করোনা নিয়ে প্রবাসী ভাবনা

করোনা নিয়ে প্রবাসী ভাবনা
মোহাম্মদ রাসেল হাওলাদার

মোহাম্মদ রাসেল হাওলাদার, দুবাই, ০৯ অক্টোবর।। কোভিড-১৯ ময় পৃথিবীতে  সকল সেক্টরেই ধস্ নেমেছে। তারমধ্যে প্রবাসীরাও একটা বড়ধরনের বিপর্যয়ের সম্মুখীন। কারণ হিসেবে বলা যায় গ্লোবাল ইকোনোমির বর্তমান অবস্থা ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ অবস্থায়। কম বেশী প্রতিটি দেশই অস্তিত্বের লড়াই এ যুদ্ধ করে যাচ্ছে অনবরত। কিছু দেশ ও তাদের কর্ম প্রতিষ্ঠান গুলো বাঁচিয়ে রেখেছে আলোর শিখা।

এ অবস্থার প্রথমে  নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো ঐ দেশের ভর্তুকি ও মানবিকতায় চলছে। তবে এখন মহামারী দীর্ঘ মেয়াদি হওয়ার কারনে তা-ও বন্ধ হবার উপক্রম। গত জুনের পর হতে সকল প্রতিষ্ঠানকে তার সকল আনুসাঙ্গিক ব্যয়ভার বহন করতে হচ্ছে। তবে উৎপাদনে ও বিপননে আগের অবস্থায় যেতে পারেনি কোন প্রতিষ্ঠান।   

বাংলাদেশের কর্মীদের প্রেক্ষাপটে উল্লেখিত বিষয় খুবই স্পষ্ঠ। কোন প্রতিষ্ঠান,কোম্পানি কিংবা নিয়োগকর্তা  নিজ পকেট হতে কর্মিদের বেতন দেয় না তেমনি দেয়ার সম্ভাবনাও ক্ষীণ। যতদিন প্রতিষ্ঠান ব্যবসায় লাভবান হবে ঠিক ততোদিনই কর্মীরাও বেতন ভাতা পেয়ে যাবেন। নতুবা প্রতিষ্ঠান তার কর্মী  ছাঁটাই অথবা ব্যবসা পরির্তন করবে।
ধরে নেওয়া যাক একটি কোম্পানিতে ১০ জন কর্মচারী ছিলো ! বর্তমানে বিপনন ৫০% হয়েগেছে। তাই সে যদি ৩০% লোকবল কমায় তাহলে তিনজন চাকুরিচ্যুত। আর সেই তিনজনের মধ্যো কাকে বাদদিবে? যে ছুটিতে আছে তাকে! না যে বর্তমানে ডিউটিরত? স্বাভাবিকভাবেই ছুটিকাটানো লোকটার উপরেই খড়ঁগ পড়বে। তাই যারা এখন দেশে আছেন তাদের মধ্যো কর্মে ফেরার অনিশ্চয়তাই বেশি। যদি কর্মস্থলে যেতেও সক্ষম হন,তবে পূর্বের বেতন আশা করাটাও হবে অনিশ্চিত।
    এবারে আসি দ্বিতীয় ধাপে, তা হলো গত মার্চ হতে এখন পর্যন্ত সকল সেক্টরের ব্যয়ভার সকল কোম্পানি/স্পন্সর কে পরিশোধ করতে হয়েছে। যেমন, ঘড় /ক্যম্প ভাড়া+পানি,বিদ্যুত+লাইসেন্স+পোষ্টবক্স+ইন্সুইরেন্স+লেবার।  তাতে প্রায়  সকল   কোম্পানি/স্পন্সরের জমানো অর্থ শেষ, বেশিরভাগ ছোট প্রতিষ্ঠানগুলো দেউলিয়া। অনেকেই লাইসেন্স সারেন্ডার করে দিয়েছে আবার কেউবা সারেন্ডার করার ভাবনায় আছে। শুনতে অবাক লাগলেও বাস্তবতা এরকমটাই। 
 তাহলে কর্মচারীর কি হবে? সোজা উত্তর বিদায়। আর সে যদি দেশে থাকে তাহলেও খুব কম প্রবাসী তাদের কাজে পুনরায় যোগদান করার সুযোগ পাবেন। এছাড়াও ওখানে থাকলেও ফেরত আসতে হবে, নয় অবৈধভাবে পালিয়ে যাবে।
 
তৃতীয় ধাপে, তা হলো কোন দেশের এমপ্লয়ইমেন্ট ভিসাধারী লোক ১৮০ দিন ঐ দেশের বাইরে থাকলে, ইমিগ্রেশনে তার ভিসা স্টপ হয়। যা স্পন্সর কতৃক নতুন করে সম্মতি সহ ইমিগ্রেশনের অনুমতিপত্র এয়ারপোর্টে জমা দিতে হয়। যা আপনজন না হলে কর্মব্যস্ত স্পন্সর কখনই করেন না প্রায় ৯৯% সময়ে।
চতুর্থ ধাপে, ধরুন,আপনার ভিসার /আকামার মেয়াদ শেষ, তারপর আপনি যে কোনভাবে এন্ট্রি হয়েছেন। এখন বিষয় হলো আপনার এক্সপেয়ারির জন্য ঐ দেশের ইমিগ্রেশন আইন অনুযায়ি প্যানাল্টি সহ জরিমানা পরিশোধ করতে হবে।  নতুবা আপনি অবৈধ এবং যতদিন থাকবেন ততদিনই জরিমানার টাকা চক্রবৃদ্ধিহারেে বাড়তেই থাকবে। 
ভয়ংকর সমস্যা টা হলো যখন আপনার স্পন্সর জরিমানার খবর জানতে পারবে ঠিক তখনই সাথে সাথে আপনাকে সে ক্যনসেল করে পাসপোর্ট হ্যন্ডওভার করবে। কেননা সে আগে নিজে বাঁচতে চাইবে। 
পঞ্চম ধাপে, আপনাকে মানষিক ভাবে প্রস্তুুত হতে হবে এই ভেবে, যে আগের স্যালারী পাবেন না ( অবস্থা স্বভাবিক না হওয়া পর্যন্ত)।
সুযোগ-সুবিধাও কমে যাওয়ার সম্ভাবনাও প্রবল।
         
   
   ............  চলবে।