হতদরিদ্র জেলে পরিবারের সন্তান গোবিন্দ দাস টাকার অভাবে মেডিকেলে ভর্তি অনিশ্চিত! 

হতদরিদ্র জেলে পরিবারের সন্তান গোবিন্দ দাস টাকার অভাবে মেডিকেলে ভর্তি অনিশ্চিত! 
ছবিঃ সংগৃহীত

আবু তাহের।।  স্টাফ রিপোর্টার।। ০৪ মে, মংগলবার।। মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ পলাশবাড়ী সরকারি ডিগ্রী কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অদম্য মেধাবী হতদরিদ্র জেলে পরিবারের সন্তান গোবিন্দ দাস মেডিকেলে ভর্তি হতে পারছেনা।

সন্তানের ভর্তি ফিসহ ভবিষ্যত পড়ালেখা নিয়ে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন জেলে পরিবারটি। মানুষরা সাধারণত মানবসেবা করে যেতে চান। কিন্তু সুযোগ-সুবিধা অনুকূলে না থাকায় তা অনেকেই কূলে উঠতে পারেননা।গোবিন্দ'র প্রথম পছন্দের পেশা চিকিৎসক হওয়া।প্রত্যাশা পূরণে সুযোগ পেয়েও আর্থিক দৈন্যদশায় প্রত্যাশা পূরণ হবে কি-না তা নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা সংশয়। ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে সাতক্ষীরা মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পান গোবিন্দ দাস। পারিবারিক সামর্থ না থাকায বিপাকে পড়েছেন পরিবারটি। শিশু বয়স থেকেই নানা অভাব-অনটন আর টানাপোড়েনের মধ্যদিয়ে পড়ালেখা করে আসছিল গোবিন্দ। সাদুল্লাপুরের রূপনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ৫ম শ্রেনি এবং মাদারহাট আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয় গোবিন্দ।

অর্থাভাবে একসময় লেখাপড়া প্রায় বন্ধ হবার উপক্রম হয়ে পড়ে। কিন্তু এলাকার মানবিক দানশীলদের সহযোগীতায় পলাশবাড়ী সরকারী কলেজে ভর্তি হন সে।সেখান থেকে এইচএসসি'তেও জিপিএ-৫ পান গোবিন্দ।সারাদেশের মেধাক্রম তালিকায় সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয় সে।কিন্তু অর্থাভাবে ভর্তি হতে পারছেনা গোবিন্দ।ছেলের এমন সফলতায় জেলে সম্প্রদায়ের বাবা কমল চন্দ্র ও গৃহিণী মা সুধারানী দম্পতি ও গোবিন্দ'র ছোট দু'ভাই-বোনসহ জেলেপাড়ার সবাই বেজায় খুশি। যারা এতদিন বিভিন্নভাবে সহায়তা করে আসছিলেন গোবিন্দর সফলতায় তারাও বেজায় খুশি। পরিবারটি উচ্ছ্বসিত হলেও চোখ-মুখ থেকে হতাশার ছাপ যেন পিছু ছাড়ছে না।

গোবিন্দ জানায়, চিকিৎসক হয়ে সে দেশ এবং দশের সেবা করতে চান।বাবার পরিশ্রম-মায়ের যত্ন আর শিক্ষকদের সহযোগীতা তার লেখাপড়ার সাহস যুগিয়েছে। আগামীর ডাক্তার গোবিন্দ বলেন মাথা গোঁজার ঠাঁই বলতে যতসামান্য বসতভিটা।মা-বাবা আর তিন ভাই-বোনসহ ৫ সদস্যের পরিবার খড়ের মাটির ঘরে তাদের বসবাস।

জেলে পরিবার গুলোর ফেলে আসা সোনালী অতীতের সুদিন আর নেই। এলাকার চিহৃিত নদী-নালা, খাল-বিল ও ডোবাসহ জলাশয় গুলো নেই। ভরাট হয়ে গেছে।পৈত্রিক পেশা ছেড়ে ভিন্ন পেশায় দিনাতিপাত করছে জেলেরা। মৌসুমে কিছু সময় মাছ ধরে বাজারে বিক্রি করলেও তা পুরো বছর সম্ভব হয়না। গোবিন্দ'র বাবা কমল চন্দ্র দাস এখন তাদের আদি পেশা ছেড়ে স্বল্প পুঁজি খাটিয়ে দুর-দুরান্তের বিভিন্ন হাট-মোকাম থেকে মাছ কিনে তাদের বাড়ী এলাকার বাজারে বিক্রি করে যাই উপার্জন করেন তা দিয়ে কোন রকমে দু'বেলা দু'মুঠো অন্নের সংস্থানসহ পরিবারের ভরন-পোষণ ছাড়াও ছেলে মেয়ের পড়ালেখা চালিয়ে নেন। যেদিন মাছ কেনা-বেচা সম্ভবহয় না এমনও দিন আসে সেদিন তাদের কোনরকমে দিন অতিবাহিত করতে হয়।
ছেলের ডাক্তারি ব্যয় পরিবারটির যেন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। কষ্ট করে হলেও পারিবারিক অনুশোচনা থেকেই ছেলে-মেয়ের ব্যয়বহুল লেখাপড়া চালিয়ে এসেছেন বলে জানান বাবা কমল চন্দ্র। চলমান দ্রব্যর্মূল্যের এসময় সাধ থাকলেও সামর্থ্য না থাকায় শত চেষ্টা করেও পারিবারিক ব্যয়সহ সন্তানদের লেখাপড়ার ব্যয় যেন আর টানতে পারছেননা। ছেলের ভর্তি চিন্তায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে পরিবারটি। তবে স্থানীয়ভাবেসহানুভূতিশীল অনেকেই অনেকটা সাহস যুগিয়েছেন। 

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ইদিলপুর ইউনিয়নের প্রত্যন্তপল্লীর রূপনাথপুর গ্রামের মেধাবী গোবিন্দ প্রায ১০/১২ কি.মি.দূর থেকে খেয়ে না খেয়ে কখনো পায়ে হেঁটে আবার কখনো বাইসাইকেল হাঁকিয়ে অনেক কষ্ট করে পলাশবাড়ী কলেজে লেখাপড়া চালিয়ে এসেছেন।বাবা-মায়ের আর্তি তারা স্বপ্ন দেখেন ছেলে আমাদের ডাক্তার হবে। কিন্তু সে স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয় কি-না এ চিন্তা যেন তাদের মাথা থেকে নামছেনা। ভর্তি ফিসহ আগামী ৫ বছর পড়াশুনার অগাধ ব্যয়বহন মেটাবেন কি-করে। এসব দুঃশ্চিন্তা আষ্টেপৃষ্টে আঁকড়ে ধরেছে পরিবারটিকে। নির্ঘুম রাত কাটছে অসহায় পরিবারটির।গর্বিত অনুভব করলেও অভাবগ্রস্থ পরিবারটির সন্তান গোবিন্দ ডাক্তারী পড়া নিশ্চিত করতে পরিবারটি এলাকার এমপি, জন প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী,  জেলা-উপজেলা প্রশাসন ছাড়াও সমাজের সর্বস্তরের দানশীল বিত্তশালী মানবিক মানুষদের নিকট আর্থিক সহায়তা কামনা করেছেন। (সহায়তা পাঠাবার ঠিকানা: মোবাইল-গোবিন্দ বিকাশ:০১৮৬৭-৮৯১৪০২)