হাতিয়ায় ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে বিভিন্ন জায়গা প্লাবিত।

হাতিয়ায় ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে বিভিন্ন জায়গা প্লাবিত।
ছবিঃ সংগৃহীত

মোঃ ছাইফুল ইসলাম।।হাতিয়া প্রতিনিধি।। ২৫ মে, মংগলবার।। হাতিয়া ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে অতিরিক্ত জোয়ারের পানিতে হাতিয়া নলচিরা ঘাট,নিঝুমদ্বীপ সহ বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। হাতিয়া উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্লাবিত স্থান গুলোতে নেয়া হয়েছে ব‍্যাপক প্রস্তুতি ও তৎপরতা।

ইতিমধ্যে ঘূর্ণিঝড় ইয়াস মোকাবেলায় নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়া সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। হাতিয়া উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আশ্রয়ণ কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত করা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের বার্তা অনুযায়ী ২৬ মে (বুধবার) বিকেলের পর থেকে সন্ধ্যার মধ্যে ঘূর্ণিঝড়টি উপকূলে আঘাত হানা শুরু করবে। 

ঘূর্ণিঝড়টি মূলত পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িষা ও বিহার উপকূলীয় এলাকায় আছড়ে পড়তে পারে। বাংলাদেশের খুলনা উপকূলেও আঘাত হানার সম্ভাবনা রয়েছে ঝড়টির।

সোমবার (২৪ মে) বেলা ১২ টায় হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইমরান হোসেন বলেন, ইয়াস মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসন জেলা প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ রেখে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। প্রস্তুত করা হয়েছে ১৮১ টি আশ্রয় কেন্দ্র। যাতে ৮০ হাজার মানুষের ধারণ ক্ষমতা রয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্র গুলোতে মানুষ যাতে সহজে আসতে পারে তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তিনি আরও জানান, সাইক্লোন সেন্টারে দুর্গত মানুষকে নিয়ে আসা ও খাদ্য সহায়তা প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে মনিটরিং কমিটি গঠন করা হবে। চর আতাউর, ঢাল চর, চর ঘাশিয়াতে বসবাসরত লোকদের তমরুদ্দি ইউনিয়ন ও সুখচর ইউনিয়নে নিয়ে আসা হবে। কোস্টগার্ড ও নৌ পুলিশকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। 

আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মানুষের জন্য বিশুদ্ধ পানি ও শুকনো খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ৩০ থেকে ৩৫ জন স্বোচ্ছাসেবক ওয়ার্ড ভিত্তিক কাজ করবেন। গঠন করা হয়েছে মেডিকেল টিম। সিপিপির পক্ষ থেকে উপজেলা প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।


হাতিয়া থানার অফিসার ইনহার্জ (ওসি) আবুল খায়ের বলেন, পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইয়াস মোকাবিলায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উপজেলা প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে কাজ করবে পুলিশ।


ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় আয়োজিত এক ভার্চুয়াল সভায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খান বলেন, ঘূর্ণিঝড় ইয়াস থেকে মেঘনা উপকূলীয় বাসিন্দাদের রক্ষায় ৩৯০ সাইক্লোন সেন্টার  প্রস্তুত রয়েছে। দুর্যোগের আগে ও পরে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে মেডিকেল টিম গঠন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনা থেকে রক্ষার জন্য জেলা-উপজেলা প্রশাসন, জেলা-থানা পুলিশ প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগের হটলাইন নম্বরগুলো ২৪ ঘণ্টা চালু থাকবে। নম্বরগুলো জনসাধারণের জন্য প্রচারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। 


উল্লেখ্য,নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ হাতিয়া উপজেলা পুরোটা মেঘনা নদীর দ্বারা বেষ্টিত। তাই যে কোনো প্রাকৃতিক দূর্যোগ এই দ্বীপটির উপর আঘাত হানে বেশি।