৮০ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ: অভিযোগ কক্সবাজার ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে!

৮০ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ: অভিযোগ কক্সবাজার ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে!
ছবি: সংগৃহীত

শাহজাহান চৌধুরী শাহীন, স্টাফ রিপোর্টর, কক্সবাজার, ১৮ জুলাই।। কক্সবাজার ট্রাক, মিনিট্রাক (পিক-আপ) শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মুফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে প্রায় ৮০ লাখ টাকা আত্মসাতের উঠেছে। ২০১৫ সাল থেকে চলতি ২০২২ সালের জুন মাস পর্যন্ত ৭ বছরে  

সংগঠনের বাৎসরিক আয়-ব্যয় হিসাব-নিকাশ না দিয়ে জেলার অভ্যন্তরে পরিচালিত বিভিন্ন শাখা হতে শ্রমিক কল্যাণের মাসিক চাঁদাসহ বিভিন্ন খাতে আয় করা এসব টাকা আত্মসাত করেন তিনি। এ ঘটনায় তাকে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে অব্যাহতি ছাড়াও আয় ব্যয়ের হিসাব নিকাশ প্রদানে দুদক আইনজীবীর মাধ্যমে লিগ্যাল নোটিশও দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। 

অভিযোগে জানা যায়, গত ২০১৫ সালে কক্সবাজার ট্রাক, মিনিট্রাক (পিক-আপ) শ্রমিক ইউনিয়নের ( রেজি: নং--চট্ট ১০৮৫) সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন মুফিজুর রহমান। শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহণ করার পর থেকে ২০২২ সালের জুন মাস পর্যন্ত ইউনিয়নের কোন আয়-ব্যয় হিসাব প্রদান করেনি তিনি। তাকে ইতোপূর্বে সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুল আমিন ও কোষাধ্যক্ষ মোঃ নাসির উদ্দিন যৌথভাবে সংগঠনের ৫ হাজার শ্রমিকদের পক্ষে আয়-ব্যয় হিসাব প্রদানের বিষয়ে একাধিকবার তাগাদা দেওয়ার পরও তিনি কোন কর্ণপাত না করে বিভিন্ন হুমকি-ভীতি প্রদর্শন করেন। এমন কি উল্টো সাধারণ সম্পাদক মুফিজুর রহমান বিজ্ঞ আদালতে বিভিন্ন ধরণের মামলা মোকদ্দমা করে সংগঠনকে মামলার গ্যাঁড়াকলে ফেলে গঠনতান্ত্রিকভাবে নির্বাচন আয়োজনে বাধাগ্রস্থ করে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে আজীবন বহাল থাকার বন্দোবস্ত করে যান।
শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুল আমিন বলেন, শ্রমিক ইউনিয়নের অধীনে জেলার অভ্যন্তরে পরিচালিত  টেকনাফ, নাপিতখালী, রামু, লিংকরোড, শামলাপুর, মুচনী, সাবরাং, ঈদগাঁও, চৌফলদন্ডী শাখা হতে শ্রমিক ইউনিয়নের রশিদের বিনিময়ে শ্রমিক কল্যাণের মাসিক চাঁদা, পরিচয় পত্র বিক্রির চাঁদা, ট্রান্সপোর্ট আয় বাবদে প্রতি মাসে আনুমানিক  ৯৫ হাজার টাকা হয়। যার পরিপ্রেক্ষিতে বাৎসরিক আয় হয় ১১ লাখ ৪০ হাজার টাকা।
নুরুল আমিন আরও বলেন, ২০১৫ সালের  জুন মাস থেকে ২০২২ সালের জুন মাস পর্যন্ত গত ৭ বছরের মোট আয় হয়েছে প্রায় ৭৯ লাখ ৮০ হাজার টাকা। এসব টাকার কোন হিসাব নিকাশ না করেই একক ভাবে আত্মসাত করেছেন সাধারণ সম্পাদক মুফিজুর রহমান।
সংগঠনের কোষাধ্যক্ষ নাসির উদ্দীন  বলেন, প্রায় ৮০ লাখ টাকা আত্মসাতের বিষয়ে এবং সংগঠনের সদস্যদের উপস্থিতিতে সাংগঠনিকভাবে একটি সভা আহ্বান করে গত ৭  বছরের বাৎসরিক আয়-ব্যয় হিসাব নিকাশ প্রদর্শন করার জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মোহাম্মদ আবদুর রহিমের মাধ্যমে “লিগ্যাল নোটিশ" দেয়া হয়েছিল। সংগঠনের আইন ও বিধি অনুযায়ী সদস্যদেরকে সংগঠনের বাৎসরিক আয়-ব্যয় হিসাব-নিকাশ প্রদর্শন করিতে বাধ্য হলেও কিন্তু তিনি তা করেননি।
কক্সবাজার ট্রাক, মিনিট্রাক (পিক-আপ) শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ফজলুল করিম সাঈদী বলেন, সাধারণ সম্পাদক মুফিজুর রহমান গত ৭ বছর ধরে সংগঠনের কোন আয় ব্যয় হিসাব নিকাশ দেয়নি। সংগঠনের সভায় সর্ব সম্মতিক্রমে মুফিজুর রহমানকে সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে কক্সবাজার ট্রাক মিনি ট্রাক পিক আপ শ্রমিক ইউনিয়নের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ( ভারপ্রাপ্ত) আহমদ কবিরকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ( ভারপ্রাপ্ত)  আহমদ কবির ব্যতিত অন্য কারো সাথে আর্থিক বা অন্য যে কোন ধরনের লেনদেন বা সংগঠনের বিষয়ে যোগাযোগ না করার জন্যও সকলকে অনুরোধ জানান তিনি।
এব্যাপারে অভিযুক্ত সাধারণ সম্পাদক মুফিজুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগের বিষয় ভিত্তিহীন বলে দাবী করেন।
তিনি উল্টো অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেন, তারা বিভিন্ন ভাবে সংগঠনের টাকা আত্মসাত করেছেন। বিভিন্ন ভাবে অনৈতিক কর্মকাণ্ড চলমান রেখেছেন। 
লিগ্যাল নোটিশ পাঠানোর বিষয়ে বলেন, আমি নোটিশ গ্রহণ করিনি, দুদক আমাকে কিভাবে নোটিশ দিতে পারে; উল্টো প্রশ্ন ছুড়েন তিনি।