অনুপ্রবেশকারীর কাছে নৌকা, তৃণমূলে ক্ষোভ!

অনুপ্রবেশকারীর কাছে নৌকা, তৃণমূলে ক্ষোভ!
ছবিঃ সংগৃহীত

স্টাফ রিপোর্টাের,ঠাকুরগাঁও।।চতুর্থ ধাপের ইউপি নির্বাচনে বিএনপি থেকে আসা এক অনুপ্রবেশকারী আওয়ামী লীগের মনোনয়নে নৌকার প্রতিক পেয়েছে। ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আখানগর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে অনুপ্রবেশকারী রোমান বাদশাকে এই মনোনয়ন দেওয়া হয়। এ নিয়ে তৃনমূল আ.লীগের নেতাকর্মীদের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সূত্রে জানা যায়,দীর্ঘ সময় ধরে রোমান বাদশা বিএনপি রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। বিএনপির রাজনীতি করার এক পর্যায়ে আখানগর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এক সময় বিএনপির সমর্থনে ইউপি নির্বাচন করেছেন তিনি। কিন্তু পরবর্তীতে আওয়ামীলীগে যোগদান করে দ্রুতই ইউনিয়নের সভাপতি বনে যান। ২০১৯ সালে ৩১ অক্টোবর বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত ১৬০০ অনুপ্রবেশকারী তালিকায় ঠাকুরগাঁও জেলার দুই নাম্বারে তার নাম প্রকাশ হয়। ২০১৬ সালে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন না পাওয়ায় তিনি বিদ্রোহী হয়ে নির্বাচন করেন। এরপরেও এবার ইউপি নির্বাচনে তিনি আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পেয়েছেন। মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকেই সেই ইউনিয়নের নেতা কর্মীরা প্রতিবাদ শুরু করেন।

এই বিষয়ে আখানগর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি আমির হোসেন জানান, রোমান আখানগর ইউনিয়ন বিএনপির প্রভাবশালী সাধারণ সম্পাদক  ছিলেন। সেসময় বিএনপির সমর্থনে দুইবার ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করেছেন। একবার চেয়ারম্যান নির্বাচত হয়ে এলাকায় রাজত্ব কায়েম করেছেন। 

কিন্তু হঠাৎ ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর রোমান আওয়ামীলীগে যোগদান করে। এরপর ২০১৯ সালে কর্মীদের আপত্তির পরও তাকে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি বানানো হয়। এবার মনোনয়ন দেয়া হলো। যেখানে বরাবর অনুপ্রবেশকারীদের মনোনয়ন দেয়ার বিষয়ে হাইকমান্ড সাবধানতা অবলম্বন করে, এবার কিভাবে তাকে নৌকা প্রতিক দেয়া হলো তা ঠিক আমার বোধগম্য নয়।

২০১৯ সালের আগে ৮ বছর যাবৎ সেই ইউনিয়নের আওয়ামীলীগ সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছে রেজাউল ইসলাম। তার বিদ্রোহী হয়েই ২০১৬ সালের ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে করেন প্রতিদ্বদ্বিতা করেন।

রেজাউল বলেন, আমি গতবার নৌকা প্রতিকে নির্বাচন করেছি। রোমান বাদশা আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী হয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। সে ও তার লোকজন আমার বিপক্ষে নির্বাচন করায় আমি হেরে গেছি। চতুর্থ ধাপে আমাদের জেলায় নৌকা মার্কায় নির্বাচিত বর্তমান চেয়ারম্যান ও গতবার হেরে যাওয়া প্রার্থীদের গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। তবে আমার ক্ষেত্রে কিভাবে ভিন্নতা আসলো ঠিক বুঝলাম না। 

তিনি বলেন গতবার কর্মীরা তার (রোমানের) বিপক্ষে কাজ করেছে, বিভিন্ন রকম ঝামেলায় জড়িয়েছে। এবার কিভাবে আবার তার নির্বাচন করা সম্ভব। 

আখানগর আওয়ামীলীগের কর্মী খাদেমুল ইসলাম বলেন, অতীতে যারা দলের জন্যে ত্যাগ স্বীকার করেছে তাদের মনোনয়ন না দিয়ে, বিএনপি থেকে দলে আসা একজনকে মনোনয়ন দেয়ায় আমরা বেশ দ্বিধাদদ্বে আছি, আমরা কার নিয়ে নির্বাচন করবো। এখনও হয়তো সম্ভব যোগ্য প্রার্থী মনোনীত করার।

এক সময় বিএনপির সাথে রোমানের যুক্ত থাকার সত্যতা নিশ্চিত করে আখানগর বিএনপির সভাপতি মজিবর বলেন, রোমান বাদশা আর আমি একসাথে রাজনীতি করেছি। সে সাধারণ সম্পাদক থাকা কালীন সময়ে আমি যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ছিলাম। পরে তিনি আওয়ামীলীগে যোগদান করেন।

পূর্বে বিএনপির রাজনীতি করার বিষয়টি স্বীকার করে রোমান বাদশা বলেন, আমি এই এলাকায় অনেক জনপ্রিয়। অনেক আগেই বিএনপির নীতি ভালো না লাগায় আমি আওয়ামীলীগে এসেছি। আমি এবার নির্বাচনে জিতে একটি মাদকমুক্ত সমৃদ্ধ ইউনিয়ন গড়তে চাই।

ঠাকুরগাঁও জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক দীপক কুমার রায় বলেন, এটা বছর খানেক আগের ঘটনা নয়। সে অনেক আগেই বিএনপি থেকে আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে এসেছে। সে অনেক জনপ্রিয় একজন মানুষ এবং ইউপি আওয়ামীলীগের সভাপতি হওয়ায় মনোনয়ন বোর্ডে পাঠানো তালিকায় তার নাম দেওয়া হয়েছে।