সৈয়দপুরে এক কলেজ ছাত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

সৈয়দপুরে এক কলেজ ছাত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

স্টাফ রিপোর্টার। নীলফামারীর সৈয়দপুরে নিজের ঘর থেকে কলেজ ছাত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ আগস্ট) দুপুর আড়াইটায় উপজেলার খাতামধুপুর ইউনিয়নের খাতামধুপুর ডাঙ্গাপাড়ায় এই ঘটনা ঘটেছে। মৃত ছাত্রীটির নাম সীমা খাতুন (১৫)। সে ওই এলাকার রিক্সাচালক ডাব্লু ইসলাম ও আরজিনা বেগমের দ্বিতীয় মেয়ে এবং খালিশা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্রী।

 জানা যায়, দুপুর ২ টার দিকে খাওয়ার পর দুই বোন ঘরে বসে কথা বলছিল। এমন সময় সীমা বড় বোন রিমিকে বলে আমার ভালো লাগতেছেনা। তুমি বাইরে যাও আমি ঘুমাবো। এরপর রিমি বাড়ির বাইরে চলে যায়। আধাঘণ্টা পর বাড়ি ফিরে ঘরে ঢুকতে গিয়ে দেখে দরজা ভিতর থেকে লাগানো। 

 অনেক ডাকাডাকি ও দরজায় ধাক্কা দিলেও সীমার কোন সাড়া না পেয়ে বাড়ির অন্যান্যদের ডাকা হয়। সকলে এসে ঘরের বেড়া ও খুটির সাথে দরজার বাধন কেটে ভিতরে ঢুকে দেখা যায় সীমা চালের তিরের সাথে গলায় ওড়না পেচানো অবস্থায় ঝুলছে। তাড়াতাড়ি ঝুলন্ত অবস্থা থেকে নামানো হলেও ততক্ষণে সে মারা গেছে। 

 এলাকাবাসী জানান, সীমার ছোট বেলা থেকেই একটু মাথার সমস্যা ছিল। সে কারণে এমনটা করে থাকতে পারে। তবে একটি সূত্র মতে প্রেমের সম্পর্কের কারণে এই ঘটনা ঘটেছে। অনেকের অভিমত পার্শবর্তী চওড়া বাজার এলাকার এক থাই জুয়ারী ছেলের সাথে সম্পর্ক ছিল। সেক্ষেত্রে কিছু হয়েছে বলেই হয়তো আত্মহত্যা করেছে। 

 আরেকটি সূত্র মতে মেয়েটিও থাই লটারী খেলতো। ওটাতে কোন সমস্যার কারণেও হতে পারে। মৃত্যুর সময় সীমার হাতে মোবাইল ছিল। ওই মোবাইল যাচাই করলেই আত্মহত্যার কারণ সম্পর্কে তথ্যপ্রাপ্তিতে সহায়তা হবে। তাই তারা এব্যাপারে প্রশাসনের তদন্ত এবং লাশের ময়নাতদন্ত দাবী করেছে। 

 তবে পরিবারের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ ও কারণ অস্বীকার করা হয়েছে। কেন এমন ঘটনা ঘটলো জানতে চাইলে বড় বোন রিমি বলেন, আমার বাবা ঢাকায় রিক্সা চালান আর মা বাড়িতেই সেলাইয়ের কাজ করেন। আমরা আল্লাহর রহমতে ভালভাবেই আছি। দুই বোন আর ছোট ভাইটাও পড়াশোনা করছি। কোন সমস্যা নেই। আত্মহত্যা করার মত কোন কারণই নেই। তবু কেম সীমা আত্মহত্যা করেছে তা জানিনা। 

 খবর পেয়ে প্রথমে ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জুয়েল চৌধুরী ও পরে বর্তমান চেয়ারম্যান মাসুদ রানা পাইলট বাবু উপস্থিত হন। তারা বিষয়টি থানায় জানালে ইউপি বিট অফিসার এসআই নারায়ণ চন্দ্র আসেন। পরিবারের অনুরোধে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাফনের সুপারিশ করেছেন চেয়ারম্যান পাইলট। এখবর লেখা পর্যন্ত কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। 

সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম বলেন, আমাদের লোক ঘটনাস্থলে গেছে। পরিবার বা কোন পক্ষ থেকেই কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। বিট অফিসার নারায়ণ চন্দ্র বিষয়টি দেখছেন। ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মেম্বারসহ সকলে মিলে যে সিদ্ধান্ত নিবে। সে অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।