সিলেটে পুলিশি ‘নির্যাতনে’ মৃত্যুর ঘটনায় চার পুলিশ সদস্য বরখাস্ত

সিলেটে পুলিশি ‘নির্যাতনে’ মৃত্যুর ঘটনায় চার পুলিশ সদস্য বরখাস্ত
বরখাস্ত হওয়া পুলিশ আকবর

আজকাল বাংলা, সিলেট প্রতিনিধি, ১৩ অক্টোবর ২০২০।।
বন্দর বাজার ফাঁড়িতে পুলিশি ‘নির্যাতনে’ রায়হানের মৃত্যুর ঘটনায় বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়া, এএস আই আশেক আলী, কুতুব আলী ও কনস্টেবল সজীব হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে মেট্রোপলিটন পুলিশ। একই সাথে হারুন অর রশিদ, তৌহিদ মিয়া ও টিটু চন্দ্র দাস কে প্রত্যাহার করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসি উত্তর আজবাহার আলী শেখ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।


এর আগে রোববার (১১ অক্টোবর) ভোরে পুলিশের নির্যাতনে রায়হান উদ্দিন (৩৩) নামে এক যুবক নিহত হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন তার স্বজনরা। নিহত ওই যুবক সিলেটের আখালিয়ার নেহারিপাড়ার মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে।
পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ছিনতাইকালে গণপিটুনিতে মারা গেছেন রায়হান। তবে নিহতের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, পুলিশ ধরে নিয়ে নির্যাতন করে রায়হানকে হত্যা করেছে। পরিবারের অভিযোগে ভিত্তিতে তদন্ত কমিটি গঠিন করেছে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ।


এদিকে রোববার দিবাগত রাতে নিহত রায়হানের স্ত্রী বাদী হয়ে অজ্ঞাত কয়েকজন আসামি করে কোতোয়ালী থানায় মামলা দায়ের করেছেন রায়হানের মা সালমা বেগম ও চাচা হাবিবুলল্লাহ জানান, রায়হান নগরীর রিকাবীবাজারে
স্টেডিয়াম মার্কেটে ডা. আবদুল গফ্ফারের চেম্বারে চাকরি করতেন। রায়হান বিবাহিত ও এক সন্তানের জনক।

গত শনিবার রাতে কর্মস্থল থেকে রায়হানের বাসায় ফিরতে দেরি হওয়ায় রাত ১০টার দিকে তার স্ত্রী মোবাইল ফোনে কল দিয়ে বন্ধ পান। পরে ভোর রাত ৪টার দিকে অপরিচিত নম্বর থেকে রায়হান তার মায়ের মোবাইল ফোনে কল দিয়ে জানায়, তাকে বন্দরবাজার পুলিশ  ফাঁড়িতে ধরে নেওয়া হয়েছে এবং ১০ হাজার টাকা দিলে ছেড়ে দেবে বলে পুলিশ
জানিয়েছে। এরপর রায়হানের মা তার চাচা হাবিবুল্লাহকে ৫ হাজার টাকা দিয়ে ফজরের নামাজের পরপরই বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে পাঠান। এ সময় সাদা পোশাকে ফাঁড়িতে অবস্থানরত এক পুলিশ সদস্য হাবিবুল্লাহকে বলেন, ‘১০ হাজার টাকা নিয়ে আসার কথা, আপনি ৫ হাজার এনেছেন কেন, এখন চলে যান, রায়হান ঘুমাচ্ছে। এছাড়া রায়হানকে যে কর্মকর্তা ধরে এনেছেন তিনিও এখন ফাঁড়িতে নেই। সকাল ৯টার দিকে আসবেন।’ তার কথামতো হাবিবুল্লাহ সকাল ৯টার সময় আবার ফাঁড়িতে যান। এ সময় ফাঁড়িতে অবস্থানরত পুলিশ সদস্যরা জানান, রায়হান অসুস্থ হওয়ায় তাকে
ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। তখন হাবিবুল্লাহ দ্রুত ওসমানী হাসপাতালে গিয়ে খোঁজ নিয়ে মর্গে রায়হানের লাশ পান। ময়নাতদন্ত শেষে রোববার বিকেল ৪টার দিকে পরিবারের কাছে মৃতদেহ হস্তান্তর করা হয়।


এদিকে বন্দরবাজার পুলিশ ফাড়িঁর ইনচার্জ আকবর হোসেন ভূইয়ার বরখাস্তের খবরে নগরবাসী স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছে। ফাড়িঁতে দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে তার অনিয়ম ও অত্যাচারে অতিষ্ঠ নগরবাসী। ভোরে সিলেটগামী অন্য জেলার জনগণকে প্রতিনিয়ত হয়রানী করতেন বলে অনেকে অভিযোগ করেছেন। ক্ষুদ্র মুদি দোকান থেকে শুরু করে পথচারী পর্যন্ত তার কাছ থেকে রেহাই পেত না। অথচ বাংলার দেব নামে খ্যাত বির্তকিত পুলিশ অফিসার আকবর ভূইয়া বিগত লকডাউনের সময় গ্রীণবাংলা চ্যানেলের বিভিন্ন নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে সোস্যাল মিডিয়া বেশ সোচ্চার ছিলেন।


রায়হান মৃত্যুর ঘটনায় শুধু তার পরিবার নয়, গোটা সিলেটের সর্বস্তরের জনসাধারণ 
বির্তকিত পুলিশ অফিসার আকবর ভূইয়ার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করছেন।