কলাপাড়া হাসপাতালে ’অনিয়ম ও দুর্নীতির নৈরাজ্য ডাঃ অবহেলায় রুগীর মৃত্যু 

কলাপাড়া হাসপাতালে ’অনিয়ম ও দুর্নীতির নৈরাজ্য ডাঃ অবহেলায় রুগীর মৃত্যু 
ছবি- আতিকুল ইসলাম মিরাজ

আতিকুর রহমান মিরাজ, পটুয়াখালী, ১১ অক্টোবর।। পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায়  ডাক্তারের অবহেলায় রোগী জবেদা বেগম (৭০)’র মৃত্যু এবং মৃত রোগীর স্বজনদের নামে ডাক্তারের দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবীতে প্রেসক্লাবের সামনে শত শত মানুষ মানববন্ধনে অংশ নেয়। প্রায় ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধনে হিমন ছাড়াও পরিবারের স্বজনরা  প্রতিবাদী বক্তব্য প্রদান করেন মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান  শাহীনা পারভীন সীমা, নাগরিক কিমিটির সদস্য অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম,নীলগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ এর সিনয়র সহ সভাপতি মোঃ বাবুল মিয়া,আওয়ামী যুবলীগ নিউ মার্কেট থানার ( ঢাকা ) যুগ্ম আহবায়ক গিয়াস উদ্দিন মিয়া,নেসার উদ্দিন আহম্মদ খোকন,মরিয়ম পাখি, ছাত্রনেতা ইশরাক জুবায়ের বিশাল প্রমূখ।সঞ্চালনা করেন আতিকুর রহমান মিরাজ।

মানববন্ধন শেষে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ  ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ সম্পাদক  মহসিন উদ্দিন হিমন বলেন,’বুধবার (৭অক্টোবর) সন্ধ্যা সাতটায় অসুস্থ অবস্থায় আমার চাচী জবেদা বেগমকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তনিমা পারভিন রুনা দায়সারা গোছের চিকিৎসা দিয়ে তাকে বরিশাল রেফার করেন। চাচী জবেদা বেগম যখন শ্বাস কষ্টে ছটফট করছিল তখন চাচাতো ভাই-বোনেরা ডাক্তারের যথাযথ সহায়তা পায়নি।তখন অপর একজন ডাক্তারের কক্ষে কর্তব্যরত চিকিৎসক খোশগল্পে মেতেছিল।চিকিৎসা সেবার জন্য বার বার তাকে অনুরোধ করার পরও রোগীকে রেফার করা হয়েছে বলে ডাক্তার তার দায়িত্ব শেষ করেন। এনিয়ে তর্ক বিতর্ক সহ উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। এক পর্যায়ে উপায় না পেয়ে এ্যাস্বুলেন্সে বরিশাল নেয়ার পথে আমতলী যাওয়ার আগেই আমার চাচী মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। এরপর আমরা সবাই মিলে মরদেহ দাফন-কাফনে ব্যস্ত ছিলাম। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শুনতে পাই, ডাক্তার তনিমা পারভিন আমি সহ আমাদের ৪ ভাই, ১ বোন ও চাচাতো ভাই ফুফাতো ভাইদের নামে কলাপাড়া থানায় সরকারি কাজে বাঁধা দান, তাকে প্রান নাশের হুমকী এবং ডাক্তারকে লাঞ্চিত করার অভিযোগ এনে মামলা করেছেন।’

হিমন’র অভিযোগ, ’ডাক্তারের নামে আমরা থানায় অভিযোগ দিতে গেলে অফিসার ইনচার্য  নানা অযুহাতে দুই বার  ফিরিয়ে দিয়েছে অভিযোগ নেয়নি। সেখানে উল্টো আমাদেরকে আসামী করে মামলা করা হয়েছে। এ মামলা মিথ্যা, যা প্রত্যাহারের দাবি সহ দীর্ঘ বছর একই এলাকায় কর্মরত থেকে জমি জায়গা কিনে বাগান বাড়ী ও ক্লিনিক গড়ে তোলা ডাক্তারদের অপসারনের দাবী করেন তিনি।’
 
একই এলাকায় বছরের পর বছর চাকরির সুবাদে অনিয়ম ও দুর্নীতির টাকায় বাগান বাড়ি,স্ত্রীর নামে প্রাইভেট ক্লিনিক গড়ে তোলা হয়েছে।অথচ হাসপাতালে চিকিৎসকদের গাফেলতির কারনে অহরহ রোগী মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে।জরুরী সেবা নিশ্চিতে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া নৌ - এ্যাম্বুলেন্স টি বিকলহয়ে পানিতে নিমজ্জিত অবস্থায় আছে।এসব নিয়ে ফেসবুক ও প্রতিবাদ করায় আমাদের নামে মিথ্যা ও হয়রানী মূলক মামলা করা হয়।আমরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
উল্লেখ্য, মৃত রোগী জবেদা বেগম সাবেক প্রয়াত এমপি আনোয়ার-উল-ইসলামের ভাই আমিরুল ইসলামের স্ত্রী।