র‌্যাব-১৩ কে অবহিত করি।

এরপর র‌্যাব অভিযান চালিয়ে বিকাল ৪ টার দিকে তমালকে উদ্ধার করাসহ অপহরণকারী চক্রের ৩ জনকে আটক করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অপরাধ স্বীকার করায় তাদের সৈয়দপুর থানায় সোপর্দ করে। রাত আনুমানিক দেড়টায় অপহরণ মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় আটক ৩ জনকে অজ্ঞাতনামাদের আসামী করা হয়েছে। মামলা নং ২৩।

মামলার তদন্তকারী অফিসার এসআই নারায়ণ চন্দ্র জানান, মামলার প্রেক্ষিতে আটককৃতদের গ্রেফতার দেখিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে নীলফামারী আদালতে পাঠানো হয়েছে। তবে সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম এব্যাপারে কথা বলতে রাজি হননি।

উল্লেখ্য, সৈয়দপুর বাস টার্মিনাল এলাকায় এরকম কয়েকটি চক্র রয়েছে। যারা ছিনতাই, মাদক বিক্রি ও অপহরণ জিম্মি করে অর্থ হাতিয়ে নেয়াসহ চাঁদাবাজ কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত। এই সিন্ডিকেটের সদস্যরা অধিকাংশই বখাটে। এদের মধ্যে তিনটি স্তরের লোক রয়েছে। আটকরা সর্বনিম্নস্তর কিশোর গ্যাং। এরা ইতোপূর্বেও বেশ কয়েকটি অপহরণ সংঘটিত করেছে।