সৈয়দপুরে নিচুকলোনী মসজিদে হচ্ছেটা কি !

সৈয়দপুরে নিচুকলোনী মসজিদে হচ্ছেটা কি !

জাহিদুল হাসান জাহিদ,স্টাফ রিপোর্টার।। নীলফামারীর সৈয়দপুরে নিচুকলোনী মসজিদের পেশ ইমাম ও খতিব ও মোয়াজ্জেম কে পূর্ব লিখিত সতর্ক নোর্টিশ না দিয়ে চাকুরি চ্যুত করায়, এলাকার মানুষ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে, এবং এই নিয়ে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

জানা যায়,গত ১৪ জানুয়ারি রাতে  মসজিদ কমিটি তড়িঘড়ি করে এক আলোচনা সভায় ইমাম ও খতিব মো. মিজানুর রহমান ও মোয়াজ্জেম হাফেজ মো. কাউছার কে  চাকুরি হতে বহিষ্কার পত্র পাঠায়। এই বহিষ্কারের খবর জানা জানি হলে মুসল্লি ও সাধারণ মানুষ ইমাম মোয়াজ্জেমের বহিষ্কারের প্রতিবাদে কমিটির পদত্যাগের দাবিতে ফুঁসে উঠেছে।

এলাকাবাসী বলেন,  ইমাম ও মোয়াজ্জেম কে এই ভাবে যারা অপমান,অসম্মান করে তাদেরও সমজিদ কমিটিতে থাকার কোন অধিকার নেই। তাই তাদেরও পদত্যাগ দাবি করেন।

বহিষ্কারের ব্যাপারে মাওলানা মো.মিজানুর রহমান জানান,আমার চাকুরি চলে গেছে কষ্ট পায়নি কিন্তু আমাকে মিথ্যাবাদী অপবাদ দিয়ে চাকুরি চ্যুত করা হলো। আমি যদি মিথ্যে বলে থাকি কি নিয়ে মিথ্যা বলেছি এবং কাকে নিয়ে মিথ্যা বলেছি,এছাড়া বহিষ্কার পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে আমার পিছনে মানুষ নামাজ পড়ে না। এ কথা সম্পুর্ণ ভিক্তিহীন। দুইজন ব্যক্তি ছাড়া এলাকার প্রতিটি মানুষ আমায় ইমাম হিসেবে সম্মান করে এবং আমার পিছনে নামাজ আদায় করেন। আমি যদি মিথ্যা বলে থাকি এই নিয়ে তো মসজিদ কমিটি কোন দিন সতর্ক নোর্টিশ দেয়নি বা আমার সাথে কমিটির কেউ বসে পরামর্শও করেনি। তাছাড়া মসজিদ সংশ্লিষ্ট ব্যাপারে আমি সব সময় সতর্কতার সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছি। হঠাৎ এভাবে মিথ্যা আপবাদ দিয়ে চাকুরি চ্যুত করার বিচার দাবি করছি।

মসজিদের সভাপতি সাদেকুল ইসলামের কাছে মুঠোফোনে ইমাম,মোয়াজ্জেমের চাকুরী চ্যুতর কথা জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন,মিথ্যা কথা বলার অপারাধে তাদের চাকুরি চ্যুত করা হয়েছে। তবে চাকুরি চ্যুত করার কারণ হিসেবে বলেন, নেহাল চৌধুরী,মাজেদ ও রফিকের নামে মাদ্রাসায় তালা লাগানোর মিথ্যা অপবাদ দিয়েছেন ইমাম। তাছাড়া  অনেক অভিযোগের কথা বলেন তবে সঠিক ভাবে কোন অভিযোগের কথা উল্লেখ করেননি। তার কাছে জানতে চাওয়া হয়, ইমামের বিরুদ্ধে মিথ্যা বলার কোন প্রমাণ আছে কি না,এব্যাপারে ইমামকে সতর্ক করণ কোন লিখিত নোর্টিশ  দেওয়া হয়েছে কি না।তিনি এর জবাবে বলেন না তাদের কোন সতর্ক নোর্টিশ দেওয়া হয়নি। তার কাছে আরো জানতে চাওয়া হয়,ইমামের পেছনে কত জন ব্যক্তি নামাজ পড়েন।তিনি জানান,এক থেকে দুই জন ব্যক্তি ছাড়া সবাই নামাজ পড়েন।

সচেতন মুসল্লিরা জানান, কমিটির হটকারিতা সিদ্ধান্তের কারণে মসজিদ পরিনত হয়েছে হাট বাজারে। সবাইকে বসে দ্রুত সমস্যার সমাধান হওয়া প্রয়োজন। তা না হলে মসজিদে শান্তিতে ইবাদত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।