সৈয়দপুরে শ্রমিকদের কর্মবিরতি উপজেলা চেয়ারম্যানের আশ্বাসে স্থগিত

সৈয়দপুরে শ্রমিকদের কর্মবিরতি উপজেলা চেয়ারম্যানের আশ্বাসে স্থগিত

স্টাফ রিপের্টার।। মজুরী বৃদ্ধির দাবীতে আন্দোলনরত নীলফামারীর সৈয়দপুর খাদ্যগুদামের শ্রমিকরা ১০দিন পর কাজে ফিরেছে। উপজেলা চেয়ারম্যান মোখছেদুল মোমিনের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে তাঁরা কর্মবিরতি স্থগিত করেন।

শনিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে শ্রমিকরা কাজ শুরু করায় পন্য খালাস নিয়ে সৃষ্ট অচলাবস্থা নিরসন হয়।

সৈয়দপুর খাদ্য গুদাম শ্রমিকদের সাধারণ সম্পাদক জিকরুল হক জানান, তারা মালামাল উঠানামা করে টন প্রতি মাত্র ৩৫ টাকা পায়। যা বস্তা প্রতি দাঁড়ায় মাত্র ৯৯ পয়সা করে। হাড়ভাঙ্গা খেটেও তারা এই সামান্য মজুরীতে পেটপুরে খেতেও পারছেন না। দ্রব্য মূল্যের চলমান উর্ধগতির ফলে চরম মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে।

এমন পরিস্থিতির দীর্ঘদিন থেকে মজুরী বৃদ্ধির দাবী জানিয়ে আসছি। ইতিপূর্বেও বিভিন্ন আন্দোলন কর্মসূচী পালন করা হয়েছে। প্রতিবারই খাদ্য গুদাম কর্মকর্তারা বিষয়টি দেখছেন বলে আশ্বাস দিয়ে অনুরোধ করে পূনরায় কাজে নিয়োজিত করেছে। কিন্তু আজাবধি কোন সুরাহা হয়নি। যে কারণে শ্রমিকরা অত্যন্ত দূরাবস্থায় পড়েছে। দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে গত ২৮ জুলাই আবারও আন্দোলনে নামেন শ্রমিকরা।

পরে সৈয়দপুর উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোখছেদুল মোমিন কে জানানো হয়। তিনি শ্রমিকদের সাথে আলোচনা করে দাবীর বিষয়ে অবগত হন এবং উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথেও আলোচনা মজুরী বৃদ্ধির আশ্বাস দেন।

গুদাম কর্মকর্তা শামীমা নাছরীন জানান, মজুরী বৃদ্ধির বিষয়ে অচিরেই নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। সেই সাথে শ্রমিক মজুরী কার্যক্রম পরিচালনায় ঠিকাদার নিয়োগ করতে টেন্ডার হবে। ওই প্রজ্ঞাপনে যাতে মজুরী বাড়ানো হয় সে ব্যাপারে সুপারিশ করে লিখিত জানাবেন জেলা খাদ্য কর্মকর্তা। একারণে উপজেলা চেয়ারম্যান আমাদেরকে আশ্বস্ত করেন যে, সার্বিক প্রচেষ্টা চালানো হবে এই ব্যাপারে। তাই আমরা তাঁর কথার প্রেক্ষিতে আমাদের কর্মবিরতি কর্মসূচী স্থগিত করে কাজে যোগদান করছি।

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ মোখছেদুল মোমিন বলেন, এই খাদ্য গুদাম শ্রমিকরা আওয়ামী শ্রমিক লীগ করে। তাদের দাবী অত্যন্ত যৌক্তিক। সরকার টনপ্রতি ৫০ টাকা বরাদ্দ দেয়। কিন্তু শ্রমিকরা পাচ্ছে মাত্র ৩৫ টাকা। বাকী টাকা কোথায় যাচ্ছে তা খাদ্য কর্মকর্তা বলতে পারছেন না। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। শ্রমিকদের ন্যায্য দাবী বাস্তবায়নে উর্ধতন কর্তৃপক্ষ ও সরকারের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দের সাথে যোগাযোগ করে একটা সমাধান করা হবে।