আমরা বেসরকারী নই, বেদরকারী শিক্ষক।

আমরা বেসরকারী নই, বেদরকারী শিক্ষক।

স্কুল জীবনে একটি রচনা পড়েছিলাম "একজন শিক্ষকের আত্মকাহিনী"। রচনাটিতে খুব সূক্ষ্মভাবে শিক্ষকদের দৈন দশার ছবি ফুটিয়ে উঠানোর চেষ্টা করা হতো। শিক্ষকরা নাকি জাতির বিবেক! শতাব্দীর ভয়াবহ বিপর্যয় কোভিড-১৯ এর ছোবলে সবাই যখন ক্ষত বিক্ষত, তখন একটিমাত্র প্রজাতি "বেসরকারী কেজি শিক্ষক" অক্ষত। এই শিক্ষকরা নাকি জাতির বিবেক! তাই কেউ কোন রকম আর্থিক প্রনোদনা বা সহমর্মিতা দিয়ে জাতির বিবেককে অপমানিত করতে চান নি। বেসরকারি শিক্ষকরা আসলেই "বেদরকারি" শিক্ষক। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় সরকারি স্কুলগুলোতে পড়ার সুযোগ পায় মোট শিক্ষার্থীর ৫% শিক্ষার্থী। সিংহভাগ শিক্ষার্থীই "বেদরকারি" (বেসরকারি) স্কুলগুলোতে পড়াশুনা করে। বেসরকারি কেজি স্কুলগুলোতেই বেশিরভাগ শিক্ষার্থী তাদের শিক্ষা জীবন শুরু করে। এখান থেকেই তাদের ভবিষ্যত জীবনের সুদৃঢ় ভিত রচনা করে। কিন্তু বিভিন্ন জনের হাব ভাব দেখে বার বার একটি কথাই মনে আসে। ঝড়ের রাতে মাঝির হাতে পায়ে ধরে নদী পার হওয়া ব্যক্তিটিই রৌদ্রোজ্জ্বল সকাল বেলায় বলে "মাঝি কোন শালারে"। বেসরকারি কেজি স্কুলগুলোর শিক্ষকরা কতটা মানবেতর জীবন যাপন করছে সেটা বলে বা লিখে বুঝানো যাবে না। কারন এলিট শ্রেণির অনেককেই বলতে শুনেছি" এইবার মাষ্টররা পড়ছে মাইনকা চিপায়"। আসলে আমাদের শিক্ষকদের মর্যাদা কাগজে কলমেই সীমাবদ্ধ। ১৯৯৪ সালে ভারতে রাষ্ট্রপতি শংকর দয়াল শর্মা যখন ওমানে সফরে গিয়েছিলেন, তখন ওমানের রাজা প্রটোকল ও ঐতিহ্য ভেঙ্গে তাঁকে সম্মান জানিয়েছিলেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছিলেন, আমি কোন রাষ্ট্রপতিকে সম্মান দেখাইনি, আমি সম্মান দেখিয়েছি আমার শিক্ষককে। জানি সম্ভব নয়, তবুও বাদশাহ আলমগিরকে যদি কিছু সময়ের জন্য বাংলাদেশে পাঠানো হতো, তিনি শিক্ষকদের এ অবস্থা দেখে মহাপাপ জেনেও লজ্জা ও ঘৃনায় আত্মহত্যা করতেন। এত কিছুর পরও আমি নিজেকে শিক্ষক বলে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করি।

লেখকঃ আশরাফ উল আলম

সহকারী শিক্ষক মর্নিংসান ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজ