৩১ বছরের রাজনীতি জীবনে দলের জন্য অনেক ত্যাগ করেছি, এবার নৌকা প্রতীক চাইবো: বাবলা চৌধুরী

৩১ বছরের রাজনীতি জীবনে দলের জন্য অনেক ত্যাগ করেছি, এবার নৌকা প্রতীক চাইবো: বাবলা চৌধুরী
ছবিঃ সংগৃহীত
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি।।আসন্ন আগামী ২৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ১৩ নং ইসলামপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নৌকা প্রতিক নিয়ে নির্বাচন করতে চান ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ  সম্পাদক নজরুল ইসলাম চৌধুরী বাবলা। আগাগোড়া  আওয়ামী পরিবারের সন্তান ও নিজেকে একানিষ্ঠ বঙ্গবন্ধুর সৈনিক এবং ক্লিন ইমেজের ব্যাক্তিত্ব হিসেবে ইসলামপুর আওয়ামীলীগের যোগ্য প্রার্থী দাবি করে নির্বাচনে অংশ নিতে চান তিনি। রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বহুল আলোচিত ইসলামপুর ইউনিয়নে প্রত্যাশিত আওয়ামীলীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান হলে এলাকার উন্নয়ন ও গরিব দুঃখিদের পাশে থেকে কাজ করার প্রত্যাশা ব্যক্তয় করেছেন বাবলা চৌধুরী।
ইসলামপুরের বিভিন্ন শ্রেনীর পেশার মানুষের সাথে আলাপ করে জানা গেছে ,আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বাবলা চৌধুরীর পরিবার আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। বাবা রাজা মিয়া চৌধুরী বৃটিশ শাসিত পাকিস্তান-ভারত শাসন আমলে ১৯৪৭ সাল থেকে ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত (মৃত্যু আগ মুহূর্ত) দীর্ঘ ৩০ বছর মেম্বার ছিলেন। এছাড়াও তিনি একজন প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা ও প্রতিষ্ঠাকালীন আওয়ামী লীগের সদস্য ছিলেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট  জাতিরজনক বঙ্গবন্ধুকে স্ব-পরিবারে হত্যার পর ১৯৭৬ সালে বঙ্গবন্ধুর অনুসারী হিসেবে পরিচিত হওয়ায় দুর্বৃত্তরা রাজা মিয়া চৌধুরীকে গুলি করে হত্যা করেন।
বঙ্গবন্ধুর প্রতি বাবার শ্রদ্ধা ও ভালবাসাকে বুকে ধারণ করে ছোট থেকেই বাবলা চৌধুরী বঙ্গবন্ধু`র আত্মজীবনী ও তার ভাষণ এবং আদর্শে অনুপ্রেরিত হয়ে আজ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের হয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। ৯০ এর স্বৈরশাসক এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ১৯৯০ সালে ছাত্রলীগের যোগ দিয়ে রাজনীতি শুরু করেন বাবলা চৌধুরী। এরপর ১৯৯৬ সালে ইসলামপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহ সভাপতি নির্বাচিত হন। ৯৬ সালে থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হয়ে সফলতার সাথে ছাত্রলীগের দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে বিএনপি জামায়াত জোট সরকারের আমলে ২০০২ সালে সম্মেলনের মাধ্যমে ইসলামপুর ইউনিয়ন যুবলীগের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। ২০০৫ সালে যুবলীগের সহ সভাপতি নির্বাচিত হন। এসময় বিএনপির জোট সরকার তার বিরুদ্ধে ৬ টি রাজনৈতিক মামলার দেয়। ২০০৮ সাল পর্যন্ত যুবলীগের দায়িত্ব পালন করেন। তারপর ২০০৯ সালে আবারো যুবলীগের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়ে ৩ মেয়াদে ২০১৯ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন শেষে ২০২০ সালে নির্বাচিত হন ইসলামপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।  বর্তমানে আ`লীগের যুগ্ম-সম্পাদক হিসেবে কাজ করছেন।
 নজরুল ইসলাম চৌধুরী বাবলা জানান, বিগত সময়ে নৌকার পক্ষে কাজ করতে গিয়ে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার পতন আন্দোলন করতে গিয়ে তিনি জোট সরকারের ক্যাডারদের হাতে রক্তাক্ত হওয়া ছাড়াও একাধিকবার হামলা শিকার হয়েছেন তিনি। ২০০৫ সালে বিএনপি জামায়াতের ক্যাডারেরা হামলা করে তার বাড়ী ঘর ভাঙচুর করেন। সেসময় অর্থাৎ  ২০০৫ সালে তিনি রাজনৈতিক মামলায় গ্রেফতার হয়ে ৭ মাস কারাবরণও করেন। সর্বশেষ ২০০৯ সালে বিএনপি জামায়াতের ক্যাডারেরা তার ওপর হামলা চালিয়ে ডান হাত ভেঙে দেন। বর্তমান তিনি ডান হাতে লোহার রড নিয়ে চলাফেরা করছেন। হাত পুরোপুরি সুস্থ হলেও ভেতর থেকে লোহার রড বের করা সম্ভব হয়নি। এখনো শরীরে সেই লোহার রড নিয়ে বয়ে বেড়াচ্ছেন।   
বাবলা চৌধুরী বলেন, সারাজীবন বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বুকে ধারণ করে চলেছি। নির্যাতন নিপীড়ন হামলা মামলার শিকার হয়েছি, তবুও আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেছি। দলের সাথে কখনো বেঈমানী করেনি। ৩১ বছর ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত আছি। কখনো দলের কাছে কিছু চাইনি কিন্তু এবার আসন্ন ইউপি নির্বাচনে ইসলামপুর ইউনিয়ন  থেকে চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়ে নৌকা প্রতীক চাইবো।
তিনি আরও বলেন, আমি আশাবাদী যে আসন্ন  নির্বাচনে ইসলামপুর ইউনিয়নে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক আমি নৌকা প্রতীক পাব এবং যোগ্যতার ভিত্তিতেই নির্বাচিত হব। আমি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে শাসক নয় জনগনের সেবক হয়ে কাজ করবো। ইসলামপুর ইউনিয়নকে মাদক, সন্ত্রাস ও দূর্নীতি মুক্ত করতে সকলকে সাথে নিয়ে কাজ করবো। সেসাথে রাঙ্গুনিয়ার উন্নয়নের রূপকার বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এমপি মহোদয়ের উন্নয়নের হাতকে শক্তিশালী করতে কাজ করবো। মন্ত্রী মহোদয়ের সহযোগিতায় ইসলামপুর ইউনিয়নকে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। পাশাপাশি ইসলামপুর ইউনিয়নকে একটি আলোকিত মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলবো। যেখানে থাকবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি।