সৈয়দপুরে মজুরি বৈষম্য নিরসনের দাবীতে এলএসডি গোডাউন শ্রমিকদের কর্ম বিরতি

সৈয়দপুরে মজুরি বৈষম্য নিরসনের দাবীতে এলএসডি গোডাউন শ্রমিকদের কর্ম বিরতি

স্টাপ রিপোর্টার। সৈয়দপুরে সরকারি খাদ্য গুদামে (এসএসডি) মালামাল লোড আনলোড কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা মজুরি প্রাপ্তির ক্ষেত্রে চরম বৈষম্যের শিকারের  অভিযোগে সরকারি পন্য খালাসের কাজে কর্মবিরতি শুরু করেছে খাদ্য গুদামের শ্রমিকরা।

বৃহস্পতিবার(২৮ জুলাই) থেকে এই আন্দোলন চলে আসলেও কর্তৃপক্ষ কোন প্রকার ভ্রুক্ষেপ না করায় শনিবার (৩০ জুলাই) সকালে শ্রমিকরা বিক্ষোভ করে।

তাদের এই কর্মসূচির ফলে সরকারি চাল লোড আনলোডে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কোন ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো সব ধরনের কার্যক্রম স্থগিত করে দেয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়েছে। এতে কয়েকটি ট্রাক মালসহ ৩ দিন ধরে এসএসডি চত্বরে আটকে থাকায় চালকসহ ঠিকাদাররাও দুর্ভোগে পড়েছে। আর লেবাররা মিলারদের ব্যক্তিগত ও বেসরকারি মাল আনলোড করতে না পেরে উপার্জনহীন হয়ে বিপাকে পড়েছে।

সরেজমিনে শনিবার সকাল সাড়ে ১১ টায় সৈয়দপুর খাদ্য গুদামে গেলে দেখা যায়, মূল ফটকে আড়াআড়িভাবে রাখা হয়েছে ৪ টি চালভর্তি ট্রাক। ফলে আর কোন পরিবহন খাদ্য গুদামে ঢুকতে বা বের হতে পারছেনা। লেবাররা জানায় ট্রাক চালকরা ঠিকাদার নুরুল ইসলামের নির্দেশে এই কাজ করেছে।

চালকরা বলেন, আমরা বাধ্য হয়ে এমন করেছি। গত বৃহস্পতিবার নীলফামারী সরকারি খাদ্য গুদাম থেকে চাল এনেছি। আজ শনিবারও মাল খালাস হয়নি। লেবাররা মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলন করছে। তারা সরকারি মাল লোড আনলোড না করে মিলারদের কাজ করছে। খাদ্য গুদাম ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা, জেলা খাদ্য কর্মকর্তা কেউই কিছু করছেন না। ৩ দিন থেকে আমরা এখানে পড়ে আছি। ঠিকাদার বা কর্তৃপক্ষ কেউ দায় নিচ্ছেনা। আমাদের ক্ষতিপূরণ কে দিবে?

খাদ্য গুদাম লেবাররা জানান, আমরা দীর্ঘদিন থেকে মজুরি বৈষম্যের শিকার। সরকারি পন্য লোড আনলোডে বাজার মূল্য অনুযায়ী আমাদের মজুরি অত্যন্ত অমানবিক। বস্তাপ্রতি মাত্র ১ টাকা করে মজুরি পাই। যা একেবারে নগন্য এবং বৈষম্যপূর্ণ। একটা ট্রাক লোড আনলোড করে ৭শ' থেকে ১ হাজার ৪শ' টাকা পেলে ৪৪ জন লেবার ভাগ করে নেই। এতে হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করেও মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে। বার বার এনিয়ে আবেদন জানালেও গরীবের প্রতি কেউ তাকাচ্ছে না।

লেবার সর্দার (সভাপতি) জিকরুল হক বলেন, মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে আমরা ইতোপূর্বেও অনেক আন্দোলন করেছি। প্রতিবারই খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা ও উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা অনুরোধ করে করে আমাদের কাজে নিয়োজিত করেছে।

উর্ধতন কর্তৃপক্ষও কথা দিলেও কাজ করেন না। সর্বশেষ বর্তমান জেলা খাদ্য কর্মকর্তাও হতাশ করেছেন। এজন্য লেবাররা দিশেহারা হয়ে পড়েছে। তাই সরকারি পন্য লোড আনলোড বন্ধ করে দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার থেকে এই কর্মবিরতি চলছে। তবুও কর্তৃপক্ষ নির্বিকার। সমাধান দূরে থাক উল্টো সবধরনের মালামাল লোড আনলোড স্থগিত করেছে। এতে মিলারদের কাজও করতে বাধা দেয়ায় আমরা কর্মহীন হয়ে পড়েছি। এরফলে জটিলতা বেড়েছে। প্রশাসনও সমাধান না করে কর্মকর্তা ও ঠিকাদারদের কথামত গরীব মারা পদক্ষেপকেই প্রাধান্য দিচ্ছে। আমরা এর প্রতিকার চাই।

উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা তৌহিদুর রহমান বলেন, লেবাররা আমাদের কথাও মানেননা। জরুরি সময়ে অহেতুক দাবি তুলে কাজে ব্যাঘাত ঘটায়। আমরা যেন তাদের কাছে জিম্মি। মজুরি বৃদ্ধির কোন কর্তৃত্ব আমাদের নেই। এটা মন্ত্রণালয়ের বিষয়। সামনে টেন্ডার হবে। এতে স্বাভাবিকভাবেই মজুরি বাড়বে। সারাদেশে যে রেটে কাজ করছে লেবাররা সেই রেটই এখানে। তারপরও তারা কথায় কথায় এই ব্যাপারে অরাজকতা সৃষ্টি করে।

তিনি বলেন, জেলা খাদ্য কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসককে