সৈয়দপুরে অলিগলিতে লাইসেন্স বিহীন ঔষধ ফার্মেসী,দেখার কেউ নেই !

সৈয়দপুরে অলিগলিতে লাইসেন্স বিহীন ঔষধ ফার্মেসী,দেখার কেউ নেই !
ফাইল ফটো

জাহিদুল হাসান জাহিদ।স্টাফ রিপোর্টার।৬ সেপ্টেম্বর,২০২১।। নীলফামারীর সৈয়দপুরে শহর ও গ্রামে সমান তালে অলিগলিতে গড়ে উঠেছে ঔষধ ফার্মেসী। এসব ফার্মেসীর বেশির ভাগের নাই সর্বানিম্ন ফার্মাসিস্ট কোচের অভিজ্ঞতার সনদ ও ফার্মেসী ব্যবসার অনুমোদন পত্র। তার পরেও দেদারছে চালিয়ে যাচ্ছে ঔষধ বেচা কেনা । এসব অনিয়ম দেখার বা বলার কেউ নেই।

সরজমিনে ঘুরে জানা যায়,সৈয়দপুর উপজেলায় শহর ও ইউনিয়ন মিলে প্রায় তিন শতাধিক ঔষধ ফার্মেসী রয়েছে।এর মধ্যে ১৭০ টির মত ঔষধ ফার্মেসীর বৈধ লাইসেন্স রয়েছে।তবে কিছু বৈধ লাইসেন্সের মেয়াদ উর্ত্তীন হলেও তারা কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।তবে বাকি ১৩০টির মত শহর ও গ্রামের অলিগলিতে যেসব ফার্মেসী গড়ে উঠেছে তাদের কয়েক জনের সর্বনিম্ন ফার্মাসিস্ট কোচের সনদ আছে । যাদের ফার্মাসিস্ট সনদ আছে তারা বলেন,ড্রাগস লাইসেন্স বন্ধ থাকায় তারা লাইসেন্স করতে পারছে না। বাকিদের কোন ধরনের বৈধ কাগজ পত্রও নেই। এরপর তারা ঔষধের ফার্মেসী খুলে বসেছে।

এমন কি অলিগলির ফার্মাসিষ্ট সনদ বিহীন ঔষধ ফার্মেসী যারা করছে তারা আবার নিজেদের কে পল্লি চিকিৎসক বা আর এম এফ ডাক্তার বলে রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছে।অথচ ড্রাগস রুলসে উল্লেখ আছে আর এম এফ করা ব্যক্তিরা নামের আগে ডাক্তার ব্যবহার করতে পারবে না। এমনকি তারা কোন প্রকার ঔষধ প্রদর্শন বা বিক্রয় করতে পারবে না।আবার এমনও জানা গেছে এসব লাইসেন্স বিহীন ঔষধ ফার্মেসী গুলো নিম্নমানের কোম্পানির ঔষধ নিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে গুনগত মানের কোম্পানির ঔষধের দামে বিক্রয় করছে।এতে সাধারণ মানুষ প্রতারিত হচ্ছে।এমন কি এই ফার্মেসী গুলো অবাধে যৌন উত্তেজক ঔষধ থেকে শুরু করে উঠতি বয়সের যুবকদের কাছে অবাধে চিকিৎসা পত্র ছাড়া বিভিন্ন ঘুমের ঔষধ বিক্রয় করছে।

সম্মানজনক ব্যবসার মধ্যে ফার্মেসি ব্যবসা অন্যতম। এখানে পুঁজি বিনিয়োগ করে সহজেই লাভবান হওয়ার সুযোগ রয়েছে। ফার্মেসি ব্যবসা করে সফল হওয়ার স্বপ্ন অনেকেই দেখেন। কিন্তু ইচ্ছা করলেই যে কেউ ফার্মেসি ব্যবসা শুরু করতে পারবে না। একটা দোকানে কিছু ওষুধ নিয়ে বসে পড়া বেশ সহজ, কিন্তু প্রক্রিয়াটা অবৈধ। এ জন্য অবশ্যই ব্যবসার অন্যান্য আনুসাঙ্গিক প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের সাথে আরো অতিরিক্ত করতে হবে ফার্মাসিস্টের ট্রেনিং এবং ড্রাগ লাইসেন্স। ঔষধ তিনিই বিক্রি করতে পারবে যার ফার্মাসিস্ট ট্রেনিং আছে এবং যিনি ড্রাগ লাইসেন্স পেয়েছেন। ড্রাগ লাইসেন্স ছাড়া ঔষধের ব্যবসা সম্পূর্ণ অবৈধ এবং আইনগতভাবে এটি একটি দন্ডনীয় অপরাধ।

সৈয়দপুর কেমিষ্টস্ট এন্ড ড্রাগিষ্টস সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃনজরুল ইসলাম মোস্তফা জানান,যাদের বৈধ লাইসেন্স নাই তাদের একটি তালিকা তৈরী করে ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।তিনি আরো বলেন,লাইসেন্স বিহীন ঔষধ ফার্মেসীর কারণে বৈধ লাইসেন্সধারীরাও ব্যবসায়ীক ভাবে দারুণ ক্ষতি ও হুমকির মধ্যে পড়েছেন।তিনি ও তার সংগঠন চান যে সব প্রতিষ্ঠানের বৈধ কাগজ পত্র নেই তারা বৈধ কাগজ পত্র নিয়ে ঔষধ ফার্মেসী ব্যবসা করলে তাদের কোন অভিযোগ থাকবে না।