সৈয়দপুরে অভিযানে রেলওয়ের ১৯ একর জমি দখলমুক্ত

সৈয়দপুরে অভিযানে রেলওয়ের ১৯ একর জমি দখলমুক্ত

সৈয়দপুরে অভিযানে রেলওয়ের ১৯ একর জমি দখলমুক্ত

স্টাফ রিপোর্টার।। নীলফামারীর সৈয়দপুরে রেলওয়ের উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। রেলওয়ের পাকশি বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট নুরুজ্জামানের নেতৃত্বে সৈয়দপুর রেলওয়ে ভূ-সম্পত্তি বিভাগ এ অভিযান পরিচালনা করে।

 ২১ মার্চ রবিবার সকাল ১০ টা থেকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালিত হয়।

সকালে শহরের কাজিপাড়া এলাকায় অবৈধভাবে দখলকৃত রেলওয়ের কয়েকটি জলাশয় ও কৃষি জমি উদ্ধার করে তা স্পট নিলামের মাধ্যমে বৈধভাবে লীজ প্রদান করা হয়। এতে প্রায় ১৯ একর ৬ শতক জমি (জলাশয় ও কৃষিজমি) দখলমুক্ত করা হয়। দুপুরে শহরের কলাহাটি রোডের অবৈধভাবে গড়ে ওঠা দুইটি দোকান ও একটি বাড়িরও নিলামের মাধ্যমে বরাদ্দ দেওয়া হয়। এসব অবৈধভাবে দখলদারদের কাছ থেকে জরিমানা এবং নতুন করে লীজ দেয়ার মাধ্যমে প্রায় ৩৪ লাখ ৫ হাজার টাকা রাজস্ব আদায় করা হয়।

শহরের নয়াবাজার ভাগার এলাকায় রেলওয়ের বিশাল জায়গা জুড়ে গড়ে তোলা সৈয়দপুর পৌরসভা ও বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থার যৌথ প্রকল্প কো-কোম্পোষ্ট প্লান্ট বন্ধ করে দিয়ে তা জব্দ করা হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে মন্ত্রণালয় থেকে এর বৈধ বরাদ্দ বা লীজ গ্রহণের পরই কাজ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এসময় এখানে কর্মরত সমাজ কল্যাণ সংস্থা (এসকেএস) এর দুইজন সাব-ইঞ্জিনিয়ারকে আটক করা হয়। পরে পৌর পরিষদের কাউন্সিলরবৃন্দ তাদের জিম্মায় নিয়ে অবিলম্বে রেলওয়ের কাছ থেকে বৈধ উপায়ে লীজ গ্রহণ করায় সম্মত হওয়ায় তাদের ১ ঘন্টার কারাদন্ড শেষে মুক্ত করা হয়।

বিকালে শহরের শহীদ ডাঃ জিকরুল হক রোডে সৈয়দপুর প্রেসক্লাবের পাশে অবৈধভাবে নির্মানাধীন ৬ তলা বিশিষ্ট ভবনের অবকাঠামো জব্দ করে তা ৬ লাখ টাকা নিলাম করা হয়। এছাড়া জায়গাটুকু নিজেদের আয়ত্বে নিয়ে আগামীতে বৈধভাবে বরাদ্দের জন্য সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ নুরুজ্জামান বলেন, সরকার রেলওয়ের ব্যাপারে খুবই আন্তরিক। তাই নির্দেশনা দেয়া হয়েছে দেশের যেখানে যত প্রকার রেলওয়ের সম্পত্তি অবৈধ দখলে আছে তা দখলমুক্ত করে রাজস্ব আয়ের খাতে পরিণত করতে হবে। এ নির্দেশের আলোকে বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় আজ সৈয়দপুরে অভিযান চালানো হলো। তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে অবশ্যই যে কোন ধরণের এবং যে কোন ব্যক্তির দখলকৃত রেলওয়ের জমি উদ্ধার করাসহ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে।

এসময় তার সাথে ছিলেন পার্বতীপুর রেলওয়ে ভূ-সম্পত্তি বিভাগের কানুনগো মোঃ জিয়াউর রহমান, সৈয়দপুর সহকারী প্রকৌশলী মোঃ আহসান উদ্দিন, উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ শরিফুল ইসলাম, সৈয়দপুর রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর চীপ ইন্সপেক্টর মোঃ বেনজুর রহমানসহ নিরাপত্তা বাহিনী ও পুলিশ সদস্যবৃন্দ।