৭ এপিবিএন’র ব্যতিক্রমী উদ্যোগঃ এএসআই রাহিদ মিয়া’র বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিদায় সংবর্ধনা

৭ এপিবিএন’র ব্যতিক্রমী উদ্যোগঃ এএসআই রাহিদ মিয়া’র বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিদায় সংবর্ধনা
ছবিঃ সংগৃহীত

সিলেট অফিস।। ০৮ জুলাই, বৃহস্পতিবার।। ৭ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) সিলেটের এএসআই মো. রাহিদ মিয়ার অবসরজনিত বিদায় উপলক্ষ্যে বুধবার সকাল ১১টায় সিলেট ক্যাম্পে এক বর্ণাঢ্য বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। 
৭ এপিবিএন-এর পুলিশ পরিদর্শক মোঃ মজির উদ্দিন (ক্যাম্প কমান্ডার) ্এর সভাপতিত্বে ও এসআই আমজাদ হোসেন’র সঞ্চালনায় বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন পুলিশ পরিদর্শক তসলিম উদ্দিন, এসআই ওহিদুর রহমান, এসআই ইয়াকুব আলী তালুকদার, এএসআই জাহিদ হাসান, এএসআই মৃদুল কান্তি দাস, নায়েক শরিফুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে রাহিদ মিয়াকে টুপি, পাঞ্জাবি-পাজামা জায়নামাজসহ নানা উপহার সামগ্রী প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি’র বক্তব্যে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আমিনুল ইসলাম সরকার বলেন, এএসআই মো. রাহিদ মিয়া ৩৯ বছর সততার সঙ্গে চাকরি করেছেন। তিনি একজন ভালো ও নামাজি মানুষ। আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে অন্য পুলিশ সদস্যের সঙ্গে সুসম্পর্ক রেখেছিলেন। চাকরি জীবনে বিদায় বেলায় তাকে সরকারি গাড়িটি ফুল দিয়ে সাজিয়ে তার বাড়িতে পৌঁছে দেয়া হয়েছে।
সংর্বধিত মো. রাহিদ মিয়া বলেন, চাকরি জীবনে আমি কখনও দায়িত্বে অবহেলা করিনি। সহকর্মীদের সঙ্গে আমার ভালো সময় কেটেছে। কয়েক বছর দেখে আসছি বড় বড় পুলিশ কর্মকর্তাদের ঢাকঢোল পিটিয়ে বিদায় দেয়া হয়। কিন্তু একজন সাধারণ পুলিশ সদস্যকে এভাবে বিদায় জানানো হবে তা আমি কল্পনাও করিনি। আমি ধন্য, আমি কৃতজ্ঞ। পুলিশ পরিদর্শক মো. মজির উদ্দিন (ক্যাম্প কমান্ডার), পুলিশ পরিদর্শক মো. তসলিম উদ্দিন এবং সহকর্মীদের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা পেয়ে আমি খুবই আনন্দিত। এই বিদায় আগামীতে অন্য পুলিশ সদস্যদের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে আমি মনে করি।
উল্লেখ্য, মোঃ রাহিদ মিয়া ৩৯ বছর চাকরি জীবন শেষ করে বুধবার বাড়ি ফিরেছেন। সার্ভিস থেকে বিদায় নেয়া এ পুলিশ সদস্যকে বিপুল অভ্যর্থনার মাধ্যমে পুলিশের সরকারি একটি গাড়ি ফুল দিয়ে সাজিয়ে ৭ এপিবিএন এর সদস্যরা মোটরসাইকেল মহড়া দিয়ে বিশ্বনাথের দৌলতপুর ইউনিয়নের চরচন্ডী গ্রামে তার নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেন। তার এই বিদায় যাত্রার বর্ণাঢ্য আয়োজনে বহনকারী সাজানো গাড়িটি যখন সিলেট থেকে বিশ্বনাথ উপজেলা সদর হয়ে চরচন্ডী গ্রামে এগুতে থাকে ; তখন এ নিয়ে মানুষের মধ্যে সৃষ্টি হয় নানা কৌতুহলের।
বিশ্বনাথ উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের চরচন্ডী গ্রামের মৃত মনোহর আলীর পুত্র রাহিদ মিয়া ১৯৮২ সালে পুলিশের কনস্টেবল পদে যোগদান করেন। দীর্ঘ ৩৯ বছর ২৮ শেষে গত ১ জুলাই তিনি চাকুরী জীবন শেষ করে অবসর গ্রহণ করেন। তার স্ত্রী, তিন ছেলে ও এক মেয়ে সন্তান রয়েছে। তার বড় ছেলে মামুন গ্রীস প্রবাসী, মেঝ ছেলে মো. শাহিন বাংলাদেশ পুলিশের ডিএমপিতে কর্মরত এবং ছোট ছেলে সাদেক হোসেন মুন্না উচ্চ মাধ্যমিকে ও একমাত্র মেয়ে মাছুমা আক্তার মনি ৮ম শ্রেণীতে অধ্যয়নরত।
মো. রাহিদ মিয়ার সততা নিষ্টা ও সাধারণ জীবন-যাপনে শুধু তার পরিবারই নয়, গর্বিত গ্রামবাসীও। বিদায় বেলা ব্যতিক্রমী এই আয়োজনে আনন্দিত সকলেই।
রাহিদ মিয়ার প্রতিবেশী তালেব আহমদ গোলাপ ও এলাকার সমাজসেবক বাবুল মিয়া বলেন, রাহিদ মিয়া আমাদের এলাকার গর্ব। তিনি একজন আদর্শবান মানুষ।