ইউক্রেন ও রাশিয়ার যুদ্ধের প্রভাব বাংলাদেশে

ইউক্রেন ও রাশিয়ার যুদ্ধের প্রভাব বাংলাদেশে
ছবিঃ এপি

ইউক্রেনে রাশিয়া'র আগ্রাসনে বাংলাদেশের যেসব ক্ষতির আশঙ্কা অপ্রত্যাশিত এইসব ক্ষতি বোঝার জন্য লন্ডন স্কুল অফ ইকোনমিক্সে অর্থনীতি বা রাজনীতি পড়ার দরকার নেই, ক্লাস টেন পড়লেই যথেষ্ট। 

ইতিমধ্যেই তেলের দাম বেড়ে গিয়েছে, তেলের দাম বেড়ে গেলে অর্থনৈতিক গতিপ্রবাহের সবকিছুর উপরে মন্দ প্রভাব ফেলে, দাম বেড়ে যায়, শিল্প উৎপাদনে বিরূপ প্রভাব ফেলে।

রাশিয়ান ব্যাংকগুলি প্রতিদিন প্রায় ৪৬ বিলিয়ান বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেন করে যার ৮০ শতাংশ হয় ডলারে। সুইফট এর মাধ্যমে এসব লেনদেন হয়ে থাকে।  Swift হচ্ছে- (Society for Worldwide Interbank Financial Telecommunication). ফিলিপিন্সের হ্যাকাররা বাংলাদেশ ব্যাংকের সুইফট পাসওয়ার্ড চুরি করে অনেক টাকা হাতিয়ে নিয়েছিল। রাশিয়ার সুইফট ক্লোজ করার ফলে পশ্চিমা বিশ্ব নিজেরাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে- তাদের ব্যবসা বাণিজ্যে ভাঁটা পড়বে। ফলে তারা আমদানি কমিয়ে দিতে পারে যার প্রভাব বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে পড়তে পারে।

পশ্চিম ইউরোপের ৩০% জ্বালানি আসে রাশিয়া থেকে। রাশিয়া থেকে জ্বালানি আসা বন্ধ হওয়ায় পশ্চিমা শিল্পের উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাবে ফলে তাদের উৎপাদিত সূক্ষাতিসূক্ষ ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্যের দাম বেড়ে যাবে। বাংলাদেশ চিকিৎসা যন্ত্রাংশের ক্ষেত্রে ও ইলেকট্রনিক্স সরঞ্জামাদি উৎপাদনের ক্ষেত্রে পশ্চিম ইউরোপের উপর অনেকাংশে নির্ভরশীল।

রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে বাংলাদেশে নিয়মিত আমদানি হচ্ছে তুলা, গম, ভুট্টা, সরিষা, মসুর ডাল। দেশে বছরে গমের চাহিদা সর্বোচ্চ ৭০ লাখ টনের মধ্যে ৩৫ লাখ টন আসছে রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে। এ গম প্রক্রিয়াজাত করে ময়দা, আটা, সুজিসহ বিভিন্ন উপজাত পণ্য উৎপাদন হয়ে থাকে। রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে আমদানিকৃত পণ্যের মূল্য ইতোমধ্যেই বেড়েছে। আটা, ময়দা ও দেশের বেকারি শিল্পে মূল্যবৃদ্ধিজনিত নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

ন্যাটোভুক্ত পশ্চিম ইউরোপীয় দেশগুলো তার আকাশ রাশিয়ার জন্য বন্ধ করে দেওয়ায় এবং বিপদের আশঙ্কায় এয়ারলাইন্সগুলি রাশিয়া-ইউক্রেনের আকাশ এড়িয়ে চলায় এয়ারলাইনসগুলিকে অনেক ঘুরপথে গন্তব্যে পৌঁছাতে হবে ফলে এয়ারলাইন্সের টিকিটের দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে- যাতে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা।

রাশিয়ান সস্তা জ্বালানির অভাবে ন্যাটোভুক্ত  দেশগুলোর শিল্প উৎপাদন হ্রাস পেতে পারে। ফলে ন্যাটোভুক্ত দেশগুলো মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল আমদানি কমিয়ে দিলে তার নেতিবাচক প্রভাব বাংলাদেশ রেমিটেন্সের যোগানদাতা প্রবাসীদের উপরও পড়তে পারে।

দেশের অর্থনৈতিক অস্থিরতার কারণে কিছু স্বার্থান্বেষী  টাকা পাচারের আরো তৎপর হতে পারেন।

তাই ইউক্রেন ও রাশিয়ার চলমান যুদ্ধকে সামনে রেখে আমাদের সচেতন হতে হবে। 

খান তুহিন মুসাদ্দিক, বরিশাল